rockland bd

কাউনিয়ায় কৃষি বিভাগের উদ্যোগে তামাক চাষ কমেছে

0


সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি :
কাউনিয়া উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নে চাষিদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করায় এক সময়ের বিড়ি শিল্প নগরী নামে পরিচিত হারাগাছসহ কাউনিয়ায় বিগত বছরের তুলনায় তামাক চাষ অনেক কমে গেছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে তিস্তা নদীর জেগে উঠা কিছু চরে তামাক চাষ হয়েছে। এখন থেকে মাত্র পাঁচ বছর আগেও যেখানে এ উপজেলায় তামাক চাষ হতো প্রায় ৫ থেকে ৮’শ হেক্টর সেখানে চলতি মৌসুমে তামাক চাষ হয়েছে মাত্র ১০ হেক্টর।
অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম খরচে বেশী ফসল ও ভাল দাম পাওয়ায় চাষিরা এ ফসল করতে বেশী আগ্রহী হলেও বিগত কয়েক বছরে উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রনোদনা ও তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার কারনে এবং সরকারের ব্যাপক প্রচার প্রচারনার ফলে এলাকার তামাক চাষীরা তামাক চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। যদিও এক সময় হারাগাছ এলাকায় শতাধিক বিড়ি কারখানা ছিল। এ কারখানা গুলোতে হাজার হাজার বিড়ি শ্রমিক কাজ করে জীবন জিবিকা নির্বাহ করতো। কিন্ত কালের বিবর্তনে বিড়ি শিল্প নগরী হারাগাছের অনেক বিড়ি কারখানা বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্তমানে যে সব কারখানা চালু আছে তাদের কিছু দালাল আছে যারা কৃষক কে তামাক চাষ করতে উৎসাহিত করে। তারা প্রচার চালায় তামাকের গদ্দা আলু চাষে ভাল কাজে লাগে। বিক্রয় করতে কোন বেগ পেতে হয় না। এ ছাড়াও দেশের কিছু নামি দামি কোম্পানি তামাক চাষের জন্য কৃষকদের আগাম ঋণ দিয়ে থাকে এবং আগাম তামাক কিনে নেয়। তাই কিছু চাষী তামাক চাষ ছাড়েনি। আগে চাষ করা জাত গুলো ছিল মতিহার, কালা মতিহার, গোদরা, ডিবি, বাঁশ দাহ, ছাতাই মতিয়ার, বাঁশ পাতারী, তালিম, ভার্জিনিয়াসহ নানা জাতের তামাক পাতা।
হারাগাছ এলাকার কৃষক আব্দুল জব্বার ও আঃ লতিফ জানান তারা ধুম পান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিষয়ে শুনেছেন কিন্তু তামাক চাষ ক্ষতি কর তা শোনেনি। তামাক জাতিয় দ্রব্য ব্যবহারের ফলে ক্যান্সারসহ মারাত্বক মরন ব্যাধী হলেও তামাক চাষ বন্ধে রেডিও টেলিভিসনে তেমন কোনো প্রচারনা নেই। তাই তাদের দাবী তামাক চাষ বন্ধে প্রচারনা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আলম জানান তামাক চাষের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে কৃষকদের বুঝিয়ে এর বিকল্প ফসল যেমন গম, ভুট্টা, সরিষা, আলূ, মরিচ চাষে আগ্রহ সৃষ্টিতে কাজ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও উপজেলায় তামাক চাষ বন্ধে চাষিদের প্রনোদনা দিয়ে বিকল্প ফসল চাষে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। তিনি জানান বর্তমানে এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে মাত্র ১০ হেক্টর তামাক চাষ হয়েছে আগামীতে তা শুন্যের কোঠায় আনার চেষ্টা চলছে।

আমিন/১২মে/২০১৯

Comments are closed.