জমতে শুরু করছে বৃহত্তম টেকেরহাটের কোরবানীর পশুর হাট

0

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে জমতে শুরু করেছে কোরবানীর পশুর হাট। ছবি : মোঃ ইব্রাহীম


মোঃ ইব্রাহীম, রাজৈর প্রতিনিধি, ০৭ আগস্ট (বাংলাটুডে) : টিপ টিপ বৃষ্টির মাঝে আবার রোদের ঝলকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে জমতে শুরু করেছে কোরবানীর পশুর হাট।
সরোজমিন ঘুরে দেখা যায়, আজ বুধবার বৃহত্তর টেকেরহাটে দূরদুরান্ত থেকে ট্রাক ভর্তি গরু ছাগল নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা ছোট-বড় দেশী গরু।
এছাড়াও রাজৈর বাসস্টান্ডে,বাজিতপুর,বদরপাশা ইশিবপুর,কবিরাজপুর,কাশিমপুর,পাইকপাড়ায় হাট বসতে শুরু করেছে । এবছর ভারতীয় গরু না আসায় । দেশি গরুর দাম বেশি থাকায় গরু কিনতে হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতারা । অবৈধ পথে ভারত থেকে গরু না আসায় ভালো দাম পবে মনে করছে ব্যবসায়ীরা ।
গরু ব্যবসায়ী ওবায়দুল মুন্সী ও ওলিউল্লাহ খান বলেন, গরু লালন পালন করতে খরচ অনেক বেশি। এ বছর গরুর দাম একটু কম থাকায় লোকসানের আশংকা বেশি। মোল্লার হাট থেকে আসা গরুর বেপারী চিরঞ্জন শারিয়া বলেন বাজার দর একটু নরম, লোকসানের আশংকা আছে ।
ঘোষালকান্দী থেকে কোরবানীর গরু কিনতে আসা বাবলু বলেন,সকালের তুলনায় কোরবানীর পশুর দাম অনেক বেশি। এবছর ক্রেতার তুলনায় গরু অনেক বেশি আছে কিন্তু দাম কমছে না।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে জমতে শুরু করেছে কোরবানীর পশুর হাট। ছবি: মোঃ ইব্রাহীম


নীলু হাওলাদার গরুর বেপারী বলেন, এবছর হাটের সব থেকে বড় গরুটা আমি এনেছি। ৭ লক্ষ টাকা দাম চেয়েছি,ক্রেতারা চার লক্ষ থেকে চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দাম বলেছে। গরুর বেপারী নুরু মুন্সী বলেন,আমি ১৮ টি গরু বিক্রির জন্য এনেছি, দুটো বিক্রি হয়েছে। এ বছর প্রচুর গরু উঠায়,দাম স্বাভাবিক থাকায়,ক্রেতারা ঘোরা-ফেরা করছে। ভালো মোটা-তাজা ও পছন্দের গরু কিনবে তাই হাট ঘুরে ফিরে দেখছে।
নগর কান্দা থেকে আসা লোকমান বলেন বলেন,এ প্রতি বছর বৃহত্তর এই টেকেরহাট আমরা গরু নিয়ে আসছি আমার ১০ টি গরু আনছি।এবছর দেখতেছি বাজারে ক্রেতা কম আগামী শনিবারের হাটে ক্রেতারা
পূর্ব স্বরমঙ্গল থেকে আব্দুল সালাম মিয়া জানায়,এই হাটে ৫০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামের গরু উঠছে ।ব্যবসায়ীরা এ বছর গরুর মূল্য বেশি চাওয়ার কারণে ক্রেতারা দরদাম করতে হিমশিম খাচ্ছে । আস্তে আস্তে হাটে ক্রেতা বাড়ছে আর ব্যবসায়ীরা চরা দাম চাচ্ছে।
দিগনাগর থেকে আসা সুজন হোসেন ও কবিরাজপুর থেকে আসা ক্রেতা আলাউদ্দিন বলেন,কোরবানির পশুর হাটটি অনেক বড় তাই গরু দেখতেছি । গরু দেখতেছি দাম অনেক বেশি চাইতেছে বিক্রেতারা। আগামী হাটে গরুর দাম কমবে বলে মনে করি।
হাসিল আদায়ের নির্ধারিত স্থানে রসিদ ও টাকা রাখার বাক্স নিয়ে অপেক্ষা করছেন ইজারাদারের লোকজন। গরুর পাইকার, ক্রেতা ও আগ্রহী লোকজনের উদ্দেশে মাইকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, সতর্ক করা হচ্ছে।
হাটের এজারাদার আব্দুল হক বেপাড়ি ও মন্নান হাওলাদার সাথে কথা বলে জানাযায়, ঐতিহ্যবাহী কোরবানীর পশুর হাট এটি। প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর গরু অনেক বেসী । কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গরুর হাট বসাতে ক্রেতা কম হাটে। ক্রেতা এবছর অনেক কম তাই হাট তেমন জমে উঠে নাই। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিক্রেতারা আসে । আগামী শনিবার আর একটি হাট মিলবে।
এ ব্যাপারে রাজৈর থানা ওসি মোঃ শাজাহান মিয়া বলেন,আমরা নিরাপত্তার জন্য আইন শৃংখলা বাহিনী জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও জাল টাকা ও পকেট মার ঠেকানোর জন্য সাদা পশাকে রয়েছে আমাদের গয়েন্দা শাখা কাজ করছে।

আমিন/০৭আগস্ট/২০১৯

Comments are closed.