rockland bd

পবায় বিএমডিএ কর্তৃক খাল খননের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

0

পবায় বিএমডিএ কর্তৃক খাল খননের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ


ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) : রাজশাহী পবা উপজেলার শাহপুর থেকে হরিয়ান বিল পর্যন্ত খালটি খনন করছে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। দরপত্র অনুযায়ী খালটি সর্বনিম্ন ০৩ ফুট থেকে ৯ ফুট পর্যন্ত খনন করা উল্লেখ আছে। তবে বাস্তবে সঠিক খাবে খনন করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। একইভাবে আরো তিনটি খাল খননের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রাষ্ট্রয়াত্ব প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
চলমান বর্ষার ড্রেনের দুই ধরের মাটি ও ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করে খাল খননের কথা বলে দাবি করছেন ঠিকাদার। ইতোমধ্যে গোছামিল দিয়ে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করে ঠিকাদাররা বিল উত্তোলন করেছেন। কিন্তু ফেলে রাখা মাটি ও ময়লা-আবর্জনা পূনরাই বর্ষাার পানিতে অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার মধ্যে খাল খননের নামে সরকারের বড় অংকের টাকা জলে ড়–বিয়ে দিচ্ছে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে লিজ পাওয়া ঠিকাদারদেরও। খাল খননের নামে ১৭ কোটি টাকার মধ্যে অধিকাংশ টাকাই লুটপাট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে এলাকাবসী।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ১২ কিলোমিটার খালটি দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি হয়ে পদ্মার সঙ্গে সম্পূর্ণ পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দরপত্রের মাধ্যমে খালটি খননের উদ্যোগ নেয় বিএমডিএ। ১০টি গ্রুপে ১০ জন ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়। যার ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া এ কাজের জন্য ২ জন ঠিকাদারের বিলও পরিশোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে চারঘাট উপজেলার মেরামতপুর-কাঁকড়ামারি আড়াই কিলোমিটার খাল, বাঘার উপজেলা ব্যাঙ্গাড়ী-চাঁদপুর ৩৮৫ মিটার খাল ও বাঘার নওটিকা-মোর্শেদপুর ১১ কিলোমিটার খাল খননেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের অভিযোগ নওটিকা-মোর্শেদপুর খালটির প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশ কাজ বন্ধই করে দিয়েছেন এলাকাবাসী। এ কারণেই খাল খননের নামে টাকা লুটপাটের ছক ছাড়া অন্য কিছুই না বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
রাজশাহী বিএমডিএ’র সদর দপ্তরের প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে সর্বমোট ২৭ কিলোমিটার খাল খননের জন্য এবার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রাায় ১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে অধিকাংশ কাজই শেষ করে বিলও প্রায় পরিশোধ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ বিল বাকি রয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা।
বিএমডিএ’র একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক ঠিকাদাররা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খাল খনেন নাম মাত্র, শুধু টাকা হরিলুটের ফন্দি। প্রকৃত লিজ পাওয়া ঠিকাদাররা অন্যদের কাছে এক কোটি টাকার কাজ অন্যত্র ৩০-৪০ লাখ টাকা নগদ অর্থ নিয়ে কাজ বিক্রয় করার অভিযোগ আছে।
প্রকল্পের পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী নাজিরুল ইসলাম গনমাধ্যমকে জানান, খাল খননের নামে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। অধিকাংশ এলাকাই পরিদর্শন করা হয়েছে কোথাও কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে খাল খননে কিছু এলাকার মাটি কাটা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের অবকাঠামো পরিবর্তন করে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমিন/০২আগস্ট/২০১৯

Comments are closed.