rockland bd

কাউনিয়ায় তিস্তার পানি বিপদসীমার উপরে, সাড়ে ৪ হাজার পরিবার পানি বন্দি

0

নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার ১৪ গ্রামের সাড়ে ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।


সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) : উজানের নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার ১৪ গ্রামের সাড়ে ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ঢুষমারা সরকারী প্রাথমিকি বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ডালিয়ার ব্যারেজের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, গত শনিবার বিকেল ৩ টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার দশমিক ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ৫২ দশমিক ৯৭ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ২৯ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার মাত্রায় প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারেজে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ভারতের গজল ডোবায় তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। উজানের এই পানির ঢল সামাল দিতে তিস্তাা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে। ফলে তিস্তা ব্যারেজের ভাটিতে বন্যা দেখা দিয়েছে।
কাউনিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আহসান হাবীব সরকার জানান, কাউনিয়ায় নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উপজেলার টেপামধুপুর, বালাপাড়া, হারাগাছ ও শহীদবাগ ইউনিয়নে তিস্তা নদীর চরাঞ্চল ও তীরবর্তী গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এসব ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী বলেন, শনিবার উজানের ঢলের গতি অনেক বেশী,নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। চরাঞ্চল গ্রামসহ নদী তীরবর্তী চর ঢুষমারা, গোপিডাঙ্গা, পাঞ্চরভাঙ্গা, আরাজি হরিশ্বর, তালুক সাহাবাজ গ্রামে প্রায় ১ হাজার বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ঢুষমারা সরকারী প্রাথমিকি বিদ্যালয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির ¯্রােতে কালিরহাট-মধৃুপুর রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। প্রায় শতাধিক পুকুর ও মাছের খামার তলিয়ে গিয়ে খামারের সব মাছ ভেসে গেছে।
টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের হরিচরন শর্মা, হয়বৎখাঁ, আজমখাঁ, বিশ্বনাথ, চরটাবু, গনাই, টাপুরচর, চরগনাই ও বিশ্বনাথ গ্রামের প্রায় ২ হাজার বসতবাড়িতে বন্যার পানি বয়ে যাচ্ছে। নদী সংলগ্ন বসবাসরত পরিবারগুলো সতর্কাবস্থায় থাকার জন্য বলা হয়েছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি বাড়ির উঠানে হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে অনেক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বন্যা কবলিত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরী করা হচ্ছে।
উপজেলার প্রায় শতাধিক পুকুর খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার অধিকারী জানায়, নদীর পানি বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষে প্রবেশ করায়ছে পানি না নামা পর্যন্ত চর ঢুষমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ রাখতে প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ উলফৎ আরা বেগম বলেন, নদীর তীরবর্তী বন্যা কবলিত গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছি। বন্যার ব্যাপারে সরকারীভাবে চাল ও শুকনো খাবারসহ সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে। বন্যা কবলিত গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে। কাউনিয়ায় এখন পর্যন্ত কোন ত্রান বিতরণ করা হয়নি।

আমিন/১৩জুলাই/২০১৯

Comments are closed.