rockland bd

লবণাক্ততা ও বিভিন্ন রোগের সংক্রমণে হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দরী গাছ

0

ইউএনবি প্রতিবেদন


বিনষ্ট হয়ে যাওয়া সুন্দরী গাছের ৫০ শতাংশ স্থান দখল করেছে গেওয়া ও গোড়ান নামক উদ্ভিদ।


সুন্দরবনের প্রান সুন্দরী গাছ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে। বাংলাদেশের সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে রয়েছে সুন্দরী গাছ। নদ-নদী ভরাট হওয়াসহ ফারাক্কা বাঁধের কারণে লোনা ও মিষ্টি পানি প্রবাহের একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় সম্মিলন না ঘটায় সুন্দরবনের প্রধান উদ্ভিদ সুন্দরী গাছে টপডাইং, গলরোগে আক্রান্ত হয়ে বিলুপ্ত হতে বসেছে।

গত ৩০ বছরে ১ দশমিক ৪৪ ঘন মিটার এলাকায় ধ্বংস হয়ে গেছে সুন্দরী গাছ। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।

জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার প্রভাবে সুন্দরী গাছ মরে যাচ্ছে। এছাড়া, পশুর গাছে হাটরট, ডাইব্যাক ও কেওড়া গাছে ব্যাপকহারে ডাইব্যাক রোগের সংক্রমণ হয়েছে এ কারনে।

বিনষ্ট হয়ে যাওয়া সুন্দরী গাছের ৫০ শতাংশ স্থান দখল করেছে গেওয়া ও গোড়ান নামক উদ্ভিদ।

সুন্দরবনে ঘুরলে দেখতে পাওয়া যায় হরিণের পাল ।


ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইট সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার। এরমধ্যে ৪ হাজার ১৪৩ বর্গ কিলোমিটার হলো স্থলভাগ। এই স্থলভাগে যেখানে ১৯০৩ সালের জরিপে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদরাজি বিদ্যমান ছিল, সেখানে ২০১৫ সালের সীলস প্রকল্পের সর্বশেষ জরিপে সুন্দরবনে উদ্ভিদরাজির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৮৪টিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যানগ্রোভ বন এমন একটি বিশেষ প্রাকৃতিক পরিবেশে সৃষ্টি হয়- যেখানে লোনা ও মিষ্টি পানি প্রবাহের একটি নির্দিষ্ট মাত্রার সম্মিলন ঘটে। লোনা ও মিঠা পানির এই মাত্রার হেরফের ঘটলে ম্যানগ্রোভ বনের ক্ষতি হয়। লোনা পানির আধিক্য সুন্দরী গাছের জন্য প্রাণঘাতী। দুর্ভাগ্যবশত সুন্দরবনে তাই হয়েছে।

সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া রোগের কারণগুলো হচ্ছে, মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে নদ-নদীতে পলি ভরাটে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা বাধাগ্রস্ত হয়ে মাটির পুষ্টিগুণ হ্রাস পাওয়া, গাছের ডগায়-শিকড়ে কীটপতঙ্গ ও ছত্রাকের আক্রমণ, জলাবদ্ধতা এবং নানাবিধ প্রাকৃতিক পরিবর্তন। সুপার সাইক্লোন সিডর ও আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও অনেক লম্বা সুন্দরী ও পশুর গাছ মারা গেছে।

সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন দেশি বিদেশি পর্যটকরা।


পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাতের মতে, ফারাক্কার কারণে উজান থেকে মিঠা পানির প্রবাহ না থাকায় নদ-নদীতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে সুন্দরবনে সুন্দরী গাছ মারা যাচ্ছে। এখানে সুন্দরী গাছের সংখ্যা ৮৫ কোটি ৬৭ লাখ। লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরী ও পশুর গাছ মারা যাওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।

সুন্দরবনে ২০০৭ সাল থেকে রোগাক্রান্ত আগামরা গাছ কাটা বন্ধ রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে সুন্দরবনের নদ-নদীতে লবণাক্ততা ৩০ পিপিএম পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে সুন্দরবনের উদ্ভিদরাজির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এই অবস্থা এখন আর বড় বড় সুন্দরী গাছ সুন্দরবনে দেখা যাচ্ছে না।

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.