rockland bd

নেত্রকোনায় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তালাক দেয়া স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

0


খলিলুর রহমান শেখ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তালাক দেয়া স্ত্রীকে প্রতারণা করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার ধর্ষক মোস্তফা কামাল লিটন ও তার সহযোগী হুমকি দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জীবনের নিরাপত্তার দাবীতে নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভুগি। নেত্রকোনার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সচেতন নাগরিক সমাজ, সুশীল সমাজ, মহিলা পরিষদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের যৌথ উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিতা লিখিত বক্তব্যে জানান, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কুল্লাতলী গ্রামের আবদুর রাশিদের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল মোস্তফা কামাল লিটনের সাথে পারিবারিক ভাবে ২০১৪ সালে ২১ মার্চ তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর জানতে পারেন তার আগের এক স্ত্রী রয়েছে। এনিয়ে সংসারে মনোমালিন্য দেখা দিলে বিয়ের ৭ মাসের মধ্যে উভয়ের সম্মতিতে ওই বছরের ৮ অক্টোবর নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তাদের তালাকে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
পরবর্তীতে মোস্তফা কামাল আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে। গত এক বছর ধরে সাবেক স্বামী মোস্তফা কামাল নির্যাতিতা ওই নারীর সাথে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালায়। তার সাথে একদিন কথা বলার পর সে প্রায়শই নির্যাতিতাকে মোবাইলে ফোন করে দেখা করার কথা বলে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী মোস্তফা কামাল তাকে দেখা করতে বললে সে দেখা করে। মোস্তফা নির্যাতিতাকে ফুসলিয়ে জেলা শহরের কোর্ট স্টেশন রোডের চন্দন গেস্ট হাউজে নিয়ে যায়। সেখানে তার মোবাইলে গোপনে ধারণকৃত তাদের দাম্পত্য জীবনের মেলামেশার পূরনো আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে নির্যাতিতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। এরপর থেকে সে প্রায়শই ফোন করে ইন্টারনেটে সেইসব ছবি ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ধর্ষন করার চেষ্টা করে।
এসবের প্রতিবাদ করলে সে তার যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ‘কামাল কামাল’ নামক ফেইসবুক আইডি থেকে নির্যাতিতার বান্ধবী ‘নুসরাত জাহান মনি’ নামক ফেইসবুক আইডি’র মেসেঞ্জারে আপত্তিকর ছবি প্রেরণ করে। তারপর সে আমার আত্মীয় স্বজনের কাছে এসব ছবি দেখিয়ে ওই নারীর চরিত্র হণণের চেষ্টা চালায়।
গত সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে নেত্রকোনার কুরপাড় এলাকায় পপুলার হাসপাতালে এসে আবার ব্ল্যাক মেইলিং করতে চাইলে ানর্যাতিতা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চাইলে পুলিশ অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল লিটনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
নির্যাতিতা বাদী হয়ে গত সোমবার মোস্তফা কামাল লিটনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিকুল ইসলাম তদন্তকালে পুলিশের পক্ষ নিয়ে আপত্তিকর কথা বলায় এবং বিভিন্ন রকমের অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করায় নির্বাতিতা অনেকটা বিব্রত ও হতাশ হন। এরপর থেকেই নেত্রকোনা মডেল থানায় কর্মরত লিটনের সহোদর ভাই ওমর ফারুক খোকন ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টার পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে নানা ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শণ ও হুমকি দিচ্ছে। পরে গত বুধবার নির্য়াতিতা সুবিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন।
ধর্ষিতার করুণ আর্তনাত, তিনি কি রাষ্ট্রের কাছে আদৌ ন্যায় বিচার পাবন ? সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জীবনের নিরাপত্তা এবং তার সঙ্গে হয়ে যাওয়া পাশবিক যৌন নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানান। এ সময় ঐক্য ন্যাপ জেলা কমিটির সভাপতি অলিজা হাসান, জাতীয় পার্টি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মান্নান খান আরজু, উদীচী জেলা কমিটির সাভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সভাপতি অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী, সিপিবি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নলীনী কান্ত সরকার, মহিলা পরিষদ নেত্রী সৈয়দা সামছুন্নাহার বিউটি, নারী নেত্রী অনিতা নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার পি.এস.আই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার পর মোস্তফা কামাল লিটনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগকারীর সাথে আমি কোন ধরনের অশালীন আচরণ করিনি।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, নির্যাতনের অভিযোগে মোস্তফা কামাল লিটনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আমিন/১৭মে/২০১৯

Comments are closed.