rockland bd

জীবননগরে ভিক্ষুকের তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি

0

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় ভিক্ষুকদের যে তালিকা করা হয়েছে তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তৈরিকৃত এ তালিকাকে অসম্পূর্ণ বলছেন জনপ্রতিনিধিরা। ভিক্ষাবৃত্তি দূরীকরণের জন্য ভিক্ষুক মুক্তকরণ, ভিক্ষুক কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। কনফারেন্সে জেলা পর্যায়ে ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রকৃত ভিক্ষুকদের তালিকা প্রণয়ন ও ১৪ নভেম্বরের মধ্যে ভিক্ষুক মুক্তকরণ এবং ১ ডিসেম্বরের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ খুলনা বিভাগকে ভিক্ষুক মুক্তকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ জন্য ভিক্ষুকের তালিকা প্রস্তুত, তাদের চাহিদা অনুযায়ী বাছাই এবং ভিক্ষুকের হাতকে একজন দক্ষ কর্মীর হাতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সব কিছু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর পর যদি কোন ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িত থাকেন তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা সংশোধনাগারে প্রেরণ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সংক্রান্তে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চুয়াডাঙ্গাকে ভিক্ষুকমুক্ত জেলা ঘোষণা করা হবে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মীদের প্রস্তুতকৃত তালিকা অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলাসহ চারটি উপজেলায় মোট ভিক্ষুকের সংখ্যা এক হাজার ২২১ জন। এ কাজ সফলভাবে শেষ করতে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে জেলা পরিষদ পর্যন্ত সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। ইতিমধ্যে গৃহহীন পরিবারের জন্য তিন হাজার নামের তালিকা প্রণয়ন করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জীবননগর উপজেলায় ২০১১ সালের জরিপ অনুযায়ী গ্রামের সংখ্যা ৮৩টি। বর্তমানে তা বেড়ে গ্রামের সংখ্যা হয়েছে ১০৫টি। এ উপজেলায় একটি পৌরসভা এবং নবগঠিত দু’টি ইউনিয়নসহ আটটি ইউনিয়নে মোট ভিক্ষুকের সংখ্যা দেখানো হয়েছে মাত্র ৫১ জন। এ সংখ্যায় উপজেলাবাসী হতবাক হলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুল হাফিজ অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ভিক্ষুকের সংখ্যা ৫১ জন এবং তা অত্যন্ত সঠিক। জীবননগর পৌরসভার প্যানেল মেয়র সোয়েব আহমেদ অঞ্জনের মতে সঠিকভাবে ভিক্ষুক জরিপ করা হলে নিয়মিত ভিক্ষুকের সংখ্যা কয়েক গুন বেড়ে যাবে। পৌর এলাকায় অর্ধশতাধিক ভিক্ষুক রয়েছে। উপজেলা থেকে যে জরিপ পাঠানো হয়েছে তা কোনোভাবেই সঠিক নয়। এ ধরনের জরিপ সরকারের ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হতে পারে। জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ অমল বলেন, ভিক্ষা দিতে দিতে আমরা শেষ হয়ে যাচ্ছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোন জরিপে ৫১ জন ভিক্ষুকের তালিকা দিয়েছেন তা আমার বোধগম্য নয়। সচেতন মহল এ ধরনের জরিপে হতাশ ও বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা মনগড়া জরিপের পরিবর্তে মাঠ পর্যায় গিয়ে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার আহবান জানিয়েছেন।

Leave A Reply