rockland bd

নদী উদ্ধারে সারাদেশে সাড়াশি উচ্ছেদ অভিযান চালাবে নদী রক্ষা কমিশন

0


মোঃ ইব্রাহীম, রাজৈর(মাদারীপুর)প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) :
পূজার যেমন লগ্ন থাকে ইফতার সেহরির যেমন নির্ধারিত সময় থাকে। ঠিক এই যে নদী যারা দখল করেছে আমরা জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের পক্ষ থেকে বলতে চাই আগামী ১ বছর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে ঢাকার চারদিকের মতো সারাদেশে একই সময় নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
দুই দিক সংরক্ষন করা হবে। সিএস অনুযায়ী সিমানা নির্ধারন করে স্থায়ী সিমানা পিলার বসানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। শুক্রবার দুপুরে মাদারীপুর জেলার শিবচরের বিভিন্ন নদ নদী পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে তিনি নদী তীর দখলকারী বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এরআগে তিনি এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন । এতে শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম তালুকদার, পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল নোমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেমউদ্দিন খান, আওয়ামীলীগ নেতা শাজাহান খান, উত্তর বহেরাতলা ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন হায়দার, প্রেস ক্লাব সভাপতি একেএম নাসিরুল হক, সাধারন সম্পাদক প্রদ্যুৎ কুমার সরকার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যান শিবচর পৌরসভার বিলপদ্মায় বিআইডব্লিউটিএর নদী খনন প্রকল্পের অপরিকল্পিত কাজ দেখে ক্ষুদ্ধমত প্রকাশ করে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সংস্থা। কিন্তু তারা যেই প্রক্রিয়ায় নদী খনন করছে সেটা তারা গর্হিত অপরাধ করছে। তারা উন্নয়নের নামে এভাবে কেন করছে আমি বুঝতে পারছিনা। তারাতো অনেক ভাল কাজ করছে। তারাও ঢাকায় অনেক অনেক অবৈধ স্থাপনা ভাঙ্গছে। কিন্তু এই নদী খনন কাজ যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান করছে তাদের কাজ দেখে আমি হতাশ হলাম। আমি ইউএনও সাহেবকে বলেছি কোন ডিপার্টমেন্টের যেন বদনাম না হয়। উপজেলায় দ্রুত সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা যেন অবিলম্বে খননকৃত মাটি নদীতে না ফেলে অন্য কোথাও ফেলার ব্যাবস্থা করে। যাতে বর্ষার পানিতে মাটি ধুয়ে আবার নদী ভরাট না হয়ে যায়। সেরকম নিরাপদ দূরত্বে মাটি সরিয়ে নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাই এমন।
তিনি শিবচরের বিভিন্ন নদ-নদীর তীরবর্ত্তী স্থান ব্যাপকভাবে দখল হয়েছে বলে চরম হতাশা ব্যক্ত করে আরো বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আরো আগেই নদীর দখলকৃত জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইতমধ্যেই ৩০ টি জেলার অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সে মোতাবেক কমপক্ষে ১২ টি জেলায় উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। বাকি সকল জেলা উপজেলাতেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অধিসত্য ও প্রজাতন্ত্র আইনের ১৯৫০ এর ৮৬ ও ৮৭ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে নদীর জমির সিমানা নির্ধারনে দিয়ারা জরিপ করতে হবে। নদীর জমি হচ্ছে জন অধিকারভুক্ত। তাই এ জমি কেউ দখল করে রাখতে পারবে না।

আমিন/১২এপ্রিল/২০১৯

Comments are closed.