rockland bd

সৈয়দপুরে হাঁস পালনে দীনেশের দিন ফিরেছে

0


সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, নীলফামারীর সৈয়দপুর (বাংলাটুডে) :
জলাশয়ের হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে চৈ চৈ হাঁক দিচ্ছিলেন মধ্যবয়সী একজন। কি করেন? প্রশ্ন করতে উত্তর মিললো’ করি হাঁস চাষ ডিম বেচি বারো মাস। জিগনি জাতের হাঁস চাষ করে বারো মাস ডিম বিক্রি করছেন খামারি দীনেশ চন্দ্র রায় (৫৫)।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙালিপুর ইউনিয়নের চৌমহনী এলাকার ভূমিহীন দীনেশ ১৫’বছর ধরে হাঁস চাষ করে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন।
সৈয়দপুর সেনানিবাস এলাকা সংলগ্ন চৌমহনী। ওই এলাকার বাসিন্দা দীনেশ চন্দ্র রায়। ইতোপূর্বে তিনি বিভিন্ন হাটে কলা বিক্রি করতেন। পাইকারি কিনে খুচরা বেচে হালিতে ২ থেকে ৫ টাকা লাভ করতেন। বড় ছেলে তাকে এ কাজে সহযোগিতা করতেন। কলা বেচে খুব বেশি লাভ হতো না। পচনশীল হওয়ায় মাঝে-মধ্যে লোকসানও গুণতে হয়েছে তাঁকে।
সরজমিনে গেলে এসব কথা বললেন খামারি দীনেশ। হঠাৎ দীনেশের মাথায় এলো অন্য কিছু করা যায় কিনা। তখনি হাঁস চাষের বিষয়টি আসে।এটি ১৫’বছর আগের কথা। শুরু করলেন সনাতন পদ্ধতিতে হাঁস চাষ। হাঁসচাষে দীঘি, নালা ও জলাশয় খুব প্রয়োজন। কিন্তু তিনি তো ভূমিহীন। এগিয়ে এলো প্রতিবেশি। তাঁরই জলাশয় ব্যবহারের অনুমতি পেলেন। পরে অবশ্য আত্বীয়-স্বজনের কাছে ঋন নিয়ে নওগাঁ থেকে একদিনের ২০০ বাচ্চা সংগ্রহন করেন তিনি। এসব বাচ্চা লালন-পালনে তিন মাসে ডিম দেওয়া শুরু করে।
দীনেশ জানান, এসব হাঁস পালনে প্রতিদিন ডিম আসে কমপক্ষে ১৫০টি। একটি হাঁস এক নাগাড়ে তিন বছর পর্যন্ত ডিম দেয়। পরে ওই হাঁস বিক্রি করা হয় হাটে। ভোজন রশিকদের কাছে, হাঁসের মাংস অত্যন্ত প্রিয় খাবার। তাই তা হাটে তুললেই বিক্রি হয়ে যায় হাটে আনা সব কয়টি হাঁস।
দীনশের হাঁসগুলো সারাদিন জলাশয়ে সাঁতার কাটে। এসব তদারকি ও পরিচর্যা করেন দীনেশ ও তাঁর স্ত্রী মিনা রানী। হাঁসগুলো দিনে ৭০০ টাকার খাবার খায়। খাবার তালিকায় রয়েছে ঝিনুক, গুড়া চাল ও গমের খুদ, ভুট্টা, ধান ও প্রয়োজনীয় খাবার। বেলা শেষে ওই হাঁসগুলো খামারে তোলা হয়। আর খামার বলতে দীনেশের বাড়িটাকে বুঝায়।
দীনেশ জানায়, দিনে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার ডিম বিক্রি করেন তিনি। ওই টাকায় চলে তাঁর সংসার। সংসারে আছেন স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ে। বড় ছেলে এইচএসসি ফেল করে বেকার। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বাকি দুটো মেয়ে স্কুলের ছাত্রী। ওদের ভবিষ্যত ভাবনা নিয়ে তাড়া করে দীনেশকে। তিনি জানান, সরকার গরিবদের জন্য অনেক কিছু করছেন। আমার মতো গরিবকে কিছু খাস জমি দেয়া হলে পুকুর খনন করে হাঁসের চাষ করতাম। এতে আমি উপকৃত হতাম এবং এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হত।
বাঙালিপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রণোবেশ বাগচী বলেন, আমি দেখেছি দীনেশ হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে হাঁসের খামারটি গড়ে তুলেছেন। তাঁকে সরকারি-বেসরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এনামুল হক জানান, দীনেশের হাঁস খামারটি পরিদর্শন করেছি। শুন্য হাতে হাঁসের খামারটি গড়ে তুলে দীনেশ দিন ফিরিয়েছেন। এ ধরণের খামারিকে উৎসাহিত ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আমিন/১৫জুন/২০১৯

Comments are closed.