rockland bd

মুসলিম বাঙ্গালি বিতাড়ন; আসামের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য রাজ্যেও

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা


ভারত এখন সব সম্ভবের দেশ। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের নানা রাজ্যে মুসলমান ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন এতটাই বেড়ে গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণা প্রতিবেদনে ভারতকে সহিংস রাষ্ট্রের তালিকায় বিশ্বের চার নম্বর স্থান দিয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা নিপীড়ন তো আছেই। সামান্য গুরুর মাংস খেলে বা গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগ দিয়ে দিনে দুপুরে জ্যান্ত মানুষ মেরে ফেলা হচ্ছে।

ভারতকে ব্র্যান্ডিং করতে ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’ বলে একটি স্লোগান ব্যবহার করা হয়। ‘অবিশ্বাস্য’ ভারতে সত্যই সব অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে চরমপন্থি বিজেপি সরকার।

আসাম ভবনের বাইরে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।


ভারতের আসাম রাজ্য এখন জ্বলছে রাজনীতির উত্তেজনায়। বিজেপি সেই উত্তেজনার তাপ এখন ছড়িয়ে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লিতে।
গত সোমবার আসামে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) প্রকাশ হওয়ার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা আসামে। ওই নাগরিক নিবন্ধনে বাদ পড়ে যায় ৪০ লাখ বাঙালির নাম। তাঁদের বলা হয় ‘অনুপ্রবেশকারী’। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।
এরই মধ্যে শিলচরে গতকাল বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে যা করা হল, তা অাসমের বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে মনে করছে আনন্দবাজার পত্রিকা।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনায় মমতা আঙুল তুলেছেন কেন্দ্রের দিকে। তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে যখন দেখা করতে গিয়েছিলাম, উনি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, কাউকে হেনস্থা করা হবে না।’’ তাঁর প্রশ্ন, ‘‘যদি ওখানে সব কিছু ঠিকই থাকে তা হলে আমাদের মহিলাদেরও গায়ে হাত তোলা হল কেন? অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা।’’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অাসমের মানুষ এখন আতঙ্কিত। অাসমের নাগরিক পঞ্জিতে নাম বাদ যাওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন আমাদের প্রতিনিধিরা। কোনও সভা ছিল না। নাগরিক কনভেনশনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। অসমের অসহায় মানুষ যাতে কোনও রকম কথা বলতে না-পারেন, আসল তথ্য যাতে ধামাচাপা দেওয়া যায়, সেই জন্য চক্রান্ত করছে বিজেপি।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘কোন আইনে আমাদের সাংসদ, বিধায়কদের আটকানো হল, সেটাই ওরা বলতে পারছে না।’’ মমতার মন্তব্য, ‘‘আমাকে আইন শেখাতে আসবেন না। আইন আমরাও জানি। বিজেপি রাজনৈতিক ভাবে হতাশ, নার্ভাস। তাই তারা পেশিশক্তি প্রদর্শন করছে। কিন্তু দেশ পেশিশক্তির জন্য নয়। দেশ গণতন্ত্রের জন্য।’’
এদিকে অাসমের মতো জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) চাই বাংলাতেও— এই দাবি তুলে এ বার পথে নেমেছে বিজেপি।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় মিছিল করে এ রাজ্যে এনআরসি-র দাবি তোলা হল রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে। শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের কথা বলছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, এমনটাই দাবি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির।

এনআরসির প্রথম খসড়ায় নাম আছে কিনা জানতে এসেছেন একজন।


বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিমদের এ দেশে থাকতে দেওয়া হবে না বলে যে অবস্থান বিজেপি নিয়েছে, সে প্রসঙ্গে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি আলি হোসেন বললেন, ‘‘১০০ শতাংশ ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। বাংলাদেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-ক্রিস্টানদের ধর্মীয় সঙ্কট রয়েছে। তাঁরা শরণার্থী হিসেবে এ দেশে আসছেন। কিন্তু মুসলিমদের তো সে দেশে কোনও সঙ্কট নেই। দিনের পর দিন তাঁদের অনুপ্রবেশ মেনে নেওয়া যায় না।’’ বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার নেতার প্রশ্ন, ‘‘আমরা যদি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ গিয়ে থাকতে চাই, আমাদের কি ওঁরা আশ্রয় দেবেন? কিছুতেই দেবেন না। অনুপ্রবেশকারী বলে গ্রেফতার করে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে।’’
এদিকে আসামের নাগরিকত্ব নির্ণয়ে কোনও ব্যক্তি বা তাঁর পূর্বপুরুষ যে সত্যিই ১৯৭১ এর ২৫ মার্চের আগে থেকে আসামে বসবাস করছেন, তা প্রমাণের জন্য ১৯৫১ সালের নাগরিক পঞ্জী যেমন দেখা হচ্ছে, তেমনই ১৪-১৫টি নথি চাওয়া হচ্ছে।
আসাম চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পরে যাঁরা আসামে এসেছেন, তাঁদেরই বিদেশী বলে চিহ্নিত হওয়ার কথা। তথ্য মেলানো হয়েছে ভোটার তালিকার সঙ্গেও। পুরাণ ভোটার তালিকা ধরে তৈরি হয়েছে ‘লিগ্যাসি ডেটা’ আর বংশবৃক্ষ। নানা সময়ে একেকটি কর্তৃপক্ষের তৈরি করা ওইসব একাধিক তালিকায় সমন্বয় না থাকার অভিযোগ করছেন বহু মানুষ।
যেমন ভোটার তালিকায় কোনও ব্যক্তির নামের বানান ভুল থেকে গেছে, তাই তিনি যে তাঁর পিতা মাতার সন্তান, সেটা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
“আমার দাদুর নাম ১৯৫১ সালের নাগরিক পঞ্জীতে আছে, ১৯৬৬র ভোটার তালিকাতেও আছে। আমাদের জমি জায়গার দলিল, ব্রিটিশ সরকারকে খাজনা দেওয়ার রসিদ সব আছে। তবুও আমাদের গোটা পরিবারের কারও নাম ডিসেম্বরে প্রকাশ হওয়া আংশিক নাগরিক পঞ্জীতে নেই,” বিবিসিকে বলেন বাকসা জেলার বাসিন্দা, ছাত্র নেতা ইব্রাহিম আলি।
বিপুল সংখ্যক বিবাহিত নারীরা এই কারণে শঙ্কিত যে, তাঁদের অনেকেরই জন্ম সার্টিফিকেট নেই। স্কুলেও পড়েন নি, তাই নেই সেই নথিও।
আসলে কিছু কিছু সমস্যা জিইয়ে রাখাটাই রাজনীতি। যে কোনও রাজনৈতিক দলই নিজেদের ভোটের কথা ভেবে এক-একটা সামাজিক বিষয় নিয়ে এগোয় এক-এক ভাবে। অসমের ক্ষেত্রেও তেমনই ঘটেছে বলে মনে করেন ইব্রাহিম আলি। অভিবাসনকে এক অর্থে সমস্যা মনে করলেও, সেটাই বহু সময়ে হয়ে উঠেছে ভোট বাড়ানোর চাবিকাঠি।
যেমন এ বারের অসমের ঘটনায় এক জায়গায় শুনলাম যমজ ভাই-বোনের মধ্যে এক জনের নাম আছে ভোটার তালিকায়, আর অন্য জনের নাম নেই। এর পরে কি আর সত্যিই অন্য জনকে ভোট দিতে দেওয়া হবে না? হবে নিশ্চয়। কিন্তু কিছু দিন সঙ্কটটা কাটতে সময় লাগবে, যাতে এক দল মানুষ তত দিন ভয়ে থাকেন। ভয় বাড়লে যে আনুগত্য বাড়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। যে কোনও সরকার তো সেটাই চায়। কারও দুর্বল জায়গাটা খুঁজে, সেটাকে ব্যবহার করা। যাতে বেশি দিন ক্ষমতা ধরে রাখা যায়। এ ক্ষেত্রেও বোধ হয়, ভাবনাটা তেমন।

এনআরসির প্রতিবাদে দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের এমপিদের বিক্ষোভ।


সমস্যাটা সত্যিই শুধু অসমের নয়। বিভিন্ন রাজ্যেই রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও ত্রিপুরা তার মধ্যে অন্যতম। তবে অসমে এ নিয়ে আলোড়ন বহুদিনের। কে সেখানকার মানুষ এবং কে নন, তা বুঝে নেওয়া নেহাতই সমকালীন সঙ্কট নয়। কারণ, বাইরে থেকে এসে অসমে বসবাস করার নিদর্শন দেশভাগের অনেক আগে থেকে রয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালের জুন থেকে নভেম্বরের মধ্যে কত জন অভিবাসী এসেছেন, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পুনর্বাসন বিভাগের প্রতিনিধি পি.এন. লুথরা একটি বই প্রকাশ করেছিলেন ১৯৭৫ সালে। সেখানে স্পষ্ট দেখানো হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে ৭৫ লক্ষ এবং উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য মিলিয়ে আরও ২০ লক্ষ মানুষ সীমান্ত পার করে ঢুকেছেন ওই সময়ে।
গোটা জনসংখ্যাটা তবে ১ কোটির কাছাকাছি। মুক্তিযুদ্ধের পরে এই ১ কোটি মানুষ কি ফিরে গিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশে? এ প্রশ্নের উত্তর কোনও রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়েছে বলে তো শুনিনি। নিশ্চয় এঁরা সকলে চলে যাননি। বরং আরও অনেকে এসেছেন এ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। যাঁদের হিসেবও নেই সরকারের খাতায়। নিরন্তর অভিবাসন তো এ ভাবেই চলছে। এক দিন এঁদের কাউকে কাউকে হঠাৎ বলা হবে, ‘তোমরা বৈধ নও, তোমরা চলে যাও’। এটা হয় নাকি? এটা তো অদ্ভুত! কোনও রাষ্ট্র-রাজনীতি এ ভাবে চলতে পারে কি? কিন্তু এ ভাবেই বুঝি চলে!
বিবিসি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ভারতের আসামে নাগরিকের তালিকা থেকে চল্লিশ লক্ষ মানুষ বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সরকার এখনো কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এমন প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য কি অর্থ বহন করে? বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কি কোন কারণ আছে?
এই বিষয়ে বাংলাদেশ বরাবরই বলে এসেছে যে এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রুকসানা কিবরিয়া বলছেন, এটি বাংলাদেশের ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি বলছেন, “সেই ক্ষেত্র ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। আমাদের হাইকমিশনার বলছেন এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, কিন্তু এই চল্লিশ লাখ লোকের সবাই না হোক, কয়েক লাখ লোককেও যদি বাংলাদেশের ঢুকে যেতে বাধ্য করা হয় – তখন কি সেটি আর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় থাকবে? সেটি বাংলাদেশের ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে। ”
“এখনও তা হয়নি, কিন্তু হলে আমরা কি করবো – তার একটা কনটিনজেন্সি প্ল্যান তো থাকতে হবে।”
কিন্তু ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো জয়িতা ভট্টাচার্য বলছেন, ভারত চাইলেই এতগুলো মানুষকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে পারবে না। কারণ এর লম্বা আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।
আসলে আসামের অনেক জায়গায় মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ৷ কৃষিকাজে বাঙালি মুসলিমরা স্থানীয়দের চেয়ে অনেক উন্নত ৷ বিদ্বেষ ও অবিশ্বাসের শুরু সেই থেকে৷ যদিও বাঙালি মুসলিমদের আসামে আসা শুরু সেই ব্রিটিশ আমলে, তৎকালীন পূর্ব বাংলা থেকে৷
অন্যদিকে, আসাম থেকে লাখ লাখ মুসলিমকে তাড়িয়ে সেখানে আরও একটি মিয়ানমার তৈরি করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের প্রবীণ নেতা মাওলানা সৈয়দ আর্শাদ মাদানি। জমিয়ত নেতা মওলানা মাদানি বলেন, ‘৪০০ বছর ধরে যারা বংশপরম্পরায় আসামে বসবাস করছেন তাদের আপনি বাংলাদেশি বলে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন, তা আমরা কিছুতেই হতে দেব না।
আমি পরিষ্কার বলতে চাই, তাহলে আগুন জ্বলে যাবে। ভারতীয় নয় বলে এই মুসলিমদের যদি আপনি বের করার চেষ্টা করেন, তাহলে তো বলব আসামের বিজেপি সরকার এটাকেও আর একটা মিয়ানমার বানানোর চেষ্টা করছে।’

চূড়ান্ত খসড়া তালিকায় নাম নেই আসামের খোদ বিজেপি বিধায়কের।


আসাম সরকার বাঙালি মুসলমানদেরকে রাজ্য থেকে বের করে দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিতে চায়। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নিয়মিত ভাবে বাঙালি মুসলমানদের বের করে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে চরমপন্থি হিন্দুরা।
সাম্প্রদায়িক আগ্রাসনের শিকার হয়ে আসামে মুসলমানদের হতাহতের ঘটনা বহু। ‘প্রতিকূল পরিস্থিতির’ কারণে যেসব বাংলাদেশি আসামে অবৈধভাবে এসেছেন, তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা অনেক আগেই দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা তরুণ গগৈ।
অন্যদিকে আসামের ৪০ লাখ মুসলমানকে অবৈধ নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করাকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে সেখানকার কমিউনিটি নেতারা তৎপর আছেন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নাগরিক নিবন্ধনের সময় বেঁধে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১১ সালে আসামের আদমশুমারিতে দেখা যায়, রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ লোক মুসলিম। এত বড় জনগোষ্ঠীকে আসামে ‘বাংলাদেশী খেদাও আন্দোলন’ আর মাধ্যমে বের করে দিতে চায় বিজেপি ও সমমনারা।
এটা দাবি করা অসঙ্গত হবে যে, আসামে কোনও বাংলাদেশি নেই। আসাম একসময় বাংলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেখানকার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের যোগাযোগ প্রাচীন ও অত্যন্ত নিবিড়। ফলে ১৯৭১ সালে নির্যাতিত ও আতঙ্কিত বাংলাদেশিরা অনেকেই আসাম পাড়ি দিয়েছিলেন।
কিন্তু ভারতে বিগত কয়েক বছরের ব্যবধানে ধর্মীয় উগ্রবাদ চরম রূপ ধারণ করছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এটা ঘটছে। ফলে আসামে থাকা বাংলাদেশিরা বৈধ না অবৈধ, তা নির্ণয় করা হচ্ছে ধর্মীয় পরিচয় দেখে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা আসামের সব মুসলিমদেরই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে সেখানকার মুসলিম অধ্যুষিত বরপেটা, দুবরি, করিমগঞ্জ, কাছাড় জেলার বাসিন্দারা। পশ্চিমবঙ্গেও অবৈধ বাংলাদেশি নাম দিয়ে মুসলিমবিরোধী প্রচারণা চলছে।
আসামের মুসলিমরা অবশ্য কেবলই আতঙ্কগ্রস্ত নন, তারা আন্দোলনও করছেন। তাদের দাবি, ১৯৭১ সালের আগে থেকে আসামে বাস করে এলেও নিরক্ষরতা ও অসচেতনতার জন্য তাদের পিতৃপুরুষরা অনেকেই কোনও কাগজপত্র তৈরি করেননি। তাই এখন তারা বিপদের মুখে আছেন।
অবশ্য আসামের বাংলাদেশি খেদাও আন্দোলনে কেবল বিজেপি নয়, জড়িয়ে আছে কংগ্রেসের নামও। ১৯৮৫ সালে প্রয়াত রাজীব গান্ধীর কংগ্রেস সরকারের আমলে ‘আসাম চুক্তি’ সই হয় কেন্দ্রীয় সরকার, আসাম সরকার, সর্ব আসাম ছাত্র ইউনিয়ন ও সর্ব আসাম গণসংগ্রাম পরিষদের মধ্যে। ছয় বছর আন্দোলনের পর পক্ষগুলো সমঝোতায় পৌঁছাতে সমর্থ হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ১৯৭১-এর ২৪ মার্চের পর যেসব বিদেশি অবৈধভাবে আসামে অভিবাসী হিসেবে ঢুকেছে, তাদের শনাক্ত করে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে হবে। ইতোপূর্বে চুক্তিটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না দেখা গেলেও বিজেপি এটিকে হাতিয়ার করেই ক্ষমতায় এসেছে।

বাংলাটুডে/আর এইচ

Comments are closed.