rockland bd

বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে রেলসেতু নির্মাণ করা হবে : রেলমন্ত্রী

0

রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী
মঙ্গলবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, মৃত প্রায় রেলকে বাঁচাতে ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর পৃথক রেল মন্ত্রণালয় গঠন করে বিগত সাত বছরে রেলের উন্নয়নে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন,‘ রেলওয়ে কারখানা বাংলাদেশে রেলওয়ের একটি বড় সম্পদ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা একটি বড় সম্পদ। এই কারখানায় ওয়াগান থেকে শুরু করে কোচ নির্মাণসহ রেলেওর যাবতীয় কাজ করার সক্ষমতা আছে এই কারখানায়।
রেল পথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এমপি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর তিন”শ গজ উত্তরে রেলের জন্য ডাবল লাইনের একটি সেতু নির্মাণ করা হবে। এই সেতু নির্মাণ হলে সারা দেশের সাথে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরো উন্নতি ঘটবে।’
রেল সাধারণ মানুষের আস্তার বাহন উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন,‘বর্হিবিশে^র বিভিন্ন দেশে সাধারণ মানুষের আস্তার বাহন রেল। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখে রেল। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের বাহন রেল। কিন্তু সেই রেলকে বিগত সরকার গুলো এই রেলকে আস্তার বাহন হিসেবে তৈরী করতে পারেনি। তবে ২০০৮ সালের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার পরিচলানার দায়িত্ব নিয়ে রেলকে জনগণের আস্তার বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চিন্তা মাথায় রেখে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে ২০১১সালে রেলের জন্য আলাদা রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করেন। দেশের প্রত্যেক জেলার নূতন নূতন রেলপথ তৈরী করে সারাদেশের রেল যোগাযোগর উন্নয়ন ঘঠানো হচ্ছে। রেলের উন্নতি ঘটাতে নূতন নূতন রেল ইঞ্জিন ও কোচ ক্রয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতো মধ্যে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জন্য ৪০টি লোকমোটিভ ক্রয়ের চুক্তি করা হয়েছে। ব্রডগ্রেজ লাইনে চলাচলের জন্য ৫০টি কোচ আমদানী করা হয়েছে। গত আড়াই মাস থেকে সেই সব কোচ আসা শুরু হয়েছে। আমরা যে কোন সময় রেলপথে ৪টি নতুন ট্রেন চালু করতে পারবো। এছাড়াও পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের জন্য ২০০টি মিটার গ্রেজ কোচ খুব শীঘ্রই আসবে।
তিনি বলেন, আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন হওয়ার পর থেকে সৈয়দপুর রেলওযে কারখানাকে আধুনিকায়ন করার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে সেই কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জনবল সংকট দূর করতে জনবল নিয়োগের পক্রিয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার পাশাপাশি এখানে ৪০ একর জমির ওপড় ভরতীয় রেলওয়ে সহযোগীতায় আরো একটি মিনি কারখানা তৈরী করা হবে। এই কারখানায় তৈরী হবে রেলের বগি।
এছাড়াও স্টেশন মাস্টার সংকটের কারণে দেশের শতাধিক রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ রয়েছে দ্রুত স্টেশন মাস্টার নিয়োগ দিয়ে বন্ধ থাকা এসব স্টেশন গুলোকে চালু করা হবে। আশা করি আগামী পাঁচ বছরে এই রেল বাংলাদেশের মানুষের কাছে আস্তার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।’
এসময় মন্ত্রী সাথে ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) শামসুজ্জামান, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহা ব্যবস্থাপক খন্দকার শহিদুল হক, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক মো. বেলাল হোসেন সরকার, জেলা প্রশাসক বেগম নাজিয়া শিরিন, পুলিম সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নীলপামারী পৌরসভা মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মো. জয়দুল ইসলাম, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আখতার হোসেন বাদল, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিনসহ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উর্ধতন কর্মকর্তাগণ। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সড়ক পথে নিজ নির্বাচনী এলাকা পঞ্চগড়ের উদ্যেশে রওনা দেন।

বিজয় চক্রবর্তী কাজল/আর এইচ

Comments are closed.