rockland bd

গাজীপুরে ও কেরানীগঞ্জে বিহারীদের স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা


মিরপুরের বিহারি ক্যাম্প গাজীপুরে ও মোহাম্মপুর এলাকার বিহারীদের কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, ঢাকার ৪৫টি পাকিস্তানি ক্যাম্পে প্রায় ৬ লাখ বিহারি বসবাস করে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে বলে জানায় সূত্রটি। এসব বিহারি ক্যাম্প স্থানান্তরে সরকারি খাস জমি খোঁজা হচ্ছে।

২০১৪ সালে মিরপুরের কালশি বিহারি ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডে ১১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।


ইতিমধ্যে গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জের দুটি স্থান প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়।

২০১৪ সালে মিরপুর বিহারি ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডে ১১ জনের প্রাণহানির ঘটনার পর এ উদ্যোগ নেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ওই ঘটনার চার বছর পার হলেও হত্যা রহস্যের কোন কুল-কিনারা করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি। উল্টো পুলিশের পক্ষ থেকে বিহারীদের আসামী করে মামলা দেয়া হয়েছিল।

সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকায় ৪৫টি বিহারি ক্যাম্পে প্রায় ৬ লাখ লোক বাস করে। এছাড়া দেশের কয়েকটি জেলায় ক্যাম্পগুলোতে মানবেতর জীবন-যাপন করছে বিহারিরা। তাদের অন্যত্র স্থানান্তর না করা পর্যন্ত ক্যাম্পের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের নজরদারি রয়েছে।

এর আগে মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের বিহারী ক্যাম্পে বিভিন্ন সময় সিটি করপোরেশন গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয়েছে। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ গতকালও মিরপুরে বিহারীদের পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের ঘোষণায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিহারীরা।

মিরপুরের একটি বিহারি ক্যাম্পে।


১৯৭৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদনের পর পাকিস্তান সে সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আটকে পড়া পাকিস্তানিদের গ্রহণ করে। ১৯৯২ সালে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নিতে অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্সের (ওআইসি) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রাবিতা আলম আল ইসলামি একটি জরিপ পরিচালনা করে। যারা সে সময়ে পাকিস্তানে ফিরে যেতে চায় তাদের ফরম পূরণ করতে দেয়া হয়। তাদের সহযোগিতা করেছিল স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানি জেনারেল রিপার্টিশন কমিটি (এসপিজিআরসি)।

ওই সময় ৪০ হাজার ২০৮টি পরিবারের দুই লাখ ৩৭ হাজার ৪৪০ জন উর্দুভাষী পাকিস্তানে ফিরে যেতে ফরম পূরণ করেছিল। তখন ক্যাম্পে এক লাখ ২৬ হাজার ২৪৮ জন বসবাস করতেন। আর ক্যাম্পের বাইরে ছিলেন এক লাখ ১১ হাজার ১৯২ জন। তবে তাদের মধ্যে মাত্র ৩২৩ জনকে পাকিস্তান গ্রহণ করেছিল। এরপর থেকে আটকেপড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেয়া বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.