rockland bd

খুলনা জিআরপি থানা হেফাজতে গণধর্ষণ: ওসি-এসআই প্রত্যাহার

0


ডেস্ক রিপোর্ট, খুলনা, ০৭ আগস্ট (বাংলাটুডে) :
  খুলনা জিআরপি থানা হাজতে গণধর্ষণের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি পাঠান ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ (বুধবার) তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফিরোজ আহমেদ এ তথ্য জানান।
গত শুক্রবার খুলনার জিআরপি থানার ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশে সোমবার দুপুরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরীক্ষা শেষে ওই নারীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ধর্ষণের শিকার তরুণীর দুলাভাই জানান, ২ আগস্ট শুক্রবার তার শ্যালিকা যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসেন। ট্রেন থেকে নামার পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা রেলস্টেশনে জিআরপি পুলিশের সদস্যরা তাকে মোবাইল চুরির অভিযোগে সন্দেহজনকভাবে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে (ভিকটিমের দুলাভাই) ফোন করে ওসি উসমান গনি থানায় ডেকে নিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি এত টাকা কোথায় পাবেন বললে ওসি তাকেও থানা হাজতে আটকে রাখার হুমকি দেন। একপর্যায়ে বলেন, টাকা না দিলে তার শ্যালিকাকে ফেনসিডিলসহ আরও কঠিন মামলায় চালান দেওয়া হবে। পরে রাত বেশি হলে তিনি বাড়ি ফিরে যান। এরমধ্যে গভীর রাতে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উসমান গনি পাঠান প্রথমে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর আরও চারজন পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন ৩ আগস্ট শনিবার তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় পাঠানো হয়।
সোমবার ওই নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের কুষ্টিয়া সার্কেলের সিনিয়র এএসপি ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ঘটনা তদন্ত ও সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন সাতদিনের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য দু’সদস্য হলেন, কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ ম কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।
একইদিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান মো. শফিউজ্জামান দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, ওই নারীর শরীরে কোনো ক্ষতস্থানের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কিন্তু অনেক সময় ক্ষত পাওয়া না গেলেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে। সংগৃহীত আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।-পার্সটুডে

এবিএস

Comments are closed.