rockland bd

পটুয়াখালীর গলাচিপায় হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী উপকূলীয় গোলপাতা গাছ

0


শাহ্ মুহাম্মদ সুমন রশিদ ,বরিশাল ব্যুরো (বাংলাটুডে) :
পটুয়াখালীর গলাচিপার উপকূলীয় এলাকা থেকে ক্রমেই গোলপাতা গাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
জলবায়ুর পরিবর্তন, প্রয়োজনীয় চাষাবাদ, সংরক্ষণ ও পরিচর্যার অভাব গোলপাতা গাছ বিলুপ্তির কারণ বলে জানান সংশিষ্টরা। এতে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে মনে করছেন তারা।
জানা গেছে, পটুয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে উঠত এই গোলপাতা গাছ। খাল, বিল, নদীর তীরসহ জলাশয়ের পাশে সর্বত্রই গোলপাতা গাছ দেখা যেত। গাছের নাম গোলপাতা হলেও দেখতে নারিকেল গাছের পাতার মতো। এর উচ্চতা ১৫ থেকে ২০ ফুটের বেশি। সাধারণ লবণাক্ত পলিযুক্ত মাটিতে গোলপাতা ভালো জন্মায়। বিচ্ছীর্ণ এলাকাসহ খালের পাড়, নদীর চরাঞ্চল গোলপাতা গাছ চাষের উপযুক্ত স্থান।
গোলপাতা গাছের বীজ (গাবনা) মাটিতে পুঁতে রাখলেই চারা জন্মায়। গলাচিপা উপজেলার সোনারচর, ছোটবাইশদিয়া, বড়বাইশদিয়া, চর মোন্তাজ, চরকাজল ও চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বিচ্ছীর্ণ এলাকার মাঠ, খাল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রকৃতিগতভাবে এ গোলপাতা জন্মে থাকে।
চরমোন্তাজ এলাকার মো. কবির মিয়া জানান, একটি গাবনায় ১২০-১৫৫টি পর্যন্ত বীজ থাকে। গোলপাতা চাষে তেমন খরচ নেই। সহজলভ্য এবং ব্যয় কম হওয়ায় চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক। গোলপাতা গাছ চাষে রাসায়নিক সার, কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না।
এ ছাড়াও গোলপাতা গাছের রস দিয়ে গুড় উৎপাদন করে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।এ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা গোলগাছ চাষের অনুকূলে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চাষাবাদ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে গোলপাতার গাছ। উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে এখনও গোলগাছের চাষাবাদ হয়। এলাকার বেশিরভাগ পরিবার হতদরিদ্র।
এ অঞ্চলের ১০ লক্ষাধিক দরিদ্র পরিবারের বসতঘরের চালা ও চিংড়ি ঘেরের স্থাপনার ছাউনির একমাত্র অবলম্বন গোলগাছের পাতা। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙনসহ পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লোকালয় থেকে গোলগাছ হারিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে গলাচিপা দক্ষিণাঞ্চলে গোলগাছ চাষাবাদে সরকারি উদ্যোগ নিলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক হবে। এ অবস্থায় গোলপাতা গাছ রক্ষার জন্য আরও বেশি যতœশীল হওয়া প্রয়োজন।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আহম্মেদ পারভেজ বলেন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় গোলপাতার বন মরে যাচ্ছে।
এ ছাড়া গোলপাতা গাছে আগামরা রোগের প্রাদুর্ভাবও এর জন্য দায়ী। পরিকল্পিত আবাদ ও পরিচর্চা বাড়াতে পারলে গোলপাতার ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব।

আমিন/২২মার্চ/২০১৯

Comments are closed.