rockland bd

পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0

ইউএনবি ও বিএসএস, ঢাকা


রাজধানীতে আজিমপুর ও মতিঝিলে সরকারি কর্মচারীদের নতুন চারটি ২০তলা ভবনের ৫৩২টি ফ্ল্যাট উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। শনিবার (৭ জুলাই) সকালে মতিঝিল কলোনিতে গিয়ে ভবনের ফলক উন্মোচন করেন তিনি। এসব ভবনে ৫৩২টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব ভবনে ৫৩২ জন কর্মচারী তাদের পরিবার নিয়ে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পরিকল্পনা রয়েছে শুধু ঢাকা শহরে নয় পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপ-জেলায় উন্নতমানের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, “আপনার করিডোর, আপনার লিফট, আপনার ঢোকার জায়গা- সব যাতে পরিষ্কার থাকে। এদিকে সবাইকে দৃষ্টি দেবার জন্য আমি বিশেষভাবে আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার কিছু অনুরোধ আছে আপনাদের কাছে। আপনারা জানেন, এক সময় এই ঢাকা শহরে প্রচণ্ড পানির অভাব ছিল, বিদ্যুতের অভাব, গ্যাসের অভাব।
“আমাদের এক সময় বলা হত অনেক গ্যাস। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, অতো গ্যাস নাই যে আমরা একেবারে পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস ব্যবহার করতে পারি। সেজন্য আমরা সিলিন্ডার গ্যাসের দিকে চলে যাচ্ছি, যাতে করে সবাই সীমিতভাবে ব্যবহার করতে পারেন। গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে এখন আমাদের। এটা হলো বাস্তবতা।”
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “অন্তত ঘর থেকে বের হবার সময় নিজের হাতে সুইচটা বন্ধ করে যেতে হবে। সেটা সরকারি অফিসে হোক বা বাড়িতে হোক; সকলকে এই বিষয়টা বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। আপনি সুইচটা বন্ধ করে রাখলে আপনার বিদ্যুৎ বিলটাও কম আসবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। কল ছেড়ে রেখে দিয়ে পানি পড়তেই থাকবে, পড়তেই থাকবে, পড়তেই থাকবে আর আপনি গায়ে সাবান মাখতেই থাকবেন, মাখতেই থাকবেন- তা যেন না হয়। আবার কেউ দাড়ি কাটতে শুরু করলেন… কল ছেড়ে।
“দাড়ি কাটছেন তো কাটছেন। না, এখানে মগ ব্যবহার করতে হবে, বালতি ব্যবহার করতে হবে, পানি রাখতে হবে, পানির কল বন্ধ রাখতে হবে।”
নিজে পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি নিজে এটা করি। আমি যখন গোসল করি, আমি কিন্তু বালতি পেতে পানি নিয়ে পানির কল… এতটুকু পানি যেন নষ্ট না হয়।
“পানির বিল আপনাকে দিতে হবে। বেশি অপচয় করলে বিল আপনাকেই দিতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে আমরা আপনাদেরগ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ করি। সুতরাং এসব ব্যবহারে আপনাদের আরো যত্নবান হওয়া উচিৎ।
তিনি বলেন, ‘রাজধানীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৯ হাজার ৭০২টি ফ্লাট নির্মাণ করার জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব ফ্লাট নির্মাণ করে আবাসন সমস্যার সমাধান করা হবে। শুধু সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা নয়, বেসরকারিভাবেও মানুষ যেন কিস্তিতে ফ্লাট নিতে পারে আমাদের সরকার সে ব্যবস্থা করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিকল্পনা ছিল সকল মানুষের জন্য গৃহনির্মাণ নিশ্চিত করা। তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আমরা তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছি। ইনশাল্লাহ আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব।’
অনুষ্ঠানে গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি দবিরুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.