rockland bd

কাউনিয়ায় ২ মেধাবীর স্বপ্ন পুরনে বড় বাঁধা দারিদ্রতা

0


সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি :
নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। অভাব ওদের নিত্য সঙ্গী। দরিদ্রতা ওদের নিয়তি। তবুও আঁধার ঘরে ওরা আলোর প্রদীপ। নানা প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে জীবন যুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন ওদের চোখে মুখে। এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করেও উচ্চ শিক্ষা কিভাবে গ্রহন করবে,অর্থের যোগান কিভাবে হবে সে চিন্তায় ওদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সমাজের শিক্ষা প্রেমি বিত্তবানদের একটু সহানুভুতিই পারে কাউনিয়ার ৪ অদম্য মেধাবীদের আলোকিত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে।
মোঃ রাসেল মাহমুদ : দরিদ্রতা আর নানা প্রতিকুলতার সাথে যুদ্ধ করে কাউনিয়া মোফাজ্জাল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে রাসেল মাহমুদ। পিইসি পরীক্ষাতেও জিপিএ ৫ পেয়েছিল সে। উপজেলার হরিশ্বর গ্রামের সবজি বিক্রেতা বাবু মিয়া ও গৃহিনী মোছাঃ জমিলা বেগমের পুত্র সে। ওরা ২ ভাই ১ বোন। ৫ শতক বাড়ি ভিটা ছাড়া আর কিছু নেই। বাবার সবজির দোকানের আয়ে চলে সংসার, আর ২ ভাইয়ের পড়া লেখা এবং অসুস্থ্য মায়ের চিকিৎসা। বিভিন্ন বাড়িতে প্রাইভেট পড়িয়ে এতোদিন তার পড়ার খরচ জুগিয়েছে।
বড় ভাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে চাকুরী নামক সোনার হরিণের পিছে ছুটছে। দরিদ্রতার কারনে বোনের বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। অসুস্থ মা ছেলের ফলাফলে খুশি হলেও তার চোখ দিয়ে অঝড়ে পানি ঝড়ে। ছেলের অনেক স্বপ্ন লেখাপড়া শিখে বড় হবে। কিন্তু সেই স্বপ্নের অর্থের যোগান হবে কি ভাবে ? রাসেলের শিক্ষার প্রদীপও নিভে যেতে বসেছে। তার স্বপ্ন পূরনে এখন বড় বাঁধা দারিদ্রতা। এ বাঁধা ডিঙ্গিয়ে সেই স্বপ্ন পূরন হবে কিনা সে চিন্তাই এখন সারাক্ষন রাসেলের। সে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় সমাজের বৃত্তবানরাই পারে তার স্বপ্ন পুরন করতে।
মোঃ আক্তারুজ্জামান : কাউনিয়া উপজেলার গাজীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়ে জিপি এ-৫ পেয়েছে আক্তারুজ্জামন। উপজেলার তালুকশাহবাজ গ্রামের গার্মেন্ট কর্মী দরিদ্র আঃ মতিন ও গৃহীনি আঞ্জুমানারা বেগম এর পুত্র সে। চরম অর্থ সংকটের মাঝেও এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।
দরিদ্রতার সাথে লড়াই করে এসএসসি পাস করলেও উচ্চ শিক্ষা গ্রহন নিয়ে এখন দুচিন্তায় পড়েছে আক্তরুজ্জামান। তার এক বোন ও ভাই পড়ালেখা করে। বোন অনার্সে পরে ভাই পড়ে হাফেজি মাদ্রসায়। তাদের শিক্ষার খরচ জুটবে কিভাবে এচিন্তায় বিভোর আক্তারুজ্জামনের বাবা-মা। সে এতো দিন পড়াশুনার খরচ চালিয়েছে বিভিন্ন বাড়িতে প্রাইভেট পড়িয়ে। জমি জিরাত যা ছিল তা সব রাক্ষুসি তিস্তা নদী গিলে খেয়েছে। বাড়ি ভিটা ছারা এখন আর কিছু নেই। সামনে এগিয়ে যাওয়ার নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে সে। মা মোছাঃ আঞ্জুমানারা ছেলের সাফল্যে খুশি হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ছেলে চায় ডাক্তার হতে, কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে কিভাবে তা সম্ভব। সংসারে একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল ৫ জনের সংসার। তিনি ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আমিন/১২মে/২০১৯

Comments are closed.