rockland bd

ভারতের সাংবিধানিক সন্ত্রাসে যেসব সুবিধা হারালো কাশ্মীর

0

এক প্রকার স্বায়ত্বশাসন হারালো ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর।


বিদেশ ডেস্ক, কাশ্মির, ০৫ আগস্ট (বাংলাটুডে) : এক প্রকার স্বায়ত্বশাসন হারালো ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর। যদিও, তা ছিল ভারতীয় সংবিধানের অস্থায়ী একটি ধারা। যা কাশ্মীরের বিধানসভা এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে সরিয়ে ফেলা যেতে পারে। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় সংবিধান কার্যত অকেজো হয়ে যায়। কারণ, ভারতীয় সংবিধানের মাত্র দু’টি ধারা কাশ্মীরে কার্যকর হত। ১ নম্বর ধারা, যা ভারতের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়। দুই ৩৭০ নম্বর ধারা, যা কাশ্মীরকে বিশেষ অধিকার দেয়। কী সেই অধিকার?
৩৭০ ধারা থাকার ফলে ভারতীয় সংসদে পাশ করানো বেশিরভাগ আইন সরাসরি কাশ্মীরে চালু করা যেত না। তার জন্য অনুমতি লাগত কাশ্মীরের রাজ্য সরকারের। শুধুমাত্র বিদেশনীতি, নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং যোগাযোগ সংক্রান্ত আইন সরাসরি চালু করা যেত। নাগরিক অধিকার, বা জমি, সম্পত্তি, মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত আইন বা সংশোধনী সরাসরি চালু করা যেত না। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, গোটা দেশে তিন তালাক আইন চালু হলেও রাজ্য সরকারের অনুমতি না মিললে তা কাশ্মীরে লাগু করা যেত না। এবার থেকে সংসদে পাশ হওয়া সব আইন কাশ্মীরে লাগু হবে।
কাশ্মীরের নাগরিক অধিকার আইন গোটা ভারতের অন্য এলাকা থেকে আলাদা হওয়ায় সেখানে পৃথক দ-বিধি ছিল। অর্থাৎ, একই অপরাধের জন্য গোটা দেশের মানুষ যা শাস্তি পেত, কাশ্মীরবাসী তা পেত না। অন্যরকম শাস্তির বিধান ছিল। অর্থাৎ, একপ্রকার একুশে আইন কার্যকর ছিল। এখন আর সেসব চলবে না। গোটা ভারতের আইন এখন কাশ্মীরেও কার্যকর হবে।
কাশ্মীরের আলাদা পতাকা ছিল। ভারতের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ব্যবহার করা হত কাশ্মীরের পৃথক পতাকাও।
৩৭০ ধারা চালু থাকার ফলে কাশ্মীরের বিধানসভার মেয়াদ ছিল ৬ বছর। গোটা ভারতের অন্য প্রান্তে তা ছিল ৫ বছর। এবার থেকে কাশ্মীরেও তা পাঁচ বছরই হবে।
কাশ্মীরে ভারতের ১৯৭৬-এর ভূমি সংস্কার আইন কার্যকর ছিল না। ফলে, ভারতের অন্য প্রান্তের মানুষ উপত্যকায় জমি কিনতে পারতেন না। সম্পত্তির মালিক ছিলেন স্থানীয়রাই। এবার থেকে গোটা দেশের মানুষ কাশ্মীরে সম্পত্তি কিনতে পারবেন।
৩৭০ ধারার ফলে কাশ্মীরের সরকারি চাকরি সংরক্ষিত থাকত স্থানীয়দের জন্যই। ৩৭০ ধারা চালু থাকার ফলে কাশ্মীরবাসী দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবিধা পেতেন। অথচ, ভারত দ্বৈত নাগরিকত্বকে স্বীকৃতি দেয় না। ধারা বাতিল হওয়ার ফলে কাশ্মীরিদের দ্বৈত নাগরিকত্বও বাতিল করা হল।
৩৫-এ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে কারা কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দার অধিকার পাবে, না নির্ধারণ করার বিশেষ অধিকার ছিল কাশ্মীর সরকারের। তবে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গেল। এবার থেকে আর বিশেষ সুবিধাভুক্ত কোনও তালিকার অস্তিত্ব থাকবে না। এককথায়, এবার আপনিও ইচ্ছা করলেই ভূস্বর্গে জমি কিনতে পারবেন। নিজের বাড়ি করে সংসার পাততে পারবেন। এমনকী, ভিনরাজ্যে বিবাহিত কাশ্মীরি মহিলারাও সম্পত্তি কেনা থেকে বঞ্চিত হবেন না। আর কাশ্মীরি প-িতদেরও এবার ‘ঘর ওয়াপসি’র স্বপ্নপূরণ হবে। ৩৫এ ধারা বাতিল হওয়ার ফলে ভারতীয় সংবিধানে জমি সংক্রান্ত যে আইন রয়েছে, তা উপত্যকায় বলবৎ হবে। সেই কারণেই জমি কেনার অনুমতি মিলবে।
সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরের সীমানা সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারত না ভারতীয় সংসদ। এখন তা সম্ভব হবে। ৩৭০ ধারার খসড়া প্রস্তুত করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গোপালস্বামী আয়াঙ্গার। ভারত সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার আগে জম্মু ও কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিংয়ের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন আয়াঙ্গার।

আমিন/০৫আগস্ট/২০১৯

Comments are closed.