rockland bd

জার্মানদের আচরনে ক্ষুব্ধ ওজিল আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন

0

খেলা, নিজস্ব প্রতিবেদন


এভাবে বল নিয়ে জার্মানির হয়ে আর মাঠ কাঁপাবেন না মেসুট ওজিল।


একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে মনে হয় জার্মানরা। তা না হলে এমন একজন ফুটবলার কেনইবা অবসরের ঘোষনা দেবেন। জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি একরাশ ক্ষোভ৷ রাগ সমর্থকদের প্রতিও৷ ক্ষোভ হবেই বা না কেন? একজন রাষ্ট্র প্রধানের সাথে ছবি তোলা কি অন্যায়? না কি এমনটি কেউ আগে করেননি? তাহলে ওজিলকেই কেন এত গালমন্দ শুনতে হচ্ছে? অতীতে অনেক খ্যাতিমান ফুটবলারই রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন।

এইতো সেদিন ম্যারাডোনাই তো মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে কোলাকুলি করেই ক্ষ্যন্ত হননি, নিজেকে ফিলিস্তিনি বলেও মন্তব্য করেছেন। তাই বলে ম্যারাডোনাকে কি কেউ সমালোচনায় ভাসিয়েছে, মোটেই না।

বিশ্বকাপের মঞ্চে অপমানজনক ব্যবহার ঠিক হজম করতে পারেননি ২৯ বছর বয়সি জার্মান ফুটবল তারকা মেসুট ওজিল৷ ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে ওজিল জানালেন, এর পর আর জার্মানির জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামা সম্ভব নয় তাঁর পক্ষে৷ তাই এখন থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবসরের বেঞ্চে ঢুকে পড়লেন তিনি৷

রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ লিগ থেকে ছিটকে যায় ২০১৪’র বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা৷ বাকিদের সঙ্গে ব্যর্থতার দায় গিয়ে পড়ে ওজিলের খাপার ফর্মের উপরেও৷ তবে পারফরম্যান্স জনিত কারণে নয়, দলের মধ্যে ওজিল কোণঠাসা হয়ে পড়েন রাজনৈতিক কারণে৷

জার্মান হলেও পারিপারিক সূত্রে তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত ওজিল বিশ্বকাপের ঠিক আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ানের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ তাতেই বেজায় চটে যায় জার্মান ফুটবল সংস্থা৷ কোচ জোয়াকিম লো কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন যে, বিশ্বকাপের আগে বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বৈঠক, ছবি তোলা, অটোগ্রাফ দেওয়া জার্সি উপহার, এসব তিনি বরদাস্ত করবেন না৷

সামান্য এই ছবির কারনেই মেসুট ওজিলকে হজম করতে হয়েছে অপমান।


তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ভাবমূর্তী জার্মান জনমানসে স্বচ্ছ না হওয়ায় ওজিলকে এমন কাজের জন্য তীব্র ভর্ৎসনা করে জার্মান ফুটবল সংস্থা৷ সমর্থদেরও টিপ্পনি শুনতে হয় আর্সেনাল তারকাকে৷ সব মিলিয়ে রীতিমতো অপমানিত বোধ করেন ওজিল৷ সেই ক্ষোভ থেকেই অন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি৷

এর্দোয়ানের সঙ্গে ছবি তোলা নিয়ে ওজিল আগেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলেন৷ এবার নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করে ওজিল বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ানের সঙ্গে ছবি তোলা কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়৷ এর পিছনে নির্বাচনের কোনও প্রসঙ্গও ছিল না৷ এটা নিতান্তই আমার পরিবারের দেশের সর্বোচ্চ সরকারি ব্যক্তিত্বের প্রতি আমার সম্মান প্রদর্শন ছিল৷’

টুইটারে ওজিল আরও জানান, ‘আমি একজন ফুটবলার৷ রাজনীতিবিদ নই৷ আমার কাজ ফুটবল খেলা৷ সুতরাং আমাদের বৈঠকে কোনও রাজনৌতির অভিসন্ধি ছিল না৷ তবে এই ঘটনার জন্য জার্মান ফুটবল সংস্থার কাছ থেকে যে রকম ব্যবহার পেয়েছি এবং আরও অনেকেই যেভাবে অপদস্ত করেছে আমাকে, তাতে জার্মানির জার্সি গায়ে চাপিয়ে আমার পক্ষে আর মাঠে নামা সম্ভব নয়৷’

শেষে ওজিল বলেন, ‘নিজেকে নিতান্তই অবাঞ্ছিত মনে হচ্ছিল৷ আমার মনে হয় ২০০৯’এ আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর দেশের হয়ে আমার যাবতীয় অবদানের কথা সবাই ভুলে গিয়েছে৷ জাতীয় দলে এমন জাতীভেদ অত্যন্ত অপমানজনক৷ এই অপমান সহ্য করে খেলা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব৷ খারাপ লাগছে জার্মানির হয়ে আর মাঠে নামব না ভেবে৷’

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.