rockland bd

বাংলাদেশ-ভারতের রাজনীতিতে এত মিল!

0

দু’টি দেশের রাজনীতিতে মিল খুঁজে পাবার ব্যপারটা বেশ কাকতলীয়। কোন কোন ক্ষেত্রে তা অসম্ভব ঘটনা বটে। কেননা ভিন্ন ভিন্ন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ভিন্ন। আবার একেক দেশের জনগণের সংস্কৃতি, রুচি ও মনন আলাদা। জীবনযাত্রার মান,আর্থ-সামাজিক পরিবেশ, রাজনীতিতে ব্যবসায়ী, মৌলবাদী ও জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রভাব,টাকার প্রভাব,রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রভাবের মতো নানান বিষয় জাতীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। তাই দু’টি দেশের রাজনীতিতে মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে দেশ দু’টি যখন ভারতীয় উপমহাদেশের দু’টি দেশ তখন সেখানে মিল খুঁজে পাওয়া খুব সম্ভব।

ভারত বিশ্বের বৃহত্তম সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ। দেশটি ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজ অবদি তার গণতান্ত্রিক স্বকীয়তা বজায় রেখেছে। একই সময় স্বাধীন হওয়া পাকিস্তান ও পাকিস্তান থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের মতো দেশটিতে গণতন্ত্র কখনও সামরিক শাসকদের দ্বারা হোঁচট খায়নি। এই অনন্য বৈশিষ্ট্য ভারতের গণতন্ত্রকে পৃথিবীর বুকে মর্যাদার আসন দিয়েছে। সেখানে আমাদের গণতন্ত্র এখনও হামাগুড়ি থেকে হাটি হাটি পা পা অবস্থায়।
গণতন্ত্রে সবচেয়ে বড় আয়োজনটির নাম নির্বাচন। আর এই নির্বাচনের মতো বৃহৎ কর্মটি পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। ভারতের সাবেক নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশন দেশটির নির্বচন কমিশনকে একটা শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়ে গেছেন। ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কোন দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগের হার নগন্য। সেখানে আমাদের নির্বাচন কমিশনের অবস্থান উল্ট পথে উল্ট রথে। নির্বাচনের কথা বাদই দিলাম, এবছর সংস্থাটি রমজান মাসে ইফতার আয়োজন করে সকলের জন্য একই আইটেমের ইফতার পরিবেশন করতে পারিনি।
গণতন্ত্রের মান ও ঐতিহ্যের কথা বাদ দিয়ে আমরা যদি দেশ দু’টির রাজনীতির সম্প্রতি ট্রেন্ড ও কর্মসূচির মধ্যে মিল খুঁজি তাহলে অবাক হব। আপনার মনে হতে পারে ভারতের নরেন্দ্র মোদি মনে হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফলো করছে। আলোচনায় মিল খুঁজতে গিয়ে আমরা বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন ও এর পূর্ব-পর ঘটনা প্রবাহের মধ্যে মিল মিলিয়ে দেখার প্রয়াস করবো।
নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকা কালে রাজ্যটির ব্যাপক উন্নয়ন করার সাথে সাথে যা অর্জন করেন, তা হলো- গুজরাট দাঙ্গার কলঙ্ক। এই কলঙ্কের তিলক মাথায় নিয়ে তার ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে উঠে আসাটা বিষ্ময়কর। এক্ষেত্রে যে ঘটনা তাকে জাতীয় জীবনে চালকের আসনে নিয়ে এসেছে, তা হলো- পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে টাটা ন্যানো গাড়ির কারখানা স্থাপনের জন্য জমি নিয়ে ঘটা ঘটনা প্রবাহ। সিঙ্গুরে অনিচ্ছুক জমিদাতাদের জমি নিয়ে আন্দোলন জমিয়ে তুলে রাজ্যটির তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা থেকে ৩৪ বছরের বাম শাসন ছুড়ে ফেলতে সক্ষম হন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সিঙ্গুরে টাটাকে তার চাহিদা মতো জমি দিতে ব্যর্থ হয়। রাজ্যটির এই দূর্বলতা মোদি লুফে নেন। গুজরাটের সানন্দে মোদি টাটাকে চাহিদা মতো জমি দেন কারখানা স্থাপনের জন্য, কোন রকম ঝামেলা ছাড়ায়। এই ঘটনায় ভারতের ব্যবসায়ী মহলে যে বার্তা ছড়িয়ে পড়ে তাহলো- মোদি কাজের লোক। নরেন্দ্র মোদি ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের প্রথম পচ্ছন্দে চলে আসেন।
আমাদের দেশের ঘটনা প্রবাহের প্রবাহ বিবেচনায় নেয়া যাক। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বিএনপির এই সরকারের প্রধান কলঙ্কের নাম হাওয়া ভবন ও হাওয়া ভবনের কমিশন বাণিজ্য। হাওয়া ভবনের পর আর যে ব্যক্তি তৎকালীন সরকারকে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের কাছে বিরক্তি প্রতিপন্ন করে তোলে সে হলো- তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। এই মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা নেওয়ার বহু কাহিনি বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে জাতীয় দৈনিক গুলোতে। মামুন বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কি পরিমান ক্ষেপিয়ে তুলেছিল তা একটা উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে। মামুনের স্কুল পড়–য়া মেয়ের শখ ছিল-প্রতিদিন নিত্য নতুন দামি গাড়িতে চড়ে স্কুলে যাওয়া। মেয়ের এই শখ মেটাতে সে ব্যবসায়ীদের বাধ্য করেছিল তার মেয়ের স্কুলে যাওয়া-আসার জন্য তাদের গাড়ি দিতে। গাড়ি দিতে বাধ্য করার ঘটনা মামুনের অন্যান্য ভয়াবহ অপকর্ম বোঝার জন্য যতেষ্ট।
সুতরাং বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা হয়ে ওঠেন বিকল্প আশ্রয়স্থল। ফলাফল-নবম জাতীয় সংসদ থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে নজীর বিহীন টানা তৃতীয় মেয়াদে তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতায়। তার বর্তমান সংসদে ৬২ শতাংশের ওপরে সাংসদ ব্যবসায়ী। মজার ব্যাপার হলো, শেখ হাসিনার সময়ে বিএনপির ব্যবসায়ীরাও সরকারী অনেক উন্নয়ন কাজ পেয়ে, কাজের মধ্যে মহাব্যস্ত আছেন। এতো গেল উৎথানের ঘটনা। এখন রাজনৈতিক কর্মসূচি মিলিয়ে দেখা যাক।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ভিশন হলো- ডিজিটাল বাংলাদেশ ও সোনার বাংলা বিনির্মাণ। ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী ইশতেহার ‘রুপকল্প-২০২১’-এ এই লক্ষ্যের কথা বলেন। অপরপক্ষে, নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ঘোষণা দেন। তার সরকারের বর্তমান ভিশন হলো- ডিজিটাল ইন্ডিয়া ও নয়া ইন্ডিয়া বিনির্মাণ। কী অদ্ভূত মিল না! সোনার বাংলার জায়গায় নয়া ইন্ডিয়া।
২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে আমাদের দেশের দেওয়ালগুলো একটা চিকাই ভরে গিয়েছিল-শেখ হাসিনার সরকার আর একবার দরকার। আর ২০১৯ সালে এবার বিজেপি জোটের প্রধান স্লোগান ছিল-ফির এক বার মোদি সরকার। নবম সংসদের পর এখন আওয়ামী লীগের প্রধান স্লোগান- শেখ হাসিনা সরকার বারবার দরকার। আপনি নিশ্চিত থাকেন সামনে বার নির্বাচনে বিজেপির মূল স্লোগান হবে- বারবার মোদি সরকার।
ডিসেম্বর’২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বর’১৮ মুক্তি পায়-‘হাসিনা:অ্যা ডটার’স টেল’ সিনেমাটি। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ প্রামান্যচিত্র। আর মে’২০১৯ সালে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের আগে এপ্রিল’১৯ ভারতে মুক্তি পায় সিনেমা-‘পিএম নরেন্দ্র মোদী’। যা নরেন্দ্র মোদির বায়োপিক। একাদশ সংসদ নির্বচনের আগে চলচ্চিত্র ও ক্রিকেট তারকাদের নিয়ে ফটোসেশন করে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। মনে হতে পারে, নির্বাচনের আগে তার দেখানো পথে মোদিও একই কাজ করেছেন । যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভায়রাল হয়।
সবাই আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে কিনা তা নিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য নিয়ে দেশে অনেক আলোচনা হচ্ছে। সাথে চলছে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের কাজ। এই কর্মসূচী দলটি শুরু করে নবম জাতীয় সংসদে সরকার গঠন করার পর জানুয়ারি’২০১০ সালে। মজার মিল হলো বিজেপি ২০১৪ সালে দলের সদস্য বাড়ানোর জন্য ‘সদস্যপদ অভিযান’ শুরু করে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ৬ জুলাই এই কর্মসূচী নরেন্দ্র মোদি আবার শুরু করেছেন, চলবে ১১ আগস্ট,২০১৯ সাল পর্যন্ত। এখানে মনে হতে পারে, দু’টি দল বোধহয় একই সময় একই কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে।
আমাদের বর্তমান সংসদকে বলা চলে শেখ হাসিনাময় সংসদ। সংসদের বাকি সাংসদের অবস্থা প্রদীপের নীচে অন্ধকারের মতো। প্রজাতন্ত্রের সরকারী কর্মচারীর বদলির মতো সামান্যতম ঘটনায়ও প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। একাদশ নির্বাচনের মতো বিতর্কীত নির্বাচনের পরও শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুনে বর্তমান সংসদ কার্যকর সংসদে পরিণত হয়েছে। অপর দিকে, ভারতের এবারের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারনায় শুধুমাত্র মোদিকে ফোকাস করে প্রচারণা চালানো হয়েছে। বিজেপির এবারের প্রচারণায় স্থানীয় নেতার ছবিই ব্যবহার করা হয়নি কোন কোন ক্ষেত্রে। পুলাওয়ামায়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় বিমান বাহিনীকে খারাপ আবহাওয়ায় সার্জিকাল স্ট্রাইক চালানোর মতো স্পর্শকাতর ও হটকারী সিদ্ধান্তটি মোদিই দিয়েছিলেন।
জোটবন্ধ নির্বাচন উপমহাদেশের নির্বাচনের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। একাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের একক সংখ্যাগরিষ্টতা দলটির জোট-মহাজোটের অন্যান্য দলের অবস্থান ম্লান করে দিয়েছে। ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্টতা দলটির জোট-এনডিএ এর বাকি দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্ব হারিয়েছে। এতো গেল সরকারী দল। বিরোধী দলের জোটগুলোর মধ্যেও অসম্ভব মিল আছে দু’টি দেশের রাজনীতিতে। আপনার মনে হতে পারে ভোটে হারার জন্য মনে হয় এরাও একে অপরকে ফলো করছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি গঠন করে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ আর সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের গঠন করা জোট হলো ‘ইউপিএ’। দু’টি জোটিই নির্বাচনের আগে নিজ নিজ দেশের জনগণকে পরিস্কার করতে পারিনি-তারা জিতলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবে। ফলে দুটি জোটেরই নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে।
নির্বাচনে হেরে রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরে যেতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচনে হারার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র তদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে আর ভারতের মর্যাদাবান প্রতিষ্ঠান-নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করেনি। রাহুল গান্ধী যথাযথ কারণ বলার সাথে সাথে শুধুমাত্র ড. কামাল হোসেনের মতো বলেননি, আমরা এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি এবং নতুন নির্বাচন দাবি করছি। পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যটিতে তার দলের হারের কারণ হিসেবে ভোট গ্রহণে ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে(ইভিএম) বিজেপির পক্ষে প্রোগ্রামিং করা ছিল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি হারের জন্য বিদেশী শক্তির হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ পোষণ করেছেন। বিরোধী দলগুলোর সন্দেহ ও তাদের হারের কারণগুলোর মধ্যে কী অসম্ভব রকম মিল-দেশ দু’টিতে, তাই না।
আসলে বাংলাদেশ-ভারতে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার দুটির মধ্যে মিলই বেশী। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিততে আওয়ামী লীগ ফোকাস করে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ কে। যা আমাদের জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি। কট্টর জাতীয়তাবাদকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে খুব সুক্ষভাবে ও সফলভাবে ব্যবহার করেছে। আগের সংসদে স্বাধীনতা বিরোধী দু’জন রাজাকার মন্ত্রী থাকায় তাদের কৌশল কাজে দিয়েছে। আর ক্ষমতায় এসে তারা দেশে ভয়ের সংস্কৃতি চালু করেছে। আপনি যদি এই সরকারের বিরুদ্ধে যান-তাহলে আপনি রাজাকার।
অপরপক্ষে, ২০১৪ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে বিজেপির প্রধান অস্ত্র ছিল ‘হিন্দুত্ববাদ’ এর মতো কট্টর মৌলবাদ। বিজেপি ভারতকে হিন্দুস্থান হিসেবে চিহ্নিত করে হিন্দুত্ববাদকে ‘নয় জাতীয়তাবাদ’ হিসেবে সফলভাবে জাতীয়তাবাদের জায়গায় প্রতিস্থাপন করেছে। বলার অপেক্ষা রাখেনা, কট্টর জাতীয়তাবাদ এখন বর্তমান বিশ্বের মানুষের প্রথম পচ্ছন্দ। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’, ‘আমেরিকা ফাস্ট’ এর মতো কট্টর জাতীয়তাবাদের স্লোগান তুলে ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। বিজেপিও ক্ষমতায় এসে ভারতকে ভয়ের রাজ্যে পরিণত করেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের(আরএসএস) ও গোরক্ষক কমিটির নির্যাতন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিজেপির বিরোধীতা করলে-আপনি মুসলমান বা তাদের দালাল অথবা ভারতীয় নান।
মজার ব্যাপার হলো, উভয় দেশের সরকারই জনগণকে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের ছবি ও উন্নত বিশ্বে উন্নত হবার স্বপ্নে জনগণকে বিভোর করে রেখেছে। বাংলাদেশে আমরা ২০৪১ সালে উন্নত বিশ্বের দেশ হব, বুড়িগঙ্গা টেমস নদীর মতো রূপবতী ও সুন্দরী হবে। ওদিকে, ভারতে মোদি পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মায়ারবাণী শুনাচ্ছেন। ভারত হবে বিশ্বের তৃতীয় অর্থনীতির দেশ। বাস্তবতা হলো, জনগণের খোলা জায়গায় মল ত্যাগ করার পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে, বিশ্বে ভারতের অবস্থান প্রথম। ভারতে না থাকলেও বাংলাদেশে ‘কম গণতন্ত্র, বেশী উন্নয়ন’ এই ডিবেট প্রচলিত আছে। আশাকরা যায়, ভবিষ্যতে আমরা তা সফলভাবে দেশটিতে রপ্তানী করতে সামর্থ হব। ভারত যেভাবে আমাদের রাজনীতি ও রাজনৈতিক কর্মসূচীকে ফলো করছে, এ আশা আমরা করতেই পারি।

Comments are closed.