rockland bd

কাউনিয়ায় টার্কি মুরগীর চাষ বেকার যুবকদের আলোর পথ দেখাচ্ছে

0

রোগবালাই কম এবং অল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় অনেক বেকার যুবক ঝুঁকছে টার্কি চাষে।

উপজেলা প্রতিনিধি, কাউনিয়া (বাংলাটুডে) : রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় বানিজ্যিকভাবে টার্কি মুরগী চাষ বেকার যুবকদের আলোর পথ দেখাচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলায় প্রায় অর্ধশত টার্কি মুরগীর খামার গড়ে উছেছে। রোগবালাই কম এবং অল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় অনেক বেকার যুবক ঝুঁকছে টার্কি চাষে।
কাউনিয়ায় বাড়িতেই শখের বসে টার্কি মুরগী লালন পালন শুরু করে কয়েকজন শৌখিন মানুষ।
জন্ম থেকে ৬ মাসের মধ্যেই টার্কি মুরগী ১৫ থেকে ২০ কেজি ওজন পর্যন্ত হয়। মাংসের দামও ভাল পাওয়া যায় এবং টার্কি মোড়গ দেখতে অনেকটা মযুর পাখির মতো। তাই দিনদিন টার্কি মুরগীর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শখ থেকে বানিজ্যিক ভাবে টার্কি মুরগীর খামার গড়ে উঠছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে। কাউনিয়া উপজেলায় ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধশত খামার গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে কুর্শা ইউনিয়নের শিবু, বড়–য়াহাট, সিংহেরকুড়া, বালাপাড়া ইউনিয়নের খোপাতী, আরাজি খোর্দ্দভুতছাড়া, সারাই ইউনিয়নের মাছহাড়ী, হারাগাছ পৌরসভায় এসব টার্কি মুরগীর খামার গড়ে ওঠছে।
সিংহের কুড়ার বাহাগীলি গ্রামে গড়ে ওঠা প্রবাসী নুরুজ্জামানের রাইজিং টার্কি ফার্ম এন্ড রেয়ারিং সেন্টারের ম্যানেজার আকতারুজ্জামান বলেন, তার খামরে ২৭০টি টার্কি মুরগী আছে। সে একদিনের বাচ্চা ১৭০ টাকা পিছ ক্রয় করে নিয়ে আসে। ৫ মাসে প্রতিটি বাচ্চা ১০ থেকে ১২ কেজি ওজন হয়েছে। মোড়গ টার্কির কেজি ৪শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অপর দিকে টার্কি মুরগী ৬ মাস বয়স থেকে ডিম দেয়া শুরু করে। প্রতিটি ডিম বিক্রয় হবে ৮০ থেকে ১শ’ টাকা দরে।
খামারের মালিক প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। সেখানে তার আয় হবে প্রায় ৪ লাখ টাকা। মুরগী খামারে ফিড, বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি খাওয়ান বাবাদ খরচ হয় প্রতিদিন ১ থেকে দেড় হাজার টাকা। সব ধরনের খরচ মিটানোর পরও লাভ হবে প্রায় দ্বিগুন।
অল্প সময়ে ও কম খরচে বেশী লাভ হওয়ায় অনেকে ঝুঁকছেন টার্কি মুরগী পালনে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মনজিৎ কুমার সরকার জানান, টার্কি চাষ এলাকায় ব্যাপক সারা জাগিয়েছে। এই মুরগীর রোগ-বালাই কম, আমাদের দেশের আবহাওার সাথে মানানসই।
ডাঃ ফেরদৌস হাসান জনি জানান, টার্কি মুরগী দেশী মুরগীর মতোই পালন করা যায়। এই মুরগীর কোলেস্টেরল এর মাত্রা ১% হওয়ায় সব ধরনের রোগীরা খেতে পারে। এর রোগ বালাই এর মধ্যে রানিক্ষেত ও মাইকোপ্লাজমা রোগ বেশী হয়। নিয়মিত রানীক্ষেত ভেকসিন নিলে এর থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বিভিন্ন কম্পানী তাদের অর্থনৈতিক ও কারিগরী সহায়তা প্রদানের ফলে কাউনিয়ায় অনেক যুবক এই মুরগী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। টার্কি চাষ করে অনেক বেকার যুবক স্বাবলম্বী হচ্ছে। টার্কি চাষ এলাকার বেকার যুবকদের আশার আলো দেখাচ্ছে।

সারওয়ার আলম মুকুল/আর এইচ

Comments are closed.