rockland bd

মানিকগঞ্জে ইটভাটার আগুনের তাপে নষ্ট ৫০০ বিঘা জমির ধান

0


ডেস্ক রিপোর্ট, মানিকগঞ্জ, ৮মে (বাংলাটুডে) :
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোকুলনগর গ্রামে ইটভাটার আগুনের তাপে নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় ৫০০ বিঘা জমির ধান। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে অন্তত ২০০ কৃষক।
আইরমারা গ্রামের কৃষক তোতা মিয়া বলেন, তিনি ৭ বিঘা জমি বর্গা (গিরবী) নিয়ে সেখানে ইরির আবাদ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। কিন্তু ইটভাটার আগুনের তাপে এই কৃষকের সব জমির ধান মরে গেছে। তিনি এর ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।
মাঠ পর্যায়ের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা গৌর চন্দ্র সরকার বলেন, ইটভাটার মালিকদের একাধিকবার সতর্ক করেও কোন লাভ হয়নি। প্রতি বছরই ইটভাটার আগুনের তাপে ধানের ক্ষতি হচ্ছে।
সদর উপজেলার বেতিলা-মিতোরা ইউনিয়নের গোকুলনগর, সুলন্ডি গ্রামের ২০০ কৃষক এ বছর ৫০০ বিঘা জমিতে ইরি ধানের আবাদ করেছেন। আর মাত্র ১৫/২০ দিনের মধ্যে পাকা ধান ঘরে তোলার আশা করছিল তারা। কিন্তু এরই মধ্যে বিস্তীর্ণ ধান ক্ষেতের পাশে অবস্থিত ডায়ানা কোম্পানির তিনটি ইটভাটা, গ্রামীণ কোম্পানির একটি ইটভাটাসহ ১০/১২টি ইটভাটার আগুনের তাপে নষ্ট হয়ে গেছে পুরো ৫০০ বিঘা জমির ধান। এতে চরম ক্ষতিতে পড়েছে কৃষকরা।
ভাটার মালিকরা দায় স্বীকার করলেও কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পাবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আর কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বিস্তীর্ণ জমির ধান নষ্ট হওয়ায় এবার ইরির লক্ষমাত্রা অর্জন হবে না।
কৃষকরা জানায়, ইটভাটার নিচের অংশে আগুনের তাপ বাতাসে ছড়িয়ে ধান গাছ প্রায় পুড়ে গেছে। ধান চিটা হয়ে গেছে। এখন তাদের মরার দশা হয়েছে। ক্ষতি পোষাতে ভাটার মালিকদের কাছে ক্ষতিপুরণ দাবি করেন তারা।
সোলন্ডি গ্রামের কৃষক মোঃ ইসমত আলী বলেন, শনিবার (৪ মে) ডায়না ব্রিক্স কোম্পানি ইট পোড়ানোর মৌসুম শেষে চিমনীর আগুণ নেভানোর সময় ওই এলাকার ইরি প্রজেক্টের ৫০০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে যায়।
গোকুলনগর গ্রামের কৃষক আলী আকবর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ফসলী জমি থেকে ইটভাটা অপসারণের কথা বলে আসছেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। অবিলম্বে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ এবং আবাদি জমি থেকে ইটভাটা অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমতিয়াজ আলম বলেন, ইট খোলার আগুনের তাপে প্রায় ৫০০ বিঘা জমির ধান একেবারেই ক্ষতি হয়েছে। ইটখোলা মালিকদের ইতিপূর্বে একাধিকবার জানানো হয়েছিল। কিন্তু খোলা (ইটভাটা) মালিকরা কোনো ধরনের কর্ণপাত করেনি। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া ছাড়া এখন আর কোনো কিছুই করার নেই বলেন তিনি।
ডায়ানা ইটভাটার ম্যানেজার শাহাব উদ্দিন বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে বসে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের নামের তালিকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে সোমবার দুপুরে ইটভাটার আগুনে ধান পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ৫ গ্রামের কৃষক তাদের ক্ষতিপূরণ ও ফসলী জমি থেকে ইটভাটা অপসারণের দাবিতে মানবন্ধন করেছেন। মানববন্ধন শেষে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস বলেন, তিনি অভিযোগ পাওয়ার পর মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃসিকর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

আমিন/৮মে/২০১৯

Comments are closed.