rockland bd

মানুষের মূল্যবোধ জাগ্রত হলেই ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বন্ধ করা সম্ভব : রাবি অধ্যাপক

0

বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আয়োজিত মানবন্ধন।


রিজভী আহমেদ, রাবি প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) : গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার পা-ে বলেছেন, আজকাল যে ঘটনাগুলো ঘটছে তা একদিনে হয়নি। ধারাবাহিকতার মাধ্যমে ঘটনাগুলো ঘটছে। এসব তারই বহি:প্রকাশ। আমাদের মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হয়েছে, যতদিন না মূল্যবোধ পরিবর্তন হবে ততদিন এসব কার্যকলাপ বন্ধ হবে না। মেয়েরা সমাজ ও পরিবারে ভয়ে যৌন হয়রানি কথা চেপে রাখে। বিগত তিন মাসে যে ধর্ষণ হয়েছে তা দেশের সর্বকালের রেকর্ড। সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্র যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এটা আগে থেকে কার্যকর হলে এমনটা আমাদের দেখতে হতো না। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বন্ধে সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মানুষের মূল্যবোধ জাগ্রত হলেই ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বন্ধ করা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আয়োজিত মানবন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক পা-ে আরো বলেন, ধর্ষণ শুধুমাত্র সরকারের কাছে দাবি করে রোধ করার ব্যাপার নয়। সরকার, পুলিশ যে যার কাজ করবে। কিন্তু সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, আমাদের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আপনাদের মতো গণমাধ্যম কর্মী, সবাইকে সম্মিলিতভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমরা দোষীদের শাস্তি দাবি করছি। এবং সাথে সাথে এই সামাজিক আন্দোলনে সবাই শরিক হবেন। এবং মানুষের মানবিক মূল্যবোধটা জাগ্রত হবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
মানববন্ধনে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিহুর রহমান বলেন, আমরা পত্রিকা খুললেই একাধিক ধর্ষণের খবর পাই। আর এই ধর্ষণের সাথে জড়িতদের বেশির ভাগই প্রভাবশালী গোষ্ঠী। ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হবার পরেও তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। আর এ কারণেই ধর্ষকরা বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে। ধর্ষণ করেও তারা সবসময় লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যাচ্ছে। আমাদের সমাজ আজ বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে পরিণিত হয়েছে। এই বিচারহীতনার সংকৃতি এ ধরণের কাজকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আলী ইউনুস হৃদয়ের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল, নাজিয়াত হোসেন চৌধুরী, মাহাববুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক দিল আফরোজা খাতুন, মাহাবুর রহমান, আমেনা খাতুন, বিভাগের শিক্ষার্থীসহ অন্য বিভাগের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আমিন/১১জুলাই/২০১৯

Comments are closed.