rockland bd

দুর্গাপুরে ৫ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ১জন সরকারি চিকিৎসক

0


খলিলুর রহমান শেখ, নেত্রকোনা প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) :
জেলার দুর্গাপুরে প্রায় ৫ লাখ মানুষের জন্য একজন মাত্র মেডেকেল অফিসার আছেন।
তিনি বিপুল এ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে ওই উপজেলায় সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সুযোগ নিচ্ছে বেসরকারী ক্লিনিকগুলো। রোগীরা বেশি টাকা দিয়ে ওই সমস্ত ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জানা গেছে, জেলার দুর্গাপুর উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রটিতে জনবল সংকটে ভঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের বসবাস। তবে পাশের কলমাকান্দা, পূর্বধলা দুটি উপজেলা থেকে আরও প্রায় দুই লাখ মানুষ সেবা নিতে আসেন ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্র থেকে।
২৮ জন চিকিৎসকের স্থলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও একজন মেডিকেল অফিসার কর্মরত আছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বেশীর ভাগ সময় জেলা সদর ও বিভিন্ন কাজে অফিসের বাইরে যেতে হয়। মেডিকেল অফিসারই একমাত্র ভরসা।
জনবলের অভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রটি থেকে সরকারি সুযোগ সুবিধা এলাকার মানুষ পাচ্ছেন না। ডাক্তার ও রোগীদের জন্যে রয়েছে উন্নতমানের কক্ষ, এসি করা কক্ষ জেনারেটরসহ রয়েছে দুইটি ওটি রুম, ডেন্টাল, জুনিয়র কনসালটেন্ট, এক্সরে, গাইনি কক্ষ, সার্জারি কক্ষ, মেডিসিন, এ্যানেসথেসিয়া কক্ষসহ উন্নত মানের চিকিৎসার ব্যবস্থা। তা সত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নব্য নিয়োগকৃত ডাক্তারদের অনুপস্থিতি, মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ব্যবহার না হওয়া এবং জনবলের অভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রটি এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। যন্ত্রপাতির ওপর মরিচা পড়ে যাওয়ায় সরকারের প্রায় ৪ কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হওয়ার পথে।
আটজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মধ্যে রয়েছে মাত্র একজন। জরুরী মেকানিক্যাল পদটি সৃষ্টির পর থেকেই শূণ্য। তিনজন স্বাস্থ্য পরিদর্শক এ হাসপাতালে পদায়নে আছেন কিন্তু বাস্তবে নেই। একটি অ্যাম্বুলেন্স তাও অনেকটা অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
অপরদিকে স্বাস্থ্য সেবা কমিটির সভা সময়মতো হয় না। প্রায় ৮- ১০ পর পর ২-৩টি সভা হয়েছে। প্রায় একযুগ ধরে চলছে এমন অবস্থা। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় পর সাবেক সাংসদ মোস্তাক আহমদে রুহী ১০ বছর পর একটি সভা করেছিলেন। এরপর ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সাবেক এমপি ছবি বিশ্বাস তিন বছর পর আরও একটি সভা করনে। এরপর আর কোন সভা হয়নি। কিন্তু এর কোন জবাবদিহিতা নেই। অথচ তিন মাস অন্তর অন্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভা হওয়ার বিধান রয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জেলার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভালো ভালো ডাক্তার বদলী হয়ে আসেন। যাতায়াত ভালো নয়, কোয়ার্টারগুলি মানসম্মত নয়, পানির অভাব, দুর্গন্ধ, রোগী দেখার যন্ত্রপাতি অকেজো, এক্সরে মেশিন বিকল, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের অবৈধভাবে সার্টিফিকেট দেয়ার চাপ এ ধরণের নানা অজুহাতে এখান থেকে চলে যান।
কিন্তু দেখা যায়, ওই সমস্ত ডাক্তাররা এলাকায় প্রতি বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার উপজেলা সদরের বেসরকারি বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে চেম্বারে রোগী দেখেন। তাদের যোগসাজসে কমিশনের লোভে অপ্রয়োজনীয় সকল টেষ্ট লিখে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক মালিকদের বিরুদ্ধে। এতে করে প্রতারিত ও সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলা ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ।
“যত টেষ্ট, তত টাকা” এর পর ডাক্তারদের ভিজিট তো আছেই। এখানে চারটি বেসরকারি ক্লিনিক ও প্রায় ২০টি ডায়াগনষ্টিক ও প্যাথলজিস্ট সেন্টার রয়েছে। এই সমস্ত ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার বেশীরভাগেরই নেই সরকারি কোন অনুমোদন। ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে মালিকরা জানান,সরকারি অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারনে তা হচ্ছে না।
দুর্গাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার সোহরাব হোসেন তালুকদার জানান, বহুবার এ ব্যাপারে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।
দুর্গাপুর উপজেলা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। এ এলাকায় হতদরিদ্র, অসহায়, খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশী। তাই রোগ নির্ণয়, যাবতীয় পরীক্ষার জন্য জেলা শহর ও বিভাগীয় শহরে যাওয়ার জন্যে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। যা অনেক সময় তাদের সামর্থের বাইরে চলে যায়। তখন তাদের বাধ্য হয়ে স্থানীয় ক্লিনিক ও ডাগানগষ্টিক সেন্টারগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়।
দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ আলী রেজা সিদ্দিকী বলেন, আমি এখানে যোগদান করেছি। রোগীদের সাধ্যমত সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। বেশীরভাগ সময় আমাকে অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এখানে একজনমাত্র মেডিকেল অফিসার আছেন। তাকে অনেক কষ্ট করে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে।
নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. মো. তাজুল ইসলাম খান জানান, জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রসহ চিকিৎসক সংকট রয়েছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

আমিন/২২মার্চ/২০১৯

Comments are closed.