rockland bd

দেবীগঞ্জে আশ্রয়ন প্রকল্পের সুবিধাভোগিদের বুঝিয়ে দেয়া হল গড়দিঘী পুকুর

0


সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) :
প্রায় নয় বছর পর অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করে উপকারভোগিদের হাতে বুঝে দেয়া হল পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের গড়দিঘী আদর্শ গ্রাম আশ্রয়ন প্রকল্পের অভ্যন্তরের গড়দিঘী পুকুর।
মঙ্গলবার বিকেলে দেবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চিশতী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রত্যয় হাসান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আসম নুরুজ্জামান ও সহ সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আহমেদের উপস্থিতিতে আশ্রায়ন প্রকল্পের উপকারভোগিদের নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চিশতী পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করে গড়দিঘী আদর্শ গ্রাম সমবায় সমিতির কাছে পুকুর বুঝে দেন।
এসময় তালা ভেঙ্গে বেদখল হওয়া সমিতির অফিস ঘর তাদের হাতে বুঝে দেয়া হয়। এছাড়াও অবৈধ দখদারদের টিনশেড ঘরও ভেঙ্গে দেয়া হয়। এদিকে দখল বুঝে দেয়ার আধা ঘন্টার মধ্যে আবারও মারপিট করার অভিযোগ করেছেন আশ্রায়ন প্রকল্পের সভাপতি তোজাম্মেল হক।
আশ্রয়ন প্রকল্প ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের গড়দিঘী এলাকায় ৫০ টি পরিবার নিয়ে গড়দিঘী আদর্শ গ্রাম নামে আশ্রয়ন প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ৭.৫৩ একর জমির মধ্যে ৫.৫৫ একর জমিতে একটি পুকুর রয়েছে। ২০০৮ সালে গড়দিঘি আদর্শ গ্রাম সমবায় সমিতি স্থানীয় সমবায় অফিসের নিবন্ধিন পায়। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের বাসিন্দারাই সমিতির নামে পুকুরটি রক্ষনাবেক্ষণ ও মাছ চাষ করবেন। সে অনুযায়ী ওই বছর থেকে সমিতির মাধ্যমে পুকুরে মাছ চাষ করা হচ্ছিল।
প্রকল্পের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০১১ সাল থেকে জেলা পরিষদ সদস্য হারুন অর রশিদ মিল্টনসহ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী পুকুরটি জোর করে দখলে রেখেছিল। প্রভাব খাটিয়ে তারা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে বছরে ৪ লাখ টাকার চুক্তিতে পুকুরটিতে মাছ চাষ করতে দেয়। হেলাল ৩ বছর ধরে সেখানে মাছ চাষ করে আসছে। প্রতিবছর এই ৪ লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয় প্রভাবশালীরা। গত ৯ মে এ নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ করেন প্রকল্পের বাসিন্দারা। অভিযোগ পেয়ে ওই দিনই জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন। গত ১৩ মে দেবীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিলুফা ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুকুরটি উদ্ধার করে গড়দিঘি আদর্শ গ্রাম সমবায় সমিতিকে দখল বুঝিয়ে দেন। কিন্তু দখলদাররা তা মানছিল না। গত ১ জুন দুপুরে মৎস্য ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন লোকজন নিয়ে আবারও ওই পুকুরে যান। প্রকল্পের বাসিন্দারা বাঁধা দিলে তাদের মারপিট করা হয়। এ সময় জাহান আলী (৫০), তার স্ত্রী জরিনাখাতুন (৪৫), বড় ছেলে নুরনবীসহ (১৯) ৯ জন আহত হন। পরে পুলিশের সহায়তায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গড়দিঘি আদর্শ গ্রাম আশ্রয়ন প্রকল্পের সভাপতি তোজাম্মেল হক বলেন, গত ১৩ মে দেবীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পুকুরটি আমাদের বুঝে দিলেও অবৈধ দখলদাররা আমাদের পুকুর ছেড়ে দেয়নি। তারা আবারও পুকুরে এলে আমরা বাধা দেই। এসময় তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে করে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়। এ নিয়ে আমরা থানায় মামলা দায়ের করলেও পুলিশ অদৃশ্য কারণে কোন ব্যবস্থা দিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ আমাদের পুকুর ও অফিস ঘর বুঝে দেয়ার আধা ঘন্টার মধ্যে স্থানীয় মঞ্জু ও মানিক আমাকে বেধরক মারপিট করে। বিষয়টি আমি উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে জানিয়েছি। তারা আমাকে আদালতে মামলা করতে বলেছেন। আমি আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
অভিযুক্ত জেলা পরিষদ সদস্য হারু-অর-রশিদ মিল্টন বলেন, পুকুরটি গড়দিঘী আদর্শ গ্রাম সমবায় সমিতির। তবে সমিতির সদস্যরা নিজেরা মাছ চাষ না করে আমাদের লিখিতভাবে মাছ চাষ করার জন্য দিয়েছেন। এখন আশ্রয়ন প্রকল্পে দুটি গ্রুপ হয়েছে। একপক্ষ আমাদের নামে মিথ্যে অভিযোগ করছে। দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মালেক চিশতী বলেন, আমাদের দলের কিছু লোক পুকুরটি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। তারা এখানকার লোকজনদের মারপিটও করেছে। আমরা আজ এখানে এসে গড়দিঘী আদর্শ গ্রাম সমবায় সমিতির কাছে পুকুরটি বুঝে দিলাম। এরপরও অবৈধ দখলদাররা এখানে এলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি হুশিয়ারী দেন। #

আমিন/১২জুন/২০১৯

Comments are closed.