rockland bd

শাহজাদপুরে কৃষকের ঘরে নেই ঈদ আনন্দ

0


মাসুদ মোশাররফ, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) :
এ বছর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নে ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৩২ হাজার মেট্রিক টন। সরকার কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০ টাকা দরে ৭৬৮ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হচ্ছে। বাকী ধান কৃষকেরা দালাল ফরিয়া ও হাট বাজারে সাড়ে ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে এক মণ ধান বিক্রি করে জুটছে কৃষকের জামা-লুঙ্গী। তাই এবছর শাহজাদপুরের কৃষকের ঘরে নেই ঈদ আনন্দ।
কৃষকরা বলেন, শতকরা ৯৯ জন কৃষক প্রতি মণ ধানে ৬৪০ টাকা থেকে ৫৪০ টাকা লোকসান দিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছে। ফলে ধান কাটা শ্রমিকের মজুরী, সেচ পানির বিল, বিদ্যুৎ বিল, সার ও কীটনাশকের দোকানের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে পারছেনা।
এছাড়া ঈদ খরচ যোগাতে না পেরে অনেক কৃষক বাড়িঘর-সন্তানাদী ফেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অপরদিকে মিল মালিকেরা আমন মৌসুমের চাল এখন পর্যন্ত বিক্রি করতে না পারায় ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। তাই তারা অর্থের যোগান না থাকায় নতুন ধান কিনতে পারছেন না। ফলে কৃষকেরা এক মণ ধান বিক্রি করে কিনতে পারছে না নিজের পরনের একটি জামা লুঙ্গী। তাই তারা এ বছর ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বছর শাহজাদপুরে প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন গত বছরের চেয়ে এবছর বেশী হওয়ায় ক্রেতার অভাবে কৃষকেরা ধান বিক্রয় করতে না পেরে বিপাকে পরেছে সত্য। তবে এ সমস্যা বেশিদিন থাকবে না। ঈদের পর সরকার ধান রপ্তানির নিন্তাভাবনা করছে। এ প্রক্রিয়া শুরু হলে ধানের বাজার চাঙ্গা হবে। তখন আর কৃষকদের এ সমস্যা থাকবে না।

আমিন/০৪জুন/২০১৯

Comments are closed.