rockland bd

ওরা জানে বাঁচবে না, তাও বাঁচার স্বপ্ন দেখে

0

৮ম শ্রেনীর ছাত্রী একামিন এবং তার ছোট ভাই ৭ম শ্রেনীর ছাত্র আল-রায়হান মরন ব্যাধিতে ভুগছে।


ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) : ক্ষনিকের অতিথি দুই শিক্ষার্থী এই পৃথিবীতে আরো কয়েকদিন বাচঁতে চায়। রাজশাহী চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী একামিন এবং তার ছোট ভাই ৭ম শ্রেনীর ছাত্র আল-রায়হান মরন ব্যাধিতে ভুগছে।
চারঘাট উপজেলার পরারনপুর গ্রামের আল-মামুনের তিন সন্তান আল-ফাহাদ, মেয়ে একামনি এবং ছোট ছেলে আল-রায়হান। বিগত অনেক বছর ধরে ওই সন্তানদের বাব তার মাতা হালিমা বেগমকে তালাক দিয়ে নতুন সংসার গড়েছে। বর্তমান মাতা হালিমা বেগম ঢাকায় গ্যামেন্টস কর্মী হিসাবে কাজ করে সংসারের খরচ বহন করছে।
আজ মঙ্গলবার তাদের পারিবারিক সূত্রে মতে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই মেয়ে একামনি এবং ছোট ছেলে আল-রায়হান মরন ব্যাধিতে ভুগছে। তাদের শরীরে প্রতি মাসে (ও+) রক্ত দিতে হয় অন্যথায় তারা দূরত্ব অসুস্থ হয়ে পড়ে। এছাড়া তার বড় সন্তান চারঘাট এমএহাদী কলেজের একাদশ শ্রেনীতে পড়াশুনা করছে। পরিবারে ৫ সদস্যের খাবার খরচ, পোষাক, দৈনন্দিন চাহিদাসহ অসুস্থ দুই সন্তানের চিকিৎসা খরচের অর্থ যোগান দিতে পারছে না তার মাতা।
ডাক্তারের চিকিৎসা মতে একামনি এবং আল-রায়হানের ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা এই পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিবে। ওই দুই শিক্ষার্থী অশ্রুভেজা নয়নে জানায়, তার বেশিদিন বাচঁবে না। আল্লাহ সর্ব শক্তিমান তার ইচ্ছায় সব কিছুর সমাধান হয়। তবুও সকলের একটু সহযোগিতায় তার আরো কিছুদিন এই পৃথিবীর আনন্দ উপভোগ করতে চাই। বর্তমান প্রতিমাসের তাদের শরীরে রক্ত দেয়ার অর্থ এবং তাদের লেখাপড়ার খরচের সাহয্য কামন করছে এদেশের মানুষের কাছে।
এ বিষয়ে তাদের প্রাইভেট শিক্ষক খোরসেদ আলম বলেন, একামনি এবং ছোট ছেলে আল-রায়হানের ভবিষৎ খুব কষ্টের। সে তাদেরকে বিনাঅর্থে পাঠদান দিয়ে থাকেন। এছাড়া বই, খাতা এবং সামর্থ্যনুযায়ি কিছু নগদ অর্থ প্রদান করেন। তবে এটা যথেষ্ট নয়। সে ওই দুই শিক্ষার্থীকে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছেন।
উপজেলা নিবার্হী অফিসার নাজমুল হক জানান, একামনি এবং ছোট ছেলে আল-রায়হানের বিষয়টি হৃদয়ে দাগ টানে। তারা আমাদের সন্তান, তাদের জন্য কিছু করতে পারলে আত্মার প্রাশান্তি মিলবে। তদুপরি তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাধ্যমে উপজেলায় একটি সাহায্যের অবেদন করতে বলেছেন। সরকারীভাবে সম্ভাব্যমতে তাদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে।

আমিন/৩০জুলাই/২০১৯

Comments are closed.