rockland bd

ব্রীজ না থাকায় বর্ষা মৌসুমে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় ওদের

0

ইউসুফ আলী সুমন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) :

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত আত্রাই নদীর মহিষবাথান ঘাটে ব্রীজ নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে নদী ভরে গেলে প্রায় এক মাস বিদ্যালয়ের পাঠ থেকে বঞ্চিত হয় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী।

এ সময় নদীর পূর্ব পাড়ের ছেলে মেয়েদের জন্য স্কুল বন্ধ রাখা হয়। যুগযুগ ধরে এ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় ওই এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের। এলাকাবাসীর জোরালো দাবি নদীর এ ঘাটে ব্রীজ নির্মাণের। দীর্ঘদিনেও এ ব্রীজ নির্মাণ করা হয়নি। প্রতিনিয়ত যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যও। ব্রীজ না থাকায় কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নিতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। কয়েক মিনিটের পথ দীর্ঘ কয়েক মাইল ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় এবং বছরের অন্যান্য সময় টাকা দিয়ে সাঁকোয় চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীকে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ ভোগান্তি আরও বেশি।
এলাকাবাসী জানায়, খাদ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত উপজেলার মহিষবাথান হাট। ধান চাল বিক্রির ঐতিহ্যবাহী হাট বলেও পরিচিত মহিষবাথান। এখানে সরকারি খাদ্য গুদাম, সোনালী ব্যাংক, উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও ১৪-১৫টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) অফিস রয়েছে। তারপরেও আত্রাই নদীর মহিষবাথান ঘাটে ব্রীজ নির্মাণ হয়নি।
জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে প্রবল স্রোত ও পানির প্রবাহ বেশি থাকায় এখানকার অভিভাবকরা ঝুঁকি নিয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সাহস পান না। ফলে প্রতি বছর বর্ষাকালে প্রায় ১ মাস এনায়েতপুর ইউনিয়নের রোধইল, হোসেনপুর, কালনা, শেরপুরসহ ৬টি গ্রামের দেড় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী স্কুল যেতে পারে না। এতে প্রায় ১ মাস তাদের লেখাপড়া হয় না।
মহিষবাথান উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র ফরিদুল ইসলাম, সাগর দেবনাথ, ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী আইরিন, ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী জুঁই, রোকসানা ও আন্নি খাতুন জানান, বর্ষা মৌসুমে নদী ভরে গেলে নদীর পারাপার দূরত্ব বেড়ে যায়। সঠিক সময়ে নৌকা পাওয়া যায় না। ঘাটে নৌকার জন্য বসে থেকে দু-একটি ক্লাস পার হয়ে যায়। বর্ষার সময় ১ মাস আমরা স্কুলে যেতে পারি না। ভরা মৌসুমে নদীর পূর্ব পারের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কুল ছুটি ঘোষনা করেন কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা আরো জানান, আমরা নিয়মিত স্কুলে যেতে চাই। লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে চাই। আমাদের ভবিষ্যতের দিকে দেখে সরকার যেন দ্রুত সময়ে এখানে একটি ব্রীজ নির্মাণ করে।
প্রধান শিক্ষক তপন কুমার জানান, ‘মহিষবাথান ঘাটে ব্রীজ নির্মাণ খুবই জরুরী। এখানে ব্রীজ নির্মাণ এলাকাবাসীর প্রাণের দাবী। বর্ষা মৌসুম এলেই স্কুলের পঠাদান ব্যাহত হয়। নদীর ভরা মৌসুমে পূর্ব পারের দেড় শাতাধিক ছেলে-মেয়ে স্কুলে আসতে পারে না।’
হাতুড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবী করে আসছে এলাকাবাসী। বিভিন্ন সরকারের সময় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার এ দাবি তোলা হয়। তবে তাঁরা শুধু আশ্বাস দেন, সেতু আর হয় না।’
এনায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিঞা জানান, ‘বর্ষা মৌসুমে নদীর পূর্ব পারের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল করতে পারে না এটা জটিল সমস্যা। তাছাড়া এলাকার কৃষিপণ্য নিয়ে ঘাট পারাপারে এলাকাবাসীকে নানা দূর্ভোগ পোহাতে হয়। আমি স্থায়ীয় এমপি ছলিম উদ্দীন তরফদারকে মহিষবাথান ঘাটে ব্রীজ নির্মান করার কথা বলেছি।’
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহমুদ জানান, ‘দু’বছর পূর্বে মহিষবাথান ঘাটে ব্রীজ নির্মাণের আবেদন করা হয়েছে এখনো অনুমোদন পায়নি।’

রাশেদ/বিটু

Comments are closed.