rockland bd

গাজীপুরে ৭৯ ভাগ কেন্দ্রই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’

0

গাজীপুর প্রতিবেদক:

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ৪২৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩৭টি কেন্দ্রকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই হিসাবে গাজীপুর সিটিতে গড়ে ৭৯ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিতে আছে। আর বাকি ৮৮টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসারের সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের নিজ নিজ ওয়ার্ডের সবগুলো কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
গাজীপুর পুলিশ (এসপি) সুপারের কার্যালয় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওই তালিকা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। বিএনপি’র পাশাপাশি ভোটারদের মধ্য থেকেও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি ওঠে। তবে বুধবার গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর পাঁচ বছরের ব্যবধানে গাজীপুরের নির্বাচনি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে। গত নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্রের ৬০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত ছিল। এবার গাজীপুরে আরও ১৯ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকির তালিকায় যুক্ত হলো। এবার প্রার্থীদের বাড়ির কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত কেন্দ্র, অতীতে যেসব ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা হয়েছিল, যেসব ভোটকেন্দ্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ এবং এলাকার গোয়েন্দা তথ্যসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনিক ভাষায় এসব কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র পাহারায় পুলিশ ও আনসারের ২৪ জন সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে ১২ জন অস্ত্রধারী ও বাকি ১২ জন লাঠিসহ অবস্থান করবেন।


গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রার্থীর বাড়ির কাছের কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ কয়েকটি দিক বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ও সাধারণ কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করেছি। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে।’তিনি আরও জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকারের নিজ নিজ ওয়ার্ডের সবগুলো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। জাহাঙ্গীর আলমের ৩০নং ওয়ার্ডের তিনটি কেন্দ্রে সাড়ে ছয় হাজার ভোটার রয়েছেন। এ ওয়ার্ডের কানাইয়ায় তার বাড়ি। আর তার বর্তমান বাসভবন ছয়দানার হারিকেন ফ্যাক্টরি সংলগ্ন। সেখানেই তিনি বাস করেন। তার বাসভবন সংলগ্ন ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অপরদিকে, হাসান সরকারের ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১০টি কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ৩৭ হাজার। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক এম এ মান্নান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানের ভোটকেন্দ্র দুটিও ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে।
এছাড়া কাশিমপুর এলাকার ১ থেকে ৩নং ওয়ার্ডের ২৪টি কেন্দ্রের সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ। ৪নং ওয়ার্ডের ৮টি কেন্দ্রের ৬টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২টি সাধারণ। সাধারণ কেন্দ্র দুটি সারদাগঞ্জ মেরি গোল্ড হাইস্কুলে অবস্থিত। ৫নং ওয়ার্ডের পাঁচটি কেন্দ্রের তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও দুটি সাধারণ। এ কেন্দ্র দুটি বাগবাড়ী হাক্কানিয়া সালেহীয়া আলিম মাদ্রাসায় অবস্থিত।
এছাড়া কাশিমপুরে অবস্থিত ৬নং ওয়ার্ড, কোনাবাড়ীর ১১নং ওয়ার্ড, বাসনের ১৩, ১৪ ও ১৬ নং ওয়ার্ড, সালনার ১৯, ২০, ২১ ও ২২নং ওয়ার্ড, জয়দেবপুরের ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩নং ওয়ার্ড, ৩৪, ৩৫ ও ৩৬নং ওয়ার্ড, গাছা এলাকার ৩৮ ও ৩৯ নং ওয়ার্ডের সবগুলো ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া টঙ্গীর ৪৩, ৪৬, ৪৯, ৫০, ৫৩নং ও ৫৪নং ওয়ার্ডের সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, ‘লেবেল প্লেইং ফিল্ড বলতে যা বুঝায় নির্বাচনে সেটি নিশ্চিত করা হবে। সেই নিশ্চয়তার নমুনা হিসেবে ৫৭টি কেন্দ্রের প্রত্যেকটিতে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টে থাকবেন, ১৯জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন এবং নির্বাচন কমিশনের ১৯জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আনসার থাকবেন ৭ হাজার, পুলিশ ৬ হাজার, র‌্যাব থাকবে ৬’শ, বিজিবি থাকবে ৭’শ। অর্থাৎ ১৫জনের একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে। ভোট নির্বিঘ্ন করার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে।’

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ এ

Comments are closed.