rockland bd

অপরাধ দমনে প্রধানমন্ত্রী দলমতের উর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন, এমনটিই প্রত্যাশা

0

শাহজাহান সিরাজ :

আমাদের প্রিয় এই মাতৃভূমিতে প্রায় প্রতিদিনই নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা নানা অপরাধের বিরুদ্ধে মানববন্ধন হচ্ছে, বিক্ষোভ হচ্ছে। অপরাধীদের ধরতে নানা ধরনের সামাজিক আন্দোলনও হচ্ছে। কিন্তু নারীর প্রতি বৈষম্য, শ্লীলতাহানী এবং ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধগুলো কমছে না। প্রতিদিনের পত্রিকার পাতায় নতুন নতুন নির্যাতনের খবর বেরুচ্ছে। অপরাধগুলো এখন যেন লাগামহীন পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটেই চলেছে। গোটা দেশে একটিই প্রশ্ন আজ মানুষকে তাড়িত করছে, এর শেষ কোথায়? এভাবে যারা ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ হিংসা-বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, বিভেদ ছড়াচ্ছে, নির্মম বর্বরতা এবং নিষ্ঠুরতার প্রতিযোগিতা করছে তাদের নিবৃত্ত করার উপায় কী?
এর দায়ভার কি শুধুই সরকার বা বিরোধীদলের? নাকি প্রশাসন কিংবা সমাজে লুকিয়ে থাকা প্রভাবশালী ক্ষমতাবানদের? এর কি উত্তর হতে পারে। অনেকেই বলতে পারেন, এর দায় সামাজিক অবক্ষয়ের। কেউ কেউ বলছেন অতীতে সংঘটিত এই ধরনের অপরাধগুলোর সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে নতুন করে অপরাধের জন্ম হতো না। ‘তাহলে অতীতে কিংবা বর্তমানে কি দেশে বিচারহীনতা বিরাজ করছে?’ না। সেটিও নয়। বিচার ব্যবস্থায় প্রতিনিয়তই অপরাধীদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি তো হচ্ছেই। অথচ অপরাধ না কমে তা সীমাহীনভাবে বেড়েই চলেছে। কেন? তাহলে কি আমাদের সামাজিক শাসন ব্যবস্থায় কোন গলদ আছে? থাকলে কি সেই গলদ?
দেশে সংঘটিত অসংখ্য বড় বড় অপরাধ নির্মূলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে প্রায় সময়ই কঠোর উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। সরকার প্রধানসহ ক্ষমতাসীন প্রায় সব মন্ত্রী এমপি মহোদয়ের মুখেই শোনা যায় যে, অপরাধী কিংবা সন্ত্রাসীদের কোন দল নেই। তারা সমাজের শত্রু, মানুষের শত্রু, দেশের শত্রু।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারদলীয় একজন রাজনৈতিক কর্মী এ বিষয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের একটি বিশেষ শ্রেণী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের কিছু সহযোগি সংগঠনের ভিতরে প্রবেশ করে নামধারী আওয়ামী লীগ সেজে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা পুলিশসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে এসব অপরাধ সংঘটিত করার সাহস পাচ্ছে। এরপর অপরাধ করে দলীয় নেতা-কর্মীর লেবাছ থাকায় স্থানীয় প্রশাসন অপরাধীদের ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দুইবার ভাবছেন। এই ভাবনার ফাঁকফোকর দিয়েই জঘন্য অপরাধীরা ছাড়া পাচ্ছে। ফলে সমাজে অপরাধ আরো বেড়ে চলেছে।’ এসব বেড়ে যাওয়া অপরাধ কর্মকান্ডগুলোকে ঠেকাতে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত কঠোর হস্তে অপরাধীদের দমন করার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন দেশের সাধারণ জনগন। সরকারে থাকা কতিপয় অতি উৎসাহীদের ব্যাপারে বিশেষ নজরদারী এবং কঠোর অবস্থানে থেকে অপরাধ দমনে সিদ্ধান্ত নেন এ ব্যাপারেও বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
এতে করে সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যেমন অব্যাহত থাকবে, তেমনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তেও সহায়ক হবে।

লেখক : সাংবাদিক

Comments are closed.