rockland bd

চার বছর পূর্তি; স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে ছিটমহলবাসী

0

পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত গরাতি ছিটমহল এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মিত হওয়ায় সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাচ্ছে দুই কিশোরী শিক্ষার্থী।


সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) : বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিলুপ্তির ৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ৬৮ বছরের বঞ্চিত মানুষরা ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্য রাত থেকে পায় স্বাধীনতার সুখ। ওই রাতে উভয় দেশের মধ্যকার ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছিল। মাত্র চার বছরের মাথায় পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬ টি ছিটমহলে হয়েছে অভূতপূর্ব উন্নয়ন।
ছিটমহলের ঘরে ঘরে জ্বলছে বিজলী বাতি, গড়ে উঠেছে নতুন নতুন স্কুল-কলেজ, প্রতিটি পরিবার ব্যবহার করছে স্যানিটারী ল্যাট্রিনসহ নলকূপ। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগিরা পাচ্ছে সরকারি সহায়তা। সকাল হলেই শিশুরা দল বেধে ছুটছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বেকার তরুণ তরুণীরা শিখছে কম্পিউটার। অনেকে আউট সোর্সিং এ যুক্ত হয়ে আয় ইনকামও করছে বেশ।
২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিনিময় হয় ছিটমহল। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়। দেশের মানচিত্র পায় পূর্ণতা। বাংলাদেশী ভূখন্ডে যোগ হয় ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর জমি। ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি ঘটে লাখো মানুষের। পিছিয়ে পড়া ছিটমহলবাসীদের উন্নয়নে সরকার হাতে নেয় ব্যাপক পরিকল্পনা। ছিটমহলগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকার ২শ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ের ৩৬ টি ছিটমহলের প্রায় ২০ হাজার মানুষের ঘরে ঘরে গত চার বছরে সরকারি উদ্যোগে দেয়া হয়েছে বিনামুল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ। শিক্ষা বিস্তারে তিনটি কলেজসহ ২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমিহীন ৮১টি পরিবারের জন্য তিনটি গুচ্ছগ্রাম। নির্মাণ করা হয়েছে মন্দির ও মসজিদ। কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির সহায়তা দেয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের সহায়তায় প্রতি সপ্তাহে দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা।
ইতোমধ্যে জমির মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে। নাগরিকদের দেয়া হয়েছে স্মার্ট কার্ড। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৬৮ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছে ১০২ কিলোমিটার সড়ক। গড়ে তোলা হয়েছে ডিজিটাল পোষ্ট অফিস। বয়স্ক এবং বিধবা মহিলারা পাচ্ছেন মাসিক ভাতা। বেকার ও স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ। ফলে পাল্টে গেছে বিলুপ্ত ছিটমহলের দৃশ্যপট। তারা এখন পৌছেছে বাংলাদেশের মুল স্রোতধারায়।
বিলুপ্ত ছিটমহলের নাগরিকরাও এ ব্যাপারে তাদের প্রশান্তির কথা জানিয়েছেন।
বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহলের বাটুভিটা গ্রামের আব্দুল শাহিদ (৭৮) জানান, এখন অনেক ভালো আছি। আমাদের এক বেলা খাবার জুটতনা। এই জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমি বয়স্ক ভাতা পাচ্ছি।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার সভাপতি মফিজার রহমান জানান, ছিটমহল বিনিময়ের পর চার বছরে আমাদের ছিটমহলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্র শেখ হাসিনার কাছে আমাদের আর কোন চাওয়া নেই। শুধুমাত্র এনটিআরসির শিক্ষক নিবন্ধনসহ সকল শর্ত শিথিল করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভূক্ত করা হলে আমরা ছিটমহলবাসীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চির কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ থাকব। তিনি আরও জানান, এই দাবিতে আজ বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, দীর্ঘ দিনের পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠিকে মুল ¯্রােতের সাথে অর্ন্তভূক্ত করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের সকল প্রকার উন্নয়ন কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। আগামীতে আরও উন্নয়ন হবে।

আমিন/৩০জুলাই/২০১৯

Comments are closed.