rockland bd

ভারতের হারে বিশ্বকাপ ক্রিকেট থেকে উপমহাদেশেরও বিদায়

0

ধনি আউটের সাথে সাথে বিদায় ঘন্টাও বেজে উঠলো ভারতের।


খেলা ডেস্ক, ম্যানচেস্টার, ১০ জুলাই, ২০১৯ (বাংলাটুডে) : আইসিসি দ্বাদশ ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে গতবারের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ ভারতকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড।
রিজার্ভ ডে’তে গড়ানো ম্যাচে ভারতকে ১৮ রানে হারিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে দলটি। এই জয়ের ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো নিউজিল্যান্ড। ভারতের এ পরাজয়ে ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকা একমাত্র দলটিও বিদায় নিল।
জয়ের জন্য ভারতের সামনে টার্গেট ছিল মাত্র ২৪০ রান। এই টার্গেট টপকিয়ে ফাইনালে ওঠা মামুলি ব্যাপর ছিল দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের জন্য। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথমেই দিশেহারা হয় ভারতের ব্যাটসম্যানরা। তারপরও মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রবীন্দ্র জাদেজার চমৎকার জুটিতে ফাইনালের আশা দেখছিল ভারত। কিন্তু এই জুটির পতনেই ফাইনাল নিশ্চিত করে কেন উইলিয়ামসের দল। কারণ শেষ পর্যন্ত ৪৯.৩ ওভারে ২২১ রানে অলআউট হয় ভারত। আর ১৮ রানে জয় নিয়ে ফাইনালে উঠে নিউজিল্যান্ড। ম্যাট হেনরি ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।
জয়ের জন্য ভারতের সামনে ২৪০ রানের টার্গেটটা মোটেও কঠিন ছিল না। ফাইনালে ওঠার ম্যাচে ভারতের সামনে এটা ছিল অতি সহজ টার্গেটই। কিন্তু এই ছোট টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। একটি সুনামি বয়ে যায় ভারতের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের উপর। মাত্র ৫ রানেই ভারত হারায় দলের সেরা তিন ব্যাটসম্যানকে। এখানেই শেষ নয়, দলীয় ২৪ রানে আরো একটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকেই ছিটকে গিয়েছিল ফেভারিট ভারত। ব্যাট করতে নেমে দলীয় এক রানেই ভারত হারায় দলের সেরা ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মাকে। মাত্র এক রান করে ম্যাট হেনরির বলে উইকেট হারান রোহিত। দলীয় ৫ রানে ভারত হারায় পরপর দুটি উইকেট। ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নেমে বোল্ট এর বলে ১ রানেই এলবি আউট হন অধিনায়ক কোহলি। দলের রানের সংখ্যা যোগ হওয়ার আগে আরো একটি উইকেট হারায় ভারত। এবার বিদায় নেন অপর ওপেনার লোকেশ রাহুল। ম্যাট হেনরির বলে আউট হওয়ার আগে রাহুলও করেন এক রান। চতুর্থ ওভারের মধ্যে দলীয় পাঁচ রানেই তিন উইকেট হারায় দলটি। ব্যাট করতে নেমে ভালো করতে পারেনি দিনেশ কার্তিকও। দলীয় ২৪ রানে ম্যাট হেনররির তৃতীয় শিকার হয়ে ৬ রানে মাঠ ছাড়েন দীনেশ কার্তিক। ২৪ রানে প্রথম চার উইকেট হারানো দলকে এগিয়ে নিতে জুটি করেন ঋষভ পন্থ-হার্ডিক পান্ডিয়া জুটি। এই জুটির উপর ভর করে ভারত পৌঁছে যায় ৭১ রানে। পান্থের বিদায়ে ভাঙ্গে এই জুটি। স্যান্টনারের বলে আউট হওয়ার আগে পান্থ ৫৬ বলে করেন ৩২ রান। দলীয় ৯২ রানে ভারত হারায় পান্ডিয়ার উইকেট। সান্টনারের বলে আউট হওয়ার আগে পান্ডিয়াও করেন ৩২ রান। তার ইনিংটি সাজানো ছিল ৫২ বরে ২ চারে। দলীয় ৯২ রানে প্রথম ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকেই পড়ে ভারত। তবে সপ্তম উইকেট জুটিতে অভিজ্ঞ ধোনি-রবিন্দ্র জাদেজা মিলে জুটি করে ভারতকে আবার ম্যাচে ফেরায়। এই জুটিতেই ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখে ভারত। কারণ এই জুটি ভাঙ্গার আগেই ভারত পৌঁছে যায় ২০৮ রানে। এই জুটির সংগ্রহ ১১৬ রান। কিন্তু বিধ্বংসী বোল্টের কাছে জাদেজা হার মানলে ও মার্টিন গাপটিলের দুর্দান্ত থ্রোতে ধোনি রান আউট হলে আশা শেষ হয়ে যায় ভারতের। জাদেজাকে বিদায় করে ভয়ংকর হয়ে উঠা এই জুটির পতন ঘটায় টেন্ট্র বোল্ট। উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে একবার লাইফ পাওয়া জাদেজা করেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৭ রান। ৫৯ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। এই জুটির পতনে আবার ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ভারত। আর ম্যাচে দারুন ভাবে ফিরে নিউজিল্যান্ড। জাদেজার বিদায়ের পর বেশি সময় টিকতে পারেননি ধোনিও। দলীয় ২১৬ রানে ফিরতে হয় তাকে। রান আউট হয়ে ম্যাচ ছাড়ার আগে ধোনি করেন ৫০ রান। ৭২ বলে ১ চার আর এক ছক্কায় সাজানো ছিল ধোনির ইনিংসটি। ব্যাট করতে নেমে চাহাল ৫ রান করে আউট হলেও রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয় ভুবনেশ্বর কুমারকে। শেষ পর্যন্ত ৪৯.৩ ওভারে ২২১ রানে অলআউট হয় ভারত। ফলে ১৮ রানে জয় পায় নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড বোলারদের মধ্যে দারুণ বল করা ম্যাট হেনরি ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট তুলে নেন। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে। বোল্ট ও স্যান্টনার নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া লোকি ফার্গুসন ও জিমি নিশাম একটি করে উইকেট দখল করেন। এর আগে
বৃস্টিবিঘিœত ম্যাচে জয়ের জন্য ভারতকে ২৪০ রানের টার্গেট দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। গতকাল মঙ্গলবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নিয়ে নিউজিল্যান্ড শুরুতেই বিপাকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত গতকাল ৪৬.১ ওভারে নিউজিল্যান্ডের ৫ উইকেটে ২১১ রান সংগ্রহরে পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। বাকি ২৩ বল খেলা হয় আজ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান করে নিউজিল্যান্ড। গতকাল ম্যাচ শুরুর পর তৃতীয় ওভারে মাত্র এক রান তুলেই উইকেট হারায় কিউইরা। ওপেনার মার্টিন গাপটিলকে ফিরিয়ে দিয়ে ভারতীয় শিবিরকে উত্তেজনায় ভাসান দলের বিশ্বসেরা পেসার জসপ্রিত বুমরাহ।
হেনরি নিকোলাসকে নিয়ে অবশ্য প্রাথমিক ওই বিপর্যয় সামাল দেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তবে ভারতীয় বোলিং এবং কড়া ফিল্ডিংয়ের সঙ্গে শুরুতেই উইকেট হারিয়ে ফেলা নিউজিল্যান্ড দলের রানের চাকা অতিমাত্রায় স্লথ হয়ে পড়ে। এ সময় কিউইদের রানের গতি এতটাই মন্থর হয়ে পড়েছিল যে প্রথম ১০ ওভারের পাওয়ার প্লে থেকে মাত্র ২৭ রান সংগ্রহ করতে পেরেছে তারা।
এ সময় নিউজিল্যান্ড উইকেট পতন রোধ করলেও সচল করতে পারেনি রানের চাকা। ১৮ ওভার পর্যন্ত তারা আর কোন উইকেট না হারালেও ১৮.৩ ওভারে যখন জাদেজার বলে বোল্ড আউট হয়ে নিকোলাস (২৮) মাঠ ছাড়েন তখনও দলীয় সংগ্রহ ছিল মাত্র ৬৯ রান।
নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটেছে ১৩৪ রানে। চাহালের বলে অধিনায়ক উইলিয়ামসন জাদেজার হাতে ধরা পড়েন ব্যক্তিগত ৬৭ রানে। তবে ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে ৩৫টি মুল্যবান ওভার। এরপর জেমস নিশামকে সঙ্গী করে দলের হাল ধরেন আরেক অভিজ্ঞ কিউই তারকা রস টেইলর। তবে বেশী দূর এগুতে পারেনি এই জুটি। দলীয় ১৬২ রানে নিশাম (১২) যখন বিদায় নেন তখন শেষ হয়ে গেছে ৪০ ওভার।
কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে সঙ্গী করে বাকী পথ পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন টেইলর। কিছুটা হাত খুলেও খেলার চেস্টা করেছেন তিনি। তবে আবারো বাধাগ্রস্ত হতে হয় তাকে। দলীয় সংগ্রহ যখন ২০০, তখনই ভুবনেশ্বর কুমারের বলে উইকেট রক্ষক ধোনির হাতে ধরা পড়ে বিদায় নেন গ্র্যান্ডহোম (১৬)। শেষ হয়ে যায় ৪৪টি ওভার। এরপর গতকাল আর মাত্র দুই ওভার খেলতে পেরেছে কিউইরা। তখনো ৮৫ বলের মোকাবেলায় ৬৭ রান একপাশ আগলে ছিলেন টেইলর। তার সঙ্গে সদ্য জুটিবদ্ধ হয়েছিলেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান টম লাথাম। তখনই হানা দেয় বৃস্টি। ৪৬.১ ওভারে তখন নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছিল ৫ উইকেটে ২১১ রান।
এদিন বৃষ্টির প্রভাব এতটাই প্রকট হয়ে পড়েছিল যে আর খেলা সম্ভব হয়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় আজ বুধবারের রিজার্ভ দিনে। যেখানে শেষ হয়েছিল সেখান থেকেই শুরু হয় খেলা। অবশিষ্ট ৩.৫ ওভারের বোলিং থেকে নিউজিল্যান্ড যোগ করে আরো ২৮ রান। বিপরীতে তাদের হারাতে হয় আরো তিনটি উইকেট। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।
একাপাশ আগলে রাখা টেইলর দলকে ২২৫ রানে পৌছে দিয়ে ৪৭তম ওভারের শেষ বলে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে রান আউটের শিকার হলে অনেকটাই নিঃশেষ হয়ে যায় কিউইদের ব্যাটিং সামর্থ্য। বিদায়ের আগে ৯০ বলে দলের পক্ষে সর্বাধিক ৭৪ রান সংগ্রহ করেন টেইলর। শেষ দুই ওভারে নিউজিল্যান্ড ২ উইকেট হারিয়ে যোগ করে ১৪ রান। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটসম্যান লাথাম ১১ বলের মোকাবেলায় ১০ রান সংগ্রহ করে বিদায় নেন ভুবনেশ্বর কুমারের বলে। ম্যাট হেনরিও তার শিকারে পরিণত হন এক রান করে। মিচেল স্যান্টনার ৯ রানে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন। সঙ্গে ৩ বলে ৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন ট্রেন্ট বোল্ট।
ভুবনেশ্বর কুমার ৪৩ রানে ৩ উইকেট লাভ করেন। ১টি করে উইকেট নেন বুমরাহ, পান্ডেয়া, জাদেজা ও চাহাল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
নিউজিল্যান্ড–২৩৯/৮ (৫০ ওভার)
ভারত- ২২১/১০ (৪৯.৩ ওভার)
নিউজিল্যান্ড ১৮ রানে জয়ী।

আমিন/১০জুলাই/২০১৯

Comments are closed.