rockland bd

সুন্দরবনের হরিণ শিকার ও চোরাচালান ঠেকাতে প্রশাসন কি করছে?

0

প্রতিবেদক, রাশেদুল হাসান


সুন্দরবনের সাতক্ষীরা অঞ্চলে হরিণ শিকারী ও চোরাকারবারীদের দৌরত্ব দিন দিন বেড়েই চলছে। এ অঞ্চলের হরিণ শিকারী ও চোরাকারবারী এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে তৃণভোজী এ প্রাণীটির টিকে থাকার প্রশ্নে এক ধরনের নতুন হুমকি দেখা দিয়েছে।

এভাবেই প্রকাশ্যে চলছে হরিণ শিকার।


সম্প্রতিকালে সুন্দরবনে বিচরণ করা হরিণ বাঘ ও জলদস্যুদের আক্রমন থেকে রেহাই পেলেই শিকারীদের বন্দুকের গুলি থেকে রেহাই পাচ্ছেনা ।

চলতি মাসে বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের আলাদা অভিযানে দুই চোরাকারবারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তিনটি মৃত হরিণ, শিকারের পিস্তল ও একটি নৌকা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায়ই এ ধরনের অভিযানে এক দুইজন আটক হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায় তাদের গডফাদাররা।

বন বিভাগের তথ্য মতে, বনে ডাকাতের সংখ্যা কমে এলেও সুন্দরবন ও এর আশেপাশের এলাকায় হরিণ চোরাকারবারীদের দলগুলো বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, কইখালি, বেতখালি, জ্যোতিন্দ্রংর গ্রামে প্রতিদিনই হরিণের মাংস বিক্রি হতে দেখা যায়।

এভাবেই প্রকাশ্যে চলছে হরিণের মাংস বিক্রি।


বন বিভাগের দাবি হরিণ চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি কেজি হরিণের মাংস ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। তারা অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষের কাছে হরিণ শিকারী ও চোরাকারবারীদের নামের তালিকা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয় না।

প্রশাসন ও বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে এই অপকর্ম চলছে বলেও জানায় স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান, স্থানীয় এক ধনকুবের হরিণ শিকার ও চোরাকারবারের মূল হোতা। তিনি নিজে প্রায়ই দলবল নিয়ে সুন্দরবনে হরিণ শিকারে বের হন।

এমনকি কোন হরিণ শিকারী ধরা পড়লে তিনি তাকে ছাড়িয়ে আনারও ব্যবস্থা করেন।

সুন্দরবনে হরিনের পাল।


গত ৯ জুলাই হরিণ শিকারীদের একটি দল সুন্দরবনের চাঁনকুড়ি এলাকায় হরিণ শিকারে যায়। তাদের সাথে শ্যামনগর থানার একজন এসআই ও কয়েকজন কন্সটেবলও যায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শ্যামনগর থানায় সাত্তার মোড়লসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

সাতক্ষিরা অঞ্চলের বন কর্মকর্তা রফিক আহমেদ বলেন, বন বিভাগের কেউই ঘুষ নেয়ার সাথে জড়িত নয়। যদি কারো বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টহল বাড়ানোর মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান ওই বন কর্মকর্তা।

শ্যামনগর থানার ওসি সাইদ মান্নান আলি বলেন, বনডাকাত ও চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.