rockland bd

স্বর্ণে হেরফের নিয়ে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী-গভর্নর

0

বাংলাটুডে : নিরাপদেই আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণ । অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমনটিই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, করণিক ভুলের কারণে এ রকমটা হতে পারে। বিষয়টি অধিকতর পর্যালোচনা করে কারো বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

ভল্টে রাখা স্বর্ণের ‘হেরফের’ নিয়ে আজ বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি।

এ বিষয়ে আজ বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভল্ট থেকে স্বর্ণ বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা মোটেও নেই। ছয় স্তরের নিরাপত্তাবলয় পেরিয়ে সেখানে যেতে হয়। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী গভর্নর, তিনিও ভল্টে যেতে পারেন না সিস্টেমের বাইরে। দু-তিন জায়গা থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যেতে হয়। আর আমাদের তো প্রশ্নই আসে না। ফলে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন যে রক্ষিত স্বর্ণের কোনো কিছুই বাইরে যায়নি।

প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণে অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। দৈবচয়ন পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা ৯৬৩ কেজি স্বর্ণ পরীক্ষা করে বেশিরভাগের ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়ে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে শুল্ক গোয়েন্দা।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘জমা রাখা হয়েছিল তিন কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি, তা হয়ে আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। ২২ ক্যারেট সোনা, হয়ে আছে ১৮ ক্যারেট।’

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গতকালই এ প্রতিবেদন যথাযথ নয় বলে দাবি করা হয়।

আজ জরুরি বৈঠক শেষে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইংলিশ-বাংলা করণিক ভুলের কারণে এ রকমটা হতে পারে। বিষয়টি মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, বিষয়টিকে ছোট করে দেখছি না। আমি ছোট করে দেখছি না। সামান্য ফাঁক দিয়েও বড় ঘটনা ঘটে যায়। পর্যালোচনা করে কারো বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ফিরে গিয়ে তাঁরা আবার বসবেন। আবার আলোচনা হবে।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের দেয়া স্বর্ণ জমা রাখার সময় ৪০ শতাংশই ছিল। কিন্তু ইংরেজি-বাংলার হেরফেরে সেটা ৮০ শতাংশ লিখে ভুলবশত নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ৮০ এবং ৪০-এ ক্লারিক্যাল মিস্টেক হয়েছে।

সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এম এ মান্নান আরো বলেন, আমি আমার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো এবং এটাকে আমাদের লেভেলে অথবা অন্য কোনো সংস্থাকে দিয়ে আরো অধিক পর্যালোচনা করবো। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক ভীত নয়। গভর্নর বলে গেছেন, আপনারা যাকে দিয়ে দেখাবেন দেখান। আমাদের তরফ থেকে কোনো সংশয় নেই, সবকিছু ঠিকই আছে। জনগণের যেটা জানানোর দায়িত্ব, তাদের সম্পদ বাংলাদেশ ব্যাংকে ঠিকই আছে, সঠিক আছে।

ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. রবিউল হুসাইন বলেন, শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরের নিজস্ব রিপোর্টের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মেশিনের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মেশিনের মাপের পার্থক্য হয়। এই মেশিন নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক শহিদুল ইসলাম, এনবিআরের সদস্য কালিপদ হালদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাটুডে/আর বি

Comments are closed.