rockland bd

প্রথম কাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

0

প্রতিবেদক, রাশেদুল হাসান

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ক্রোয়েশিয়া। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে একটি করে গোল করেন ইভান পেরিসিচ ও মারিও মানজুকিচ। ফ্রি কিক থেকে ইংল্যান্ডের একমাত্র গোলটি করেন কিয়েরান ট্রিপিয়ের। ১৫ জুলাই ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া।

নক আউট পর্ব আর কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি শুট আউটে জয়। অনেকের মনে সন্দেহের দানা বাধতে শুরু করেছিলো এই ক্রোয়েশিয়া কি পারবে ইংল্যান্ড বাধা অতিক্রম করে ফাইনালে পৌছাতে? গত রাতেও কিন্তু অল্প একটুই বাকি ছিলো পেনাল্টি শুট আউটে যেতে। তবে এবার বোধ হয় সৃষ্টিকর্তার দয়ার দৃষ্টি পড়ল রাকিটিচ-মদ্রিচদের ওপর। নাহ, যেতে হয়নি পেনাল্টি পর্যন্ত। অতিরিক্ত সময়ের ১০৯ মিনিটেই এল সেই শুভক্ষন। আর এতেই ৬৬ বছর পর সেমিফাইনালে উঠা ইংল্যান্ডের ধরতে হল বাড়ির পথ।

জয় সূচক গোল দেয়ার পর মারিও মানজুকিচকে ঘিরে সতির্থদের উল্লাস।


অর্ধশত বছর আগে যে ইংল্যান্ড একবার ফাইনালে উঠেছিলো এবং জয় করেছিলো বিশ্বকাপ সেটা হয়তো অনেকেই ভুলতে বসেছিলেন। কিন্তু দেরীতে হলেও বিংশ শতাব্দিতে এসে জেগে উঠেছিল ইংলিশ তরুনরা। আশায় বুক বেধেছিলো কাপ নিয়ই বাড়ি ফিরবে। কিন্তু ৬৬ বছরের খরা কাটাতে পারলোনা ইংলিশরা, পারলোনা আরেকটু এগিয়ে কাপের ছোয়া পেতে।
১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৬৮ সালে ইউরোর সেমিফাইনালে উঠেছিল স্যার ববি মুর, জিওফ হার্স্টরা। কিন্তু সেবার যুগোস্লাভিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় ইংলিশদের।
১৯৯০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও উঠেছিল ইংল্যান্ড; কিন্তু সেবার পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে সেমিতেই শেষ হয় বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ১৯৯৬ ইউরোর সেমিফাইনালে ওঠার পর আবারও জার্মানির কাছে হেরে বিদায়।
২২ বছর বিরতি দিয়ে আবারও সেমিফাইনাল।
গতকাল শুরুটা কিন্তু ইংল্যান্ডই করেছিলো। শুধু যে গোল পেয়েছে তা নয়, খেলেছেও দারুন। দ্বিতীয় হাফে পৌছানোর আগ পর্যন্ত মনে হচ্ছি দিনটি যে ইংলিশদের। ৫ মিনিটেই গোল দিয়ে এগিয়ে যায় তারা। প্রথমার্ধে পাল্টাপাল্টি আক্রমনে বেশ জমে উঠে খেলা।
এরপরই যেন সবকিছু ওলট পালট করে দিল মদ্রিচ-রাকিটিচরা। দেরীতে হলেও ৬৮ মিনিটে সমতাসূচক গোল করে ক্রোয়েশিয়া। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
নাটকীয়তায় ভরা ছিল ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া সেমিফাইনালের শেষ দিকটা। নাটকের চিত্রনাট্যে জয় লেখা ছিল ক্রোয়েশিয়ার ভাগ্যেই। সুযোগের সদ্যবহার করে ১০৯ মিনিটে জয়সূচক গোল করে ক্রোয়েশিয়া। সেমিফাইনালের দেয়াল টপকে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ক্রোয়েটরা।
ফাইনালে ফ্রান্সকে হারাতে পারলেই ফুটবল বিশ্ব নতুন চ্যাম্পিয়ন পাবে। এসবতো গেল মাঠের হিসাব। মাঠের বাইরে যারা খেলা দেখতে গেছেন, তাদেরও নিশ্চয় ছুঁয়ে গেছে এসব জয়-পরাজয়ের অনুভূতি। কি রাস্তাঘাট কি মাঠ, ক্রোয়াটরা উল্লাস করেছেন সবখানে। আর ইংল্যান্ডের দর্শকদের মন খারাপ করে বাড়ি ফেরা ছাড়া উপায় ছিল না।

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.