rockland bd

১ বছরে ঋণ খেলাপী ১১ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে

0

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। তবুও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরছে না। উদ্যোক্তারা নতুন করে বিনিয়োগে আসছেন না। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেকেই শিল্পকারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন ব্যাংকের ঋণ বিতরণ বাড়ছে না, অন্যদিকে আগে বিতরণ হওয়া ঋণের টাকাও ফেরত পাচ্ছে না ব্যাংক। ফলে ব্যাংকিং খাতের খেলাপী ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপী ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। যা বিতরণ হওয়া ঋণের ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছর জুন প্রান্তিক শেষে খেলাপী ঋণের পরিমাণ ছিল ৫২ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। অর্থাত্ এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা বা ২১ শতাংশ বেড়ে গেছে।

গত মার্চ প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় চার হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। আগের প্রান্তিক মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট পাঁচ লাখ ৯৮ হাজার ৯০১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হয়েছিল। আর জুন শেষে এ পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ছয় লাখ ৩০ হাজার ১৯ কোটি টাকা। মার্চ প্রান্তিক শেষে খেলাপী ঋণ ছিল নয় দশমিক ৯২ শতাংশ।

মোট খেলাপী বা শ্রেণিকৃত ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে খেলাপী ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের ২৬ দশমিক ১৪ শতাংশ ঋণই খেলাপী ঋণে পরিণত হয়েছে। একইভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা ও বেসিক ব্যাংকে বিতরণ হওয়া ঋণের ২৫ দশমিক ৭৪ শতাংশই খেলাপী হয়ে গিয়েছে। এছাড়া বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকে খেলাপী ঋণ রয়েছে পাঁচ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর আট দশমিক ৩৩ শতাংশ খেলাপী ঋণ রয়েছে বিদেশি মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে।

ব্যাংকগুলোতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং সঠিক উদ্যোক্তাকে না দিয়ে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেয়ার কারণে খেলাপী ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। ব্যাংক ঋণে সুদের হার বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না।

অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংযোগের অভাবে শিল্পোদ্যোক্তারা ঋণ নিয়ে শিল্প স্থাপন করেও উত্পাদনে যেতে পারছেন না। আবার চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস বিদ্যুত্ না পাওয়ার কারণে উত্পাদন ব্যহত হচ্ছে। এসব কারণে খেলাপী ঋণ বাড়ছে।

 

Comments are closed.