rockland bd

আইন অমান্য করে কাউনিয়ায় বিকল্প শিশু খাদ্য বিক্রি হচ্ছে যত্রতত্র

0

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি (বাংলাটুডে) :
জেল জরিমানার বিধান থাকলেও রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় বিভিন্ন হাট-বাজারে মায়ের দুধের বিকল্প শিশু খাদ্য বা বিক্রি হচ্ছে পান দোকান থেকে শুরু করে ঔষধের দোকানগুলোতে।
শিশু খাদ্য বিক্রয়ের ব্যাপারে বিধান থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় আইনের কোন তোয়াক্কা না করেই কাউনিয়ায় বিভিন্ন দোকানে বিক্রয় হচ্ছে শিশু খাদ্য।
কাউনিয়া উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নে প্রায় ২শতাধিক ফার্মেসী ও গালামাল এমন কি পান দোকানে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে মায়ের দুধের বিকল্প শিশু খাদ্য। এরপরও বিষয়টি নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিষয়টির ওপর আরোপিত আইনি বিধিনিষেধ সম্পর্কে কোন ধারনা নেই দোকান মালিকদের। তাদের অবহিত করার ক্ষেত্রেও উদাসীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
২০১৩ সালের মায়ের দুধের বিকল্প শিশু খাদ্য বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর পরিপুরক (বাড়তি) খাদ্য ও তা ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ) আইনে বলা হয়েছে, মায়ের দুধ বিকল্প শিশু খাদ্য বা গুঁড়ো দুধ বিক্রিতে কোনো স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র বা ঔষধ বিক্রয় কেন্দ্রে, দোকানে ব্যবহার করা যাবে না।
এ আইন লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ০৩ বছরের কারাদন্ড বা ৫ লাখ টাকা অর্থ দন্ড বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। অথচ উপজেলার ৮০ শতাংশ ফার্মেসী ও বিভিন্ন দোকানে বিকল্প শিশু খাদ্য বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মায়ের দুধ শিশু খাদ্য বিপণন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান। ঐসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জানান, উপজেলার গ্রামে-গঞ্জের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রতিটি ফার্মেসী ও গালামালের দোকানে বিকল্প শিশু খাদ্য বিক্রি হচ্ছে। তাদের পর্যাবেক্ষণেও বিষয়টি লক্ষ করা গেছে। তবে এসব নিয়ন্ত্রণে আইনের প্রয়োগ করা হচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ আসিফ ফেরদৌস জানান, আমরা সব সময় শিশুর ৬মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়াতে বলি। বাহিরের খাবার দিলেই শিশু স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরে। আর যদি কারও বুকের দুধের সমস্য হয় সেই ক্ষেত্রে বিকল্প খাদ্যের কথা বলা হয় তবে তা হতে হবে মানসম্পন্ন। আমাদের বাজার মনিটরিং করার কোন সুযোগ নাই।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগ এর উপ-পরিচালক খন্দকার মোহাম্মদ নুরুল আমীন জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং সহ নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে। এ ক্ষেতে গ্রহকদেরও সচেতন হতে হবে।

আমিন/১১মার্চ/২০১৯

Comments are closed.