rockland bd

কাউনিয়ায় ৭০০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ, দামও ভালো

0

 


সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) :
কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে চরাঞ্চলে শুরু হয়েছে বাদাম কাটা মাড়াইয়ের মহাৎসব। বাম্পার ফলন ও ভাল দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
সরেজমিনে উপজেলার আরাজি হরিশ্বর, গুপিডাঙ্গা, প্রাননাথ চর, নাজিরদহ চর, পল্লীমারী চর, গদাইর চর, চর গনাই, হরিচরন শর্মা, ঢুসমারা চর, টাপুরচর, হয়রৎখাঁ, বিশ্বনাথসহ তিস্তা নদী বেষ্টিত গ্রাম সহ চর গুলো ঘুরে দেখা গেছে দিগন্ত মাঠ জুরে বাদাম আর বাদাম ক্ষেত। যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজের সমারহ। কৃষক কৃষাণিরা বাদাম তোলা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।
বিশ্বনাথ চরের বাদাম চাষি নুর মোহাম্মদ এর সাথে কথা বলে জানা গেছে, আলু তুলে চলতি মৌসুমে সে ২ দোন (২৫ শতকের দোন) জমিতে উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ও পরামর্শে বাদাম চাষ করেছে। চিলমারী হাট থেকে দেশী বীজ নিয়ে রোপন করেছে। ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত ২ দোন জমিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। সে আশা করছে প্রায় ৮ থেকে ১০ মণ বাদাম হবে।
বর্তমানে বাদাম ২ হাজার ৫শ’থেকে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রয় হচ্ছে। সকল খরচ বাদ দিয়ে কার এ মৌসুমে প্রায় ১৮ হাজার টাকা মতো লাভের আশা করছে। ধানের চেয়ে অনেক লাভ জনক ফসল বাদাম। তার দেখা দেখি প্রায়এক দেড়শ কৃষক বাদাম চাষ করেছে। কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করে কিন্তু তারা যে সময় বীজ বিতরণ করে তখন বীজ নিয়ে কোন কাজ হয় না।
সরকারিভাবে কাউনিয়া উপজেলায় ভাল বীজ মাঘ মাস থেকে শুরু করে ফাল্গুন এর ১৫ তারিখের মধ্যে সরবরাহ করতে পারলে উপজেলা আরও বাদাম ভাল হবে। বর্তমানে কাউনিয়ায় ভাল বীজ ও ঔষধ সংকট। চর গনাই গ্রামের বাদাম চাষি দুদু মিয়ার জানান সে ২০ দোন (২৫শতকে দোন) জমিতে বাদাম চাষ করেছে। সে আশা করছে প্রায় ১৬০ মন বাদাম পাবে।
সে জানায়, বাদাম ছারানো ম্যাশিন ও ভাল মানের কিটনাশক এর অভাব। সরকারী ভাবে এর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৭শ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়ে। উপজেলায় বারি চিনাবাদাম ৬ চাষ হয়েছে ৫৪৫, বারি চিনাবাদাম ৮ চাষ হয়েছে ৫০, বিনা চিনা বাদাম ৬০ সহ মাইজচর, ত্রিদানা, বাসন্তি, স্থানীয় জাতের বাদাম চাষ ৪৫ হেক্টর মোট ৭শ’ হেক্টর জমিতে। চরাঞ্চলের জমি বাদাম চাষের জন্য উপযোগি।
কম খরচে ভাল ফলন হয়। চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক দামও পাচ্ছে ভাল। অনেক বাদাম চাষি জানান তাদের কোন আধুনিক প্রশিক্ষন এর ব্যবস্থা করা হয় না। সরকারী ভাবে তারা তেমন কোন সহযোগিতা পায় না। বিশেষ করে সরকারী ভাবে উন্নত বীজের ব্যবস্থা করলে তারা ক্ষতিগ্রস্থ কম হতো।
ব্যাংক গুলো তাদের ঋণ দিতে চায় না। ঋন ছাড়াই এলাকার কৃষক নিজ চেষ্টায় চরাঞ্চলে এ বছর বাদাম চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে। কাউনিয়ার বাদাম এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী হয়। কৃষকদের প্রনদনা সহ উন্নত বীজ ও প্রশিক্ষন দিলে কাউনিয়ায় উৎপাদিত বাদাম বিদেশে রপ্তানী করা সম্ভব বলে জানিয়েছে এলাকার কৃষক।

আমিন/২২জুন/২০১৯

Comments are closed.