rockland bd

নির্ধারিত সময় পেরোলেও শেষ হয়নি কাউনিয়ার একতা সেতুর কাজ

0

তিস্তা নদীর উপর নির্মাণাধীন একতা সেতুর কাজ শেষ হচ্ছে না এ মওসুমেও।


সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) : স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) এর বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে কাউনিয়ার মানুষের স্বপ্ন মরা তিস্তা নদীর উপর একতা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই নদী পানিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় জনদূর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাঁশের ভেলা, ডিঙ্গি নৌকা ও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে কোন রকমে লোকজন চলাচল করলেও কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করতে না পারায় এলাকাবাসী ও পথচারীদের পাঁয়ে হেটে, বাইসাইকেল ও মটর সাইকেল যোগে যাতায়াত করছে। এলাবাসীর অভিযোগ এলজিইডি বিভাগের কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও নজরদারীর অভাবে ব্রীজের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হচ্ছে না।
কাউনিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২ কোটি ২৬ লক্ষ ৩২ হাজার ৭শ’ ২৫ টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার লম্বা আরসিসি গার্ডারের সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার সময় বেঁধে দেয়া হয় ২২ জুলাই ২০১৯ ইং তারিখ। যার প্যাকেজ নং সিআইবিআরএএনডব্লিউ১২৮। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সৈকত আলমগীর জাহান জেটি নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট তারিখে শুরুও করতে পারেনি। সরকারী চাপে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বিগত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সেতুর কাজ শুরু করে শুধুমাত্র সেতুর দুই পাশে ২টি গাইড ওয়াল নির্মাণ করার পরপরই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে আবারও শুরু হয় পিলার তৈরির কাজ। তা মার্চে এসে শেষ হয়। মাঝ পথে অদৃশ্য কারণে প্রায় দেড় মাস কাজ বন্ধ থাকে।
এপ্রিলে গার্ডার নির্মাণ কাজ শুরু হলে ৩টির মধ্যে ২টির ঢালাইয়ের কাজ শেষ করতে পারলেও নদীতে পানি আসায় মাঝের গার্ডারটির ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে নদীতে পানি আসায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীদের যাতায়াতে চরম দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়। পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে পরে।
শুষ্ক মৌসুমে নদীর জেগে উঠা চরের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও নদীতে পানি আসায় এখন যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে চর পল্লিমারী, চর চতুরা, ধুমগাড়া, পাগলারহাট, খলাই ঘাট, ঠিকানারহাট, হরিণচড়া, খুনিয়াগাছসহ ১০টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষের চলাচলে অবর্ণনীয় দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নুরুল ইসলাম জানান আমি পীরগাছা উপজেলার দায়িত্বে এখানের প্রকৌশলী বদলী হওয়ায় অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। আমি বিষয়টি জেনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব কাজটি উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবো। নির্বাহী অফিসার মোছাঃ উলফৎ আরা বেগম জানান, প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে দ্রুত কাজ শেষ করার ব্যবস্থা করা হবে। ১০ গ্রামের মানুষের দাবী স্বপ্নের একতা সেতু দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার।

আমিন/১৯জুলাই/২০১৯

Comments are closed.