rockland bd

শাহজাদপুরে গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভুয়া এনজিও উধাও

0


মাসুদ মোশাররফ, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বিসিক বাসস্ট্যান্ডের বাবলুর বাসার ভাড়াটিয়া অফিস প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা (রেজিঃ নং-ঢ-০৯০৭৮) নামের একটি ভুয়া এনজিওর ৫ কর্মকর্তা গ্রাহকের প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যও সৃষ্টি হয়েছে।
অপরদিকে আমানত হারিয়ে ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা। প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা নামের ওই ভুয়া এনজিওর ভুয়া ৫ কর্মকর্তা গত ১ মে শাহজাদপুর পৌর এলাকার বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের বিসিক বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ড্রিমল্যান্ড গাড়ির মালিক মোঃ বাবলুর বাসা ভাড়া নিয়ে ৪১তম ব্রাঞ্চ খোলে। ওই কর্মকর্তাদের চলাফেরা ও চালচলনে অতি স্মার্ট হওয়ায় সহজেই শত শত গ্রাহক জুটে যায়। তারা ঈদকে সামনে রেখে ১০/২০ লাখ টাকা লোন দেয়ার প্রলভন দেখিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সরল মানুষকে গ্রাহক তৈরী করে। ক্ষুদ্র সমিতি সৃষ্টি করে ওই সমিতির মাধ্যমে ২,৪, ৫,১০,২০ লাখ টাকা লোন দেয়ার নাম করে সঞ্চয়ী আমানত হিসেবে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার, ৪০ হাজার,২০ হাজার ১০ হাজার টাকা করে সঞ্চায় জমা নেয়।
এরপর রোববার সকালে অফিসে তাদেও নামের বরাদ্দকৃত লোনের টাকা নিয়ে যেতে বলে। তারা অফিসে এসে দেখে অফিসের দরজায় তালা ঝুলছে। অফিসে কেউ নেই। তাদেও মোবাইল ফোনও বন্ধ।
এনজিওর কর্মী বিউটি খাতুন জানান, তিনি ১৫ হাজার টাকা বেতনে গত ২ মে চাকুরিতে যোগদান করেন। তিনি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রাহক সংগ্রহ করে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা সঞ্চয় আমানত তুলে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ফয়জাল হোসেনের কাছে জমা দিয়েছেন। বিউটি খাতুন আরো বলেন, এদিন সকালে অফিসে এসে দেখি কেউ নেই সবাই লাপাত্তা। ফলে এখন আমি জনতার রোশানলে পড়েছি। কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না।
এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন, সাথী খাতুন, লুৎফর হোসেন, পলি খাতুন, সোহেল হোসেন নামের কয়েকজন সদস্য জানান, তাদের ৫ লাখ ও ১০ টাকা লোন দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে আনুপাতিক হাওে আমানত জমা নিয়েছেন। ঈদকে সামনে রেখে তারা বহু কষ্টে টাকা পয়সা জোগার করে দিয়েছেন মোটা অংকের লোন পাওয়ার আশায়। এখন তাদের মরার উপর খড়ার ঘা অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওই বাসার মালিক বাবলু হোসেন জানান, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ফয়জাল হোসেন, জাহিদ হোসেন, রেজাউল ইসলাম ১ লক্ষ্য টাকা সিকিউরিটিমানি ও ১৩ হাজার ৫০০টাকা মাসিক ভাড়া দেয়া স্বীকার করে তারা আমার বাসায় উঠেছে। রোববার এ বিষয়ে তাদেও সাথে আমার লিখিত চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তারা প্রতারণা করে পালিয়ে গেছে। ফলে তিনি নিজেই বিপাকে পড়েছেন।
তিনি বলেন, ওই এনজিও কর্মকর্তারা আমাকে তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য ৩টি মোবাইল নম্বর দিয়েছে। এ গুলি হল ০১৭৫৩-৬৪৬৭৬৬, ০১৭৮৫-৬৮৪০৬১, ০১৭১৫-১৮৬৮০৯। এ তিনটি নাম্বারই এখন আর ব্যবহার হচ্ছে না। বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি নিববন্ধনের মূল সনদপত্র আমার কাছে জমা দেয়। যা আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান বলেন,এ বিষয়ে কেউ আমার কাছে আসেনি। আমি এর কিছুই জানি না। ক্ষতিগ্রস্থরা এ বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ দিলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমিন/১৫মে/২০১৯

Comments are closed.