নেত্রকোনায় কালবৈশাখীর তান্ডবে ১০ গ্রাম লন্ডভন্ড

0


খলিলুর রহমান শেখ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) :
নেত্রকোনা সদর ও আটপাড়া উপজেলার ওপর দিয়ে বুধবার মধ্য রাতে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ে আটপাড়ার স্বরমশিয়া ইউনিয়নের কমপক্ষে ১০টি গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
ঝড়ে ওই সমস্ত গ্রামের প্রায় পাঁচশ ঘর বিধ্বস্ত, অসংখ্য গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে ও ভেঙ্গে পড়ে। ঝড়ের সময় ঘরের নীচে চাপা গড়ে কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। ওই সমস্ত গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত ১১টার দিকে জেলার আটপাড়া উপজেলার স্বরমশিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রচন্ড ঝড় বয়ে যায়। এতে ইউনিয়নের ঘাগড়া, স্বরমশিয়া, আইমা, বেদীপুর, রূপচন্দ্রপুর পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া, কোনাপাড়া, সুতারপুর, হরিপুর, ভবনানীপুর, মোস্তফাপুর, ধরিয়াবক্্র, নোওয়াপাড়া গ্রামের কমপক্ষে ৫শ কাঁচা বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজারের দোকান ঘর বিধ্বস্ত, ফলজ ও বনজ বিভিন্ন জাতের অসংখ্য গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি উপরে ও ভেঙ্গে পড়ে। ঝড়ের সময় ধমকা বাতাস ওই সমস্ত গ্রামের বাড়ির টিনের চাল উড়িয়ে নিয়ে যায়। সবজি বগান, উঠতি ইরি বোরো ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এ সময় ঘরের নীচে চাপা পড়ে ঘাগড়া গ্রামের হলুদ মিয়া, মোহাম্মদ আলী, সেকুলা আক্তারসহ কমপক্ষে ১০জন কমবেশি আহত হন। গুরুতর আহত হলুদ মিয়াকে আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি করা হয়েছে। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ায় ও তার ছিড়ে যাওয়ায় বুধবার রাত থেকে ইউনিয়নের ওই সমস্ত গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম, আটপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী মো. খায়রুল ইসলাম, স্থানীয় স্বরমশিয়া ইউপি চেয়ম্যারম্যান আবদুস সাত্তার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শণ করেন। এছাড়া একই সময়ে সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের পাঁচকাহনীয়, চরড়াপা, মদনপুর ইউনিয়নের রামচন নগর, কাছিমপুর, তেতুলিয়া, কাকনীকোনা, নরিন্দ্র নগর গ্রামের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ে ওই সমস্ত গ্রামের শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত, অসংখ্য গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে ও উপরে পড়ে।
আটপাড়ার স্বরমশিয়া ইউপি চেয়ারম্যন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, ঝড়ে আমার ইউনিয়নে কমপক্ষে ১০টি গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ফসল ও ঘর বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখেছি।

আমিন/১০মে/২০১৯

Comments are closed.