rockland bd

খরস্রোতা মানাস নদী এখন ফসলের মাঠ

0


সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি :
রংপুরের কাউনিয়ার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের খরস্রোতা মানাস নদী আজ পানি শুন্য ফসলের মাঠে পরিনত হয়েছে। এই নদীর সীমানা কতটুকু তা কেউ জানে না।
নদীতে পানি না থাকা বেকার হয়ে পরেছে শতশত মৎস্য জীবি পরিবার। সরেজমিনে মানস নদী এলাকা ঘুরে দেখা ও জানা গেছে এক সময় ছিল যখন এ নদীর বুক চিরে চলতো পাল তোলা ব্যবসায়ীদের বজরা ও ভ্রমন কারীদের সাম্পান নৌকা।
আজ সেই নদীতে পানি নেই চলছে চাষাবাদ। ভরাট হওয়া মানাস নদীতে কৃষকরা বোরো চাষ করে নদীর অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে। মানাস নদী নীলফামারী জেলার কিশোর গঞ্জ কুড়িপাড়া গ্রাম থেকে তিস্তা ও আলাইকুড়ি প্রশাখা হিসেবে মানাস নদীর উৎপত্তি হয়ে রংপুরের গঙ্গাচরার লক্ষীটারী গজঘন্টা, মর্নেয়া হয়ে কাউনিয়া উপজেলার সারাই হারাগাছ, শহীদবাগ, বালাপাড়া, কুর্শা, টেপামধুপুর হয়ে পীরগাছার অন্নদানগর,কান্দি হয়ে গাইবান্ধায় যমুনা নদীতে মিলিত হয়েছে।
কাউনিয়া উপজেলার উপর দিয়ে প্রায় ৩০ কিল মিটার দৈর্ঘ এলাকা জুরে এ নদীর অবস্থান। সাধু গ্রামের রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান মানাস নদীর বুক চিরে আগে বড় বড় পালতোলা নৌকা চলতো। ব্যবসায়ীরা বড় বড় নৌকা নিয়ে আসতো। কালের আবর্তে মানাস নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন আর নদী পথে কোন নৌকা চলাতো তুরের কথা নদীর চেহারাই হারিয়ে যাচ্ছে।
নেংরার বাজার গ্রামের মজিবর রহমান জানান এলাকার শতশত জেলে সম্প্রদায় এ নদীতে মাছ ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতো। নদীতে পানি না থাকায় তারা আজ মাছ ধরতে নাপেরে পৈত্রিক পেশা ছেরে জীবন বাঁচার তাগিদে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে।
কুটিরপাড়া গ্রামের শিক্ষক জয়নাল আবেদীন জানান, এক সময় নদীর পানি দিয়ে আমরা ইরি বোরোসহ নানা ফসল চাষ করতাম, এখন পানির অভাবে নদীর বুকে ধান চাষ করতে শ্যালো দিয়ে সেচ প্রদান করে চাষাবাদ করতে হচ্ছে।
হরিচরণ লস্কর গ্রামের হযরত আলী জানান, মানাস নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় কাউনিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়েগেছে সেই সাথে জীব বৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে। নানা প্রজাতির দেশী শুসাধু মাছ আজ বিলুপ্তের পথে।
বিনোদমাঝি গ্রামের মোহসিন আলী জানান নদী ভরাট হয়ে য্ওায়ায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারন করেছে। হারাগাছ ইউপি চেয়ারম্যান রকিবুল হাসান পলাশ জানান স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও মানস নদী খননের কোন কাজ হয় নি।
মানাস নদীর বড় বড় মাছ এলাকার মানুষের নজর কারতো। এ নদীর মাছ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে অন্য এলাকায় রফতানি হতো। মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান মানাস নদীর বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানান হয়েছে। এখন পানির অভাবে পুটি ডারকা মাছসহ দেশী নানা প্রজাতীর মাছ পাওয়া যায় না। প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীব বৈচিত্র ও নদীর অস্থিত্ব রক্ষায় ঐতিহ্যবাহী মানাস নদীটি খনন করা হলে নদী তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ সেচ সুবিধা সহ নানা কাজে সুফল পেত।

আমিন/২২মে/২০১৯

Comments are closed.