rockland bd

নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় আহমদীয়া সম্প্রদায়ের সংবাদ সম্মেলন

0

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম,পঞ্চগড় প্রতিনিধি

আজ মঙ্গলবার পঞ্চগড়ে সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে খতমে নবুয়ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়ামে সম্মেলনের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে হেফাজতে ইসলামের আমির ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী’র। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাদ সম্রাটের সভাপতিত্বে সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খতমে নবুয়ত কমিটির নেতৃবৃন্দগণ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে প গড়ে জেলাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে সম্মেলন এন্তেজামিয়া কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাদের দাবি এই সম্মেলনে প গড় জেলাসহ আশপাশের ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী জেলা থেকে লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইয়েরা অংশগ্রহণ করবেন।
এদিকে নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা শহরের আহমদনগরে আহমদীয়া কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলন করেছে আহমদিয়া মুসলিম জামাত। সংবাদ সম্মেলনে আহমদনগর আহমদীয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মোহাম্মদ তাহের যুগলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আহমদনগর জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল মতিন। এ সময় আহমদীয়া মুসলিম জামাতের কেন্দ্রীয় আমির মোবাশশের উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে আব্দুল মতিন বলেন, গত ১২ ফেব্রয়ারি রাতে ৩ দিন ব্যাপী বার্ষিক সালানা জলসাকে কেন্দ্র করে খতমে নবুওয়তসহ সমমনা বিভিন্ন সংগঠনের অনুসারিরা আহমদনগরে আহমদীয়াদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। পরে স্থানীয় প্রশাসন সালানা জলসার অনুমতি স্থগিত করে। এ ঘটনায় রুজু করা দুইটি মামলা পুলিশ আমলে নেয়নি। এজন্য ধর্মীয় উগ্রবাদি গোষ্ঠী আশকারা পেয়ে নতুন উদ্যমে বৃহত্তর আকারে সন্ত্রাস চালানোর জন্য সম্মেলন ডেকেছে। তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করলেও ধর্মীয় উগ্রবাদি গোষ্ঠীর প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলে আক্রমণাত্মক ভ‚মিকা গ্রহণের অতীত ইতিহাস রয়েছে। আব্দুল মতিন আরও বলেন, ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং তাদের মিছিলে সাজানো হামলার গুজব ছড়িয়ে আহমদীয়া সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর আক্রমণ চালানো হতে পারে। এজন্য তিনি প্রশাসনকে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার অনুরোধ জানান।
আহমদীয়া মুসলিম জামাতের কেন্দ্রীয় আমির মোবাশশের উর রহমান দাবি করেন, সম্মেলনের আয়োজকরা প্রশাসনকে ২০ বা ৩০ হাজার লোক সমাগমের তথ্য জানালেও ভেতরে ভেতরে আমরা লক্ষাধিক লোক সমাগম ঘটানোর পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছি। একই সঙ্গে গোপনে অনেক লোক বিভিন্ন বাসা বাড়িতে অসৎ উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। আর অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের স্বস্তি দেয়না। এজন্যই সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা যথেষ্ঠ শঙ্কায় রয়েছি।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মো. গিয়াসউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সকল পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শর্তসাপেক্ষে সম্মেলনের অনুমতি দিয়েছি। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির টহলসহ সার্বিক নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। আশা করছি শান্তিপূর্ণভাবে এই সম্মেলন শেষ করতে পারবো।

লিখন/বাংলা টুডে

Comments are closed.