rockland bd

জামালপুরে সম্পত্তি দখল ও বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ

0

মিঠু আহমেদ, জামালপুর প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) : জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের নারিকেলী গ্রামের মোঃ ছোরহাব আলীর ভোগ দখলীয় বৈধ সম্পত্তি দীর্ঘদিন যাবত অন্যায়ভাবে জবর দখলের অপচেষ্টা চলছে। কিছু জাল কাগজ পত্র ও বাতিলকৃত একটি অবৈধ জমা খারিজ পত্রমূলে ওই জমিটি অন্যত্র বিক্রয়ের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় ভুমিদস্যু সরোয়ার জাহান মনি ও তার সহযোগীরা।
অভিযোগে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের নারিকেলী গ্রামের মোঃ ছোরহাব আলী পারপাড়া মৌজার আরএস ১৬০নং খতিয়ানভুক্ত আরএস ২৮০নং দাগের সর্বমোট ৩৯ শতাংশ জমি তিনটি সাব কবলা দলিল মূলে ক্রয় করেন। তন্মধ্যে ০৭ শতাংশ জমি নারিকেলী গ্রামের হানিফ উদ্দিনের নিকট থেকে, ০৫ শতাংশ জমি একই গ্রামের সাহিদা পারভীনের নিকট থেকে এবং একই গ্রামের মুনছের আলীর নিকট থেকে আরো ২৭ শতাংশ জমিসহ সর্বমোট ৩৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। জমিটি ১৯৮৫ সনে ক্রয়ের পর দখল হস্তান্তর নিয়ে কোন প্রকার দ্বন্দ্ব কলহ হয়নি। তন্মধ্যে ০২.৬৪ শতাংশ জমি তিনি নারিকেলী মোড় জামে মস্জিদে দান করেছেন এবং অবশিষ্ট জমিতে তিনি মার্কেট, রাইচ মিল ও বাসা বাড়ি র্নিমাণ করে ভোগ দখল পূর্বক বসবাস করে আসছেন।
অভিযোগে আরো জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার নারিকেলী গ্রামের বখাটে ভুমিদস্যু সরোয়ার জাহান মনির নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন যাবত অন্যায়ভাবে ছোরহাব আলীর ভোগ দখলীয় বৈধ সম্পত্তি দফায় দফায় জবর দখলের অপচেষ্টা করছেন। এরই একপর্র্যায়ে ভুমিদস্যু চক্রের হোতা ফরহাদ হোসেন ও সরোয়ার জাহান মনি ওই জমিটির পূর্ব মালিকের ওয়ারিশ তারা ভানুর নিকট থেকে ২০১৭ সনে ০৭.৩ শতাংশ জমি ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তারা জামালপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) কর্মকর্তার নিকট থেকে ওই জমিটির একতরফা নামজারি জমা খারিজও সম্পন্ন করে নেন। কিন্তু পরবর্তীতে জমিটির ভোগ দখলীয় প্রকৃত মালিক ছোরহাব আলী ওই একতরফা অবৈধ নামজারি জমা খারিজের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করেন। তিনি আপত্তিকালে জমিটির পুর্বের নামজারি খরিজের তথ্য প্রমাণ, হালনাগাদ খাজনা পরিশোধের দাখিলা এবং সঠিক দলিল পত্র উপস্থাপন করলে সহকারী কমিশনার (ভুমি) কর্মকর্তা ওইসব তথ্য প্রমাণ যাচাই বাছাই ও উভয় পক্ষের শুনানী শেষে প্রতিপক্ষ সরোয়ার জাহান মনি ও ফরহাদ হোসেনের পক্ষে পূর্বে প্রদত্ত মোকদ্দমাভুক্ত নালিশীর ২০/১২/২০১৮ইং তারিখের নামজারি জমা খারিজটি বাতিল করেন। পরবর্তীতে সরোয়ার জাহান মনি গংরা জামালপুর আদালতে মামলা করে জমিটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত গত ০২/০৫/২০১৯ইং তারিখে শুনানি শেষে জমিটির বৈধ দলিলপত্র যাচাই পূর্বক নিষেধাজ্ঞা জারীর আদেশটিও বাতিল করেন। এনিয়ে কয়েক দফা শালিশ বৈঠক হলে সেখানে ছোরহাব আলীর দলিলপত্রই সঠিক প্রমাণীত হয়েছে। এতদ্বসত্ত্বেও বখাটে ভুমিদস্যু সরোয়ার জাহান মনি ও ফরহাদ হোসেন গংরা ছোরহাব আলীর বৈধ সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা এবং জাল কাগজপত্র ও বাতিলকৃত জমা খারিজ পত্রমূলেই জমিটি অন্যত্র বিক্রয়ের হীন প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও স্থানীয় ওই ভুমিদস্যু চক্রটি ছোরহাব আলীকে তার ভোগদলীয় সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ এবং তার পরিবারের সদস্যদের দফায় দফায় প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করছেন।
এ ব্যাপারে সরোয়ার জাহান মনি বলেন, জমিটির পূর্ব মালিকের ওয়ারিশ তারা ভানুর নিকট থেকে তিনি ০৭.৩ শতাংশ জমি সাব কবলা দলিল মূলে ক্রয় করেছেন। ওই জমিটি ছোরহাব আলী আজও অন্যায় ভোগদখল করছেন।
জামালপুর সদর থানার ওসি মো. সালেমুজ্জান জানান, নারিকেলী গ্রামের মোঃ ছোরহাব আলীর মার্কেট ও বসতভিটার জমি নিয়ে থানায় একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তবে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত সরোয়ার জাহান মনি গংদেরকে ছোরহাব আলীর ভোগ দখলীয় জমি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আমিন/১৩জুন/২০১৯

Comments are closed.