rockland bd

শার্শার কাশিপুর সীমান্তে মাদকের জমজমাট ব্যবসা, প্রশাসন নীরব

0


সোহেল রানা, যশোর প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) :
যশোরের উত্তর শার্শার কাশিপুর সীমান্তে স্থানীয় বিজিবি ও পুলিশের নীরব ভূমিকা ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রতিদিন চলছে মাদকের জমজমাট ব্যবসা। প্রতিনিয়ত সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উঠতি বয়সের যুবকদের এসব এলাকায় আনা গোনা দেখা যায়।
এ সীমান্ত দিয়ে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় ফেনসিডিল, ইয়াবা, মদ ও গাঁজাসহ নেশা জাতীয় দ্রব্যের ব্যবসা। আর এগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে সেন্টিকেটের মূল হোতা ও সাংবাদিক জামাল হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনা কারী শরিফুল ইসলাম শরিফ। তার নেতৃত্বে স্থানীয় বিজিবি ও পুলিশকে ম্যানেজ করে সীমান্ত দিয়ে অবাধে আসছে মরণনেশা মাদক। সীমান্ত ঘাট একচেটিয়া ভাবে দীর্ঘ ২০/২৫ বছর তার দখলে। আর এ কারণে মাদকের ভয়াল ছোবলে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে গোটা কাশিপুর এলাকা। ধবংস হচ্ছে যুবসমাজ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলাকে মাদক নির্মূল করার জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালিত করার জন্য নির্দেশ থাকলে ও এসব অঞ্চলে মাদকের ব্যবসা অজ্ঞাত কারণে বেড়েই চলেছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু দূর্ণীতি পরায়ণ কর্মকর্তা মাদক চোরাচালান, সিন্ডিকেট, ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের সাথে আঁতাত করে রাতের আঁধারে গুছিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপতৎপরতায় ঝিমিয়ে পড়ছে মাদক নির্মূলের বিশেষ অভিযান।
মাঝে মধ্যে দুই একটা অভিযানে চুনোপুটি ধরা পড়লেও মাদক সম্রাটরা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে। মাদকের ভয়াল আগ্রাসী থাবার প্রভাব পড়ছে এলাকার যুব সমাজের উপর।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কাশিপুর বিজিবি ক্যাম্প, পুলিশ, ডিবি, সিআইডি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাথে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সম্রাটদের সাথে সাপ্তাহিক ও মাসিক চুক্তি থাকার কারণে ব্যবসা করতে সহজলভ্যতা হচ্ছে। আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে তারা লক্ষ লক্ষ টাকা। এজন্য মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সম্রাটরা তাদের মাদকের রমরমা ব্যবসা নির্ভয়ে চালিয়ে যাচ্ছে ।
মাদকের নীল ছোবলে অকালে জীবন প্রদ্বীপ নিভে গেছে কত যে তারার। মাসিক আইন শৃংখলা মিটিংয়ে শার্শার কাশিপুরের নাম বারবার উঠে আসে। সেখানে উত্তর শার্শার জন প্রতিনিধিরা অভিযোগ করে বলেন, সীমান্তবর্তী কাশিপুর এখন মরণনেশা মাদকের জোঁয়ারে ভাসছে। রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, বিষাক্ত ঔষধ, ড্রাগসহ আসে না এমন কোন মাদক নেই। এতে করে ফাঁয়দা লুটছে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সহযোগীতা করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু দূর্ণীতি পরায়ণ কর্মকর্তা।
মাদক ব্যবসায়ী চক্রটি সংঘবদ্ধ হয়ে নতুন ভাবে কৌশল পরিবর্তন করে মাদকের রমরমা ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ায় সাধারণ জনগণ ও এখন আস্থা হারিয়ে ফেলছে বিজিবি, পুলিশ, ডিবি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপর থেকে। সীমান্তবর্তী কাশিপুরের অদূরে রয়েছে একটি বিজিবি ক্যাম্প। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে বিজিবি সদস্যদের রয়েছে গভীর সখ্যতা। আর এ কারনেই তাদের সহযোগিতায় মাদক ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করার সুযোগ পায়। আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে মাদক সম্রাট ও ব্যবসায়ীরা দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে এ ব্যবসা।
মাদক ব্যবসায়ীরা সেন্টিকেটের মাধ্যামে বিজিবি ও পুলিশকে বোতল প্রতি ৮ টাকা হারে দিয়ে থাকে। সীমান্তবর্তী কাশিপুর অবৈধ মাদক পাচারের একটি নির্বিগ্নে নিরাপদ রুট এবং যার কারনে মাদক সম্রাট ও গডফাদাররা বেছে নিয়েছে এই সীমান্তকে। সীমান্তের মাদক সম্রাটরা প্রতিদিন ভারতীয় ফেনসিডিল, ইয়াবা, মদ, গাঁজাসহ নেশা জাতীয় দ্রব্য এনে মজুদ রাখে একটি নির্দিষ্ট স্থানে।
সুযোগ বুঝে তারা প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পিকআপ, নসিমন, করিমন, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে করে জেলা শহরগুলোতে পৌঁছায়। এলাকা ঘুরে দেখা যায় এসব অঞ্চলে সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিদিন দুর-দুরান্ত জেলা উপজেলা থেকে বিভিন্ন দামী দামী ব্যান্ডের মোটরসাইকেল, প্রেস, সংবাদপত্র, পুলিশ, সাংবাদিক লেখা গাড়িতে এসে মাদক সেবন করতে।
এ ব্যাপারে এলাকার অভিভাবক ও সূধীমহল মাদকের আগ্রাসন থেকে এলাকার যুব সমাজকে বাঁচাতে ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসনের উপর মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এখনি যদি মাদক বন্ধ না করা যায় তাহলে ধবংস হবে দেশ। ভেঙ্গে যাবে যুবদের মেরদন্ড। সচেতন মহলের দাবী, বিজিবি ইচ্ছা করলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।কিন্তু করেনা। টাকা খেয়ে সীমান্তে মাদক আনতে ব্যবসায়ী ও মাদক সম্রাটদের সহায়তা করে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কাশিপুর কোম্পানি সদর ক্যাম্পের সুবেদার মিজানুর রহমান জানান, সীমান্ত অঞ্চল হলেও এলাকার পরিস্থিতি নিরিবিলি ও পরিবেশ অনেকটা ভাল। আমাদের কোন সদস্য যদি মাদকের সাথে জড়িত থাকে প্রমান পাওয়া যায় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সীমান্ত এলাকায় আমরা প্রতিনিয়তই অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করছি। মাদক নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি।

আমিন/১৭জুন/২০১৯

Comments are closed.