rockland bd

রাশিয়ায় বিপ্লব ঘটিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ঘরে তুললো ফ্রান্স

0

নিজস্ব প্রতিবেদন


স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফিতে চুমু খাচ্ছেন টুর্নামেন্টের আলোচিত ও সেরা উদিয়মান খেলোয়ার নির্বাচিত এমবাপে।


নানা বিতর্কের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলাটি, এমন মনে করা খুব একটা ভুল হবে না। কি ছিলো না এ ম্যাচে? আত্মঘাতী গোল, পেনাল্টি, হাস্যকর গোল, গ্রিজম্যানের নেইমারকে অনুকরণ সবই ছিলো এ খেলায়। সমালোচনা হয়েছে রেফারিং নিয়েও। ছিলো পগবা, এমবাপের চোখ জুড়ানো গোল।

সেই নাটকীয় ফাইনালে রুশ বিপ্লবের দেশে রীতিমত ফরাসি বিপ্লব ঘটিয়ে আবারও ফুটবলে বিশ্বসেরা হল দিদিয়ের দেশমের দল ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালে যার নেতৃত্বে ফ্রান্স প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিলো, সেই দেশমের কোচিংয়ে ফ্রান্স পেলো দ্বিতীয় বিশ্বমুকুট। গতকাল বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা ৪-২ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে এ কৃতিত্ব অর্জন করে। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলা ক্রোয়েটসেনারা রানার্সআপের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়লো।

অধিনায়কের পর এবার কোচের ভূমিকাতে বিশ্বকাপ জিতলেন দেশম। তাকে শূন্যে ছুড়ে দিয়ে উল্লাস ফ্রান্স দলের।


হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়া লড়াইয়ের শুরুতেই আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। খানিক বাদেই দারুণ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে সমতা ফেরান ইভান পেরিসিচ। প্রথমার্ধেই পেনাল্টি থেকে ফ্রান্সেকে আবার এগিয়ে দেন অঁতোয়ান গ্রিজমান। মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে শুরু থেকে বল দখলে রেখে আক্রমণে এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে ভালো কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি।

খেলার ধারার বিপরীতে ফ্রান্স এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়ার মারিও মানজুকিচের আত্মঘাতী গোলে। ১৮তম মিনিটে ডি-বক্সের অনেক বাইরে থেকে অঁতোয়ান গ্রিজমানের ফ্রি-কিক হেডে বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন সেমি-ফাইনালের জয়সূচক গোলদাতা। বল তার মাথায় ছোঁয়া লেগে জালে ঢোকায় কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষক দানিয়েল সুবাসিচের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফাইনালে এটাই প্রথম আত্মঘাতী গোল।

২০ বছর পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ঘরে তুললো ফ্রান্স। সে খুশির ঢেউ লেগেছে সারা অঙ্গে।


নক-আউট পর্বের তিনটি ম্যাচেই আগে গোল খেয়ে ম্যাচে ফিরেছিল ক্রোয়াটরা। এবারও ফিরতে দেরি হয়নি। ২৮তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন ইভান পেরিসিচ। ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সে আসা বল জটলা থেকে দোমাগোই ভিদা কাটব্যাক করেছিলেন। ডান পা দিয়ে বল আয়ত্তে নিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোলরক্ষক উগো লরিসকে ফাঁকি দেন সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সমতা ফেরানো পেরিসিচ। টুর্নামেন্টে এটি তার তৃতীয় গোল।
দশ মিনিট পর আবার এগিয়ে যায় ফ্রান্স পেনাল্টি থেকে। কর্নার থেকে ডি-বক্সে আসা বলে লেগেছিল পেরিসিচের হাতের ছোঁয়া। রেফারি মাঠের বাইরে গিয়ে ভিডিও রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত দেন স্পট-কিকের। ঠা-া মাথায় টুর্নামেন্টে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন অঁতোয়ান গ্রিজম্যান। এতোসব নাটকীয়তার মধ্যদিয়ে সমাপ্তি ঘটে প্রথমার্ধের।

৬০ বছর পর বিশ্ব পেল নতুন পেলে।


দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় ফরাসি বিপ্লবের সামনে ক্রোয়েটরা কম চেষ্টা করেনি আধিপত্য বিস্তার করতে। কিন্তু এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণভাগ নিয়ে খেলা ফ্রান্সকে টলাতে পারেনি। ক্রোয়েটদের আক্রমণ সামলে ফ্রান্স আদায় করে নেয় আরো দুটি গোল। পল পগবা ও কিলিয়ান এমবাপে গোল দুটি করে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন ৪-১ এ। ২৮ মিনিটে অতর্কিত আক্রমণ শানিয়ে ব্যবধান কমান ক্রোয়েশিয়ার মারিও মাঞ্জোকিস (২-৪)।

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.