rockland bd

পরিত্যক্তা ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ

0

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর

শ্রেনীকক্ষে ঢোকার পর তাদের সবার চোখ চলে যায় ছাদের দিকে। নিরাপত্তার আশায় শিক্ষার্থীরা ছাদের ফাটল থেকে দুরে বসার চেষ্টা করেন। ক্লাশ শেষ হলেই দৌড়ে সবাই বের হয়ে আসে। আবার ক্লাশ শুরু হলে সবাই কক্ষে ক্লাশের জন্য প্রবেশ করেন। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা রহিমাপুর মুক্তিযোদ্ধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত দূশ্য। উপজেলা সদর মাত্র সাড়ে চার কিলোমিটার দুরেই বিদ্যালয়টির অবস্থান। শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে অন্য কোন শ্রেনী কক্ষ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্তা ভবনের কক্ষেই ক্লাশ করেন। তারা আরো জানায়, শ্রেণিকক্ষে ঢোকার পর সবার চোখ প্রথমে চলে যায় সেই বিম ও ছাদের দিকে, ক্লাস করেন আতঙ্ক। এছাড়া জীবনের ঝুকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন শিক্ষকেরা। শিক্ষাথীরাও ক্লাস করছে আতঙ্ক নিয়ে। এই দুরবস্থা তারাগঞ্জ উপজেলার উত্তর রহিমাপুর মুক্তিযুদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার জয় বাংলা হাটের পার্শ্বে ১৯৮২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৯০ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একটি পাকা একতলা ভবন নির্মান করে। ওই ভবনে তিনটি কক্ষ রয়েছে। কিন্তু নিম্নমানের কাজ হওয়ায় শুরু থেকেই ভবনটি দিয়ে বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়তে থাকে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ৩৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের ভবনটির তিনটি কক্ষ এতটাই জরাজীর্ণ যে মনে হয় এই বুঝি ছাদ ধসে পড়বে। এমন অবস্থার মধ্যে দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছে।
গত বছরের অক্টোবর মাসে বিদ্যালয়টির কক্ষের ছাদের পলেস্তার খসে পড়ে রেজাউল ইসলাম নামের দ্বিতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী আহত হয়। এ ঘটনার পর উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সরজমিন পরিদর্শনের পর ভবনটি পরিত্যক্তা ঘোষনা করেন এবং ওই ভবনে ক্লাস না করার জন্য শিক্ষকদের পরামর্শ দেন। কিন্তু আর কোনো শ্রেনিকক্ষ না থাকায় এবং নতুন কোনো ভবন নির্মান না করায় শ্রেনিকক্ষের অভাবেই শিক্ষকেরা এখনো ওই ঝুকিপূর্ণ ভবনেই শিক্ষাথীদের পাঠদান করছেন।
গতকাল সরজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের শ্রেনিকক্ষগুলোর ছাদ ও বিম থেকে পরেস্তর খসে পড়েছে। দেয়ালে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাটল। এরই মধ্যে শিক্ষকেরা পাঠদান করছেন।
বিদ্যালয়ের সহকরী শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ছাত্রছাত্রীর কথা কী বলব, আমাদেরই শ্রেণিকক্ষে বসতে ভয় লাগে। ঝড়বৃষ্টি এলে পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষাথীদের কক্ষ থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রধান শিক্ষিকা মৌসুমী বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী, ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের এই সদস্যাগুলোর কথা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজার রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি উপজেলায় যোগদান করার পর বিদ্যালয়টির বিষয়ে উদ্ধতর্ন কৃতিপক্ষের সাথে কথা বলেছি। মনে হয় ওই বিদ্যালয়ে খুবেই অল্প দিনের মধ্যেই ভবন পাওয়া যাবে।
প্রবীর কুমার কাঞ্চন/রাকিব

Comments are closed.