rockland bd

বাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় পাঁচজন মারা যায় কিডনি রোগে: করণীয় কী?

0


ডেস্ক প্রতিবেদন (বাংলাটুডে): বাংলাদেশে দুই কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় কিডনি বিকল পাঁচজন মানুষ মারা যাচ্ছে। রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব হলে ৬০ শতাংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব। গতকাল (শনিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সবার জন্য সুস্থ কিডনি : অর্জনে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এ তথ্য জানান।
আগামী ১৪ মার্চ বিশ্ব কিডনি দিবসকে সামনে রেখে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি’ (ক্যাম্পস) এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ জানান, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রোগী কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে বুঝতেই পারে না যে তিনি অসুস্থ। বাংলাদেশে কিডনি বিকল রোগীর ৯০ শতাংশই মারা যায় আংশিক অথবা সম্পূর্ণ বিনা চিকিৎসায়।
বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলম, বলেন, কেবল সময়মতো চিকিৎসা না করার কারণেই বাংলাদেশে আড়াই থেকে সাড়ে সাত শতাংশ কিডনি রোগী মারা যায়।
অধ্যাপক গোলাম মাইনুদ্দীন বলেন, শিশুদেরও কিডনি রোগ হয়ে থাকে। এমনকি জন্মের আগেও এ সংক্রান্ত জটিলতা হতে পারে এবং ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই এর চিকিৎসা করে ফেলা সম্ভব।
বিশিষ্ট কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ জানান, ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কিডনি রোগ প্রতিরোধযোগ্য। চিকিৎসাতে সুস্থ হয়ে যায়।
‘কিডনি চিকিৎসার ব্যয়ভার রাষ্ট্রের বহন করা উচিত’

এ প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী (যিনি নিজেই নিয়মিত ডায়ালাইসিস করে নিজের কিডনি সচল রাখছেন) রেডিও তেহরানকে বলেন, এ রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হবার কারণে এর ব্যয়ভার রাষ্ট্রকে বহন করা উচিত। যেমনটি করেছে ইরান সরকার। তাছাড়া, কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য বর্তমান প্রচলিত আইনকেও সহজ করা উচিত বলেও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গতকালের আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ কিডনি রোগ প্রতিরোধে কায়িক পরিশ্রম ও নিয়মিত ব্যায়াম করা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, সুপ্ত উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত পরীক্ষা করা ও নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
তাছাড়া, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান থেকে বিরত থাকা, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বিশেষ করে পেইন কিলার (ব্যথানাশক) ও অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করা এবং নিয়মিত কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞগণ। সূত্র: পার্সটুডে

এবিএস

Comments are closed.