rockland bd

দিনাজপুরের বীরগঞ্জের নারী কসাই জমিলা

0

মাংস কাটছেন জমিলা।

ফারাজুল ইসলাম চৌধুরী, দিনাজপুর প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) : কসাই শব্দটির সঙ্গে একজন নারীর সর্ম্পকের কথা খানিকটা অবাগ হওয়ার মত। কসাই বলতে আমোদের চোখে ভেসে উঠে একজন পুরুষের ছবি। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে কসাইয়ের তকমা গায়ে লাগিয়ে মাংশ বিক্রি করে আসছেন এই নারী। শুধুই মাংস বিক্রি করায় নয় হাটে গিয়ে গরু কেনা , জবাইকরা, মাংস কাটা, ওজন দেওয়া সহ সবরকমের কাজে করেন এই নারী কসাই।
এই নারী কসাইয়ের নাম জমিলা (৪৭)। দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার শেষ সীমান্তে ৩নং শত গ্রাম ইউনিয়নের প্রসাদ পাড়া। তার বাড়ীর পাশে ঝাড়বাড়ী বাজারে মায়ের দোয়া মাংস ভান্ডার। দোকানের ভিতরে টাংগানো ব্যানারে লেখা আছে এখানে স্বাস্থ্যসমত দেশি আড়িয়া গরুর মাংস সঠিক ওজনে পাওয়া যায়।
জমিলা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি কোনদিন স্কুলের বারান্দায় যাইনি। কিন্তু জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়া একজন নারী তিনি। তার বিয়ে দেন বাবা ১৫ বছর বয়সে। তার বাবা পান ব্যবসায়ী জাকির, বগুড়ার গোকুল উত্তমপাড়া ছ’মিল বন্দর এলাকার রফিকুল ইসলাম ভান্ডারীর সাথে তার বিয়ে হয় । তিনি পেসায় একজন কসাই ছিলেন। বিয়ের কিছুদিন ভালোই ছিল জমিলার জীবন সংসার। এক সন্তান জন্মের পর স্বামী রফিকুল ইসলাম মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মাংস ব্যবসাটিও নষ্ট হয়ে যায়।
২০০০ সালের শেষের দিকে স্বামী সন্তানসহ বাবার বাড়ী বীরগঞ্জের ঝাড়বাড়ীতে চলে আসেন তিনি। জমিলা তার বাবার সামান্য জমি বিক্রি করে স্বামী সহ আবার মাংশের দোকান চালু করেন। তার ছেলে জহুরুল নবম শ্রেনির ছাত্র। ব্যবসা ভালোই চলছিল। পরিবারের মাঝে শান্তি ফিরে এলো ঠিক সেই সময় স্বামী ব্যবসার আড়াইলাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। জমিলা তখন তিন মাসের সন্তানসম্ভবা । এই সময় জমিলার বাবা তার পাশে দাঁড়ান। লেখা পড়া বন্ধ করে তার একমাত্র ছেলে জহুরুল মায়ের পাশে দাড়াঁন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জমিলা। নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা জীবন যুদ্ধের এই নারী সত্যিই অহংকার।

আমিন/০৫আগস্ট/২০১৯

Comments are closed.