rockland bd

নাগরিক নিবন্ধন: আসামের পর দিল্লি, বিহার, ঝাড়খন্ড ও মহারাষ্ট্র?

0

বিদেশ, এনডিটিভি


জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) ইস্যুতে জ্বলে ওঠা আসাম এখনো শান্ত হয়নি। রাজ্যজুড়ে চলছে আন্দোলন।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হচ্ছে, আসামে এনআরসি নিয়ে বিতর্ক কেটে গেলে বিহার, ঝাড়খন্ড ও মহারাষ্ট্রে নাগরিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু হতে পারে। আসাম ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের একটি পাইলট প্রকল্প। এই প্রকল্পের সাফল্য এবং ব্যর্থতার দিক পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার ওই তিন রাজ্যে কাজ করবে। ওই তিন রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিতাড়নের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে বিজেপি’র দিল্লি প্রধান মনোজ তিওয়ারি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে এক চিঠিতে জনিয়েছেন, দিল্লিতেও হাজার হাজার অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা এসে ভিড় করেছে।
আসামের এনআরসি তালিকা প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড খেপে যায় আসামের বিজেপি সরকার। আসামের এই রাজ্য সরকার এখন বিজেপির নিয়ন্ত্রণাধীন। ফলে মমতার ভূমিকায় ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় সরকার এবার আসাম ছাড়াও ভারতের আরও কয়েকটি রাজ্যে এনআরসির মাধ্যমে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিতে পারে, এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে সংবাদমাধ্যমে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসামে এনআরসি নিয়ে বিতর্ক কেটে গেলে বিহার, ঝাড়খন্ড ও মহারাষ্ট্রে এনআরসির মাধ্যমে নাগরিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু হতে পারে। আসাম ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের একটি পাইলট প্রকল্প। এই প্রকল্পের সাফল্য ও ব্যর্থতার দিক পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার পরবর্তী সময়ে দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যে এনআরসির মাধ্যমে নাগরিক তালিকা প্রণয়নের কাজ হাতে নিতে পারে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী বিদেশিদের চিহ্নিতকরণের উদ্যোগ নিতে পারে। ঝাড়খন্ড ও মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় বিজেপি। বিহারে বিজেপি এবং নিতীশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দলের জোট। এই তিন রাজ্যেই রয়েছে প্রচুর অনুপ্রবেশকারী। এদের বিতাড়নের জন্য তাই উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
বিহর, ঝাড়খন্ড ও মহারাষ্ট্রে ছাড়ও দিল্লিতে একই ধরনের তালিকা তৈরির শোর তুললো ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে বিজেপি’র দিল্লি প্রধান মনোজ তিওয়ারি গত বুধবার লেখা এক চিঠিতে দাবি করেছেন, দিল্লিতেও হাজার হাজার অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা এসে ভিড় করেছে।
এদের চিহ্নিত করতে একটি সিটিজেন রেজিস্টার খোলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এনডিটিভি এই খবর দিয়ে বলেছে, ২০১৯ সালের বিগ শো ডাউনকে (লোকসভার নির্বাচন) সামনে রেখে বিজেপি আসামের মতো দিল্লিতেও একই ধরনের একটি বুলন্দ আওয়াজ তুলতে চাইছে।
এনডিটিভি বলেছে, পিচ রেডি করা আছে। এখন ব্যাটিং করলেই হলো। ওই চিঠিতে তিওয়ারি বলেছেন, কথিত অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের হাতে বৈধ আধার কার্ড ও রেশন কার্ড রয়েছে। আসামের বিতর্কিত ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি লিখেছেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে এই অবৈধ বিদেশিরা যে দিল্লির আইনশৃঙ্খলার প্রতি হুমকি সেটা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সুতরাং বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে তাদের তালিকাভুক্ত করতে ভারতের অন্য কয়েকটি রাজ্যের মতো আপনিও একই ধরনের ব্যবস্থা নিন।
উল্লেখ্য, পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলছেন, বাংলাভাষী মুসলমানরা ভারতের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে দাবার ঘুঁটি হয়ে উঠেছে। আগেও কমবেশি ছিল, কিন্তু আসামের পথ দেখানোর পরে এখন সারা ভারতে বিশেষ করে বিজেপি’র মধ্যে ‘বাংলাদেশি’ নামে বাংলাভাষীদের বিষয়ে খেদাও ধরনের একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
এমনকি রাজস্থানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুলাব চন্দ্র কাটারিয়া ইতিমধ্যে তার রাজ্যে সিটিজেন লিস্ট করা শুরু করে দিয়েছেন। রাজস্থানের ঘোষিত লক্ষ্য হচ্ছে, ‘রাজ্যে যেসব বিশ্বাসঘাতক ঘোরাঘুরি করছে, তাদের যাতে সহজে শনাক্ত করা যায়।’
আসামের সিটিজেন লিস্ট একটা বিরাট বিতর্ক তৈরি করেছে। মমতা ব্যানার্জি যিনি একদা ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলে লোকসভার আসন থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
সেই মমতা এখন সিটিজেন লিস্ট দিয়ে জনগণকে বিভক্ত করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার অভিযোগ তুলছেন বিজেপি’র বিরুদ্ধে। মমতার সমালোচনা করে বিজেপি বস অমিত শাহ সাফ বলেছেন, এই অনুশীলনের লক্ষ্য হলো অবৈধ বাংলাদেশিদের ছুড়ে ফেলা। আর কেবল বিজেপি সরকারেরই সেই সাহস আছে যে ওই অনুশীলনের দাড়ি কমা শেষ না করা পর্যন্ত তারা থামবে না।
এ বিষয়ে কংগ্রেস বলেছে, তারা এজন্য উদ্বিগ্ন যে, এনআরসি ইস্যুকে এতটাই খারাপভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, সেখানে ধর্ম পরিচয়টাকেই বড় করে তোলা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেছেন, যে ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ করা হয়েছে এবং তা যেভাবে খেলিয়ে তোলা হচ্ছে তাতে কংগ্রেস শঙ্কিত।

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.