rockland bd

নিজের মেয়েকে দেখতে গিয়ে গণপিটুতে প্রাণ হারান বাক-প্রতিবন্ধী সিরাজ

0

সিরাজের জানাজার সমযের ছবি; ইনসেটে নিহত সিরাজ

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা, ২২ জুলাই (বাংলাটুডে) : বাংলাদেশে গত কয়েক দিনে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুতে বেশ কয়েকজন নিরপরাধ মানুষ হতাহত হয়েছেন। এসব হতভাগ্যের একজন হলেন বাক-প্রতিবন্ধী সিরাজ। শনিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাগলাবাড়ির সামনে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন তিনি।
সিরাজের ছোট ভাই আলম রোববার গণমাধ্যমকে বলেন, “গত আট মাস আগে এক মাত্র মেয়েকে নিয়ে অন্য ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যায় স্ত্রী। এরপর থেকেই একা হয়ে যান বাক-প্রতিবন্ধী সিরাজ। বাক-প্রতিবন্ধী হওয়ায় দুঃখ বুঝানোর তেমন কেউ ছিলো না। স্ত্রীকে ভুলে গেলেও মেয়েকে ভুলতে পারেননি তিনি। তাই তাদের চলে যাওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই মেয়ের খোঁজ নিতে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন সিরাজ। এক পর্যায়ে দুই মাস আগে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আলামিননগর এলাকায় কাজ করতে গিয়ে রাস্তায় মেয়ে মিনজুকে দেখতে পান সিরাজ। সেই থেকে তিন-চারদিন পরপরই সকালে স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় মেয়েকে দেখতে যেতেন সিরাজ। এ ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুলাই সকালে মেয়েকে দেখতে যান সিরাজ। আর সেই দেখাই হয় বাবা-মেয়ের শেষ দেখা।”
আলম বলেন, আমার ভাই ছেলেধরা না। নিজের মেয়ের সঙ্গে লুকিয়ে দেখা করতে গিয়েছিলো। নিজের কাছে টাকা ছিলো না। তাই একটি মোবাইলের দোকান থেকে ১০০ টাকা ধার করে মেয়ের জন্য বিস্কুট, চিপস নিয়ে গিয়েছিলো।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, “বোবা হলেও ইশারায় সব কথা বলতে পারতো। আমাদের বুঝতে কষ্ট হলেও সবই বুঝতাম। মোখলেসের মোবাইলের দোকান থেকে টাকা নেওয়ার সময় আমি সামনে ছিলাম। তখন নিজেই হাতের ইশারা বুঝিয়েছে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছে। মেয়েকে দেখতে যাবে তাই অনেক খুশি ছিলো সিরাজ। কিন্তু, মানুষ এমন নির্মমভাবে তাকে হত্যা করতে পারলো?”
তিনি আরো বলেন, “ভিডিওতে দেখছি কী নির্মমভাবে সিরাজকে মেরেছে। মারতে মারতে মাটিতে শুয়েই ফেলেছে। মাটিতে যখন সে ছটফট করছিলো তখন কয়েকজন যুবক প্রাণটা যায় না কেনো তাই একের পর এক লাথি মেরেই চলেছে। মরে যাওয়ার পর লাশটা টেনে হেঁচড়ে প্রায় ১০০ গজ দূরে ফেলে রাখে। অবিলম্বে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি দিতে হবে।”
সিরাজের আরেক ছোটভাই কালাম বলেন, “যে মেয়েটাকে উদ্ধার করা হয়েছে সেটা ভাইয়ের মেয়ে মিনজু। থানার ওসিকে ছবি দেখিয়েছি। আমাদের মোবাইলের ছবি আর উদ্ধারকৃত মেয়ের সঙ্গে মিল রয়েছে। আমার ভাই কথা বলতে পারে না তাই সবাইকে বুঝিয়ে বলতে পারে নাই। ভাইকে না মেরে থানায় দিলেও সত্যটা বের হয়ে যেতো। আমার ভাইকে এভাবে মরতে হতো না।”
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন শাহ পারভেজ জানান, ২০ জুলাই সকালে গণপিটুনির ঘটনায় নিহত ও আহতের পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিরাজ হত্যা মামলায় ৭৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ২০০ জনকে আসামি করা হয়। আর শারমিন আহতের ঘটনায় ২০ জনকে জ্ঞাত ও ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এই শারমিনও মানসিক প্রতিবন্ধী। দুইটি মামলায় অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।-পার্সটুডে

এবিএস

Comments are closed.